Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সফল নারীর বিরুদ্ধে পুরুষতন্ত্রের কেন এত ক্ষোভ

নারীকে নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ক্ষোভের শেষ নেই। নারী হওয়ার কারণে এ সমাজ সর্বদা নারীকে এতটা কলুষিত করতে চায় কেন? নারীকে কেনই বা পুরুষতন্ত্র শুধু ভোগ্য সামগ্রী হিসেবে দেখে! নারীর যোগ্য মূল্যায়ন কেন তারা করতে পারে না? একজন পুরুষের কাজের প্রতি এ সমাজ যতোটা বাহবা পোষণ করে নারীর ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই তির্যক হয়ে ওঠে!

চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিনকে নিয়ে নানাবিধ মন্তব্য করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে নতুনভাবে ঘটনাটি আবারও মানুষের দৃষ্টিতে আসলো একজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কটাক্ষের ভিত্তিতে! নারীর প্রতি এ সমাজের যে ক্ষোভ, ক্রোধ ও বিদ্বেষ তা প্রতিফলিত হয়। নারী হয়ে জন্মালে তাকে ঘরে থাকতে হবে। পুরুষের পদসেবা করতে করতে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হবে। নারীর নিজের বলে কিচ্ছু থাকবে না। না পরিচয় না ঘর-বাড়ি-সম্পত্তি। সবই থাকবে পুরুষের। আর নারী হবে তার আজ্ঞাবহ দাস। তবে কেন আজ নারীরা এতটা সাফল্য অর্জন করবে!

একশ্রেণির কদর্য ও হীন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নারীর সাফল্যে উচ্ছ্বাসের বদলে জ্বলন অনুভব করেন। নারী শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনলে তাদের পেটের ভাত হজমই হতে চায় না। তারা চায় না নারী কোনভাবে মাথা তুলে দাঁড়াক। নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলুক। এমনকি ভালো চাকরি করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করুক। আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করুক। এসবই তাই পুরুষতন্ত্রের গায়ের কাঁটা। নারী যখন লড়াই করে টিকে থাকার তখন তাকে থামানোর জন্য বেফাঁস- কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তাকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর চেষ্টা করেন। নারীকে বোঝাতে চান তোমার যোগ্য স্থান ঘরে! এই হাস্যকর এবং অযৌক্তিক কথাবার্তা, আলোচনা-সমালোচনা করে নারীকে অবরুদ্ধ করতে চায়। যার ফলে এ ধরনের কদর্য মন্তব্য নারীর প্রতি ছুঁড়ে দেওয়া হয়।

শনিবার এক সভায় ডিএনসিসির চিফ হিট অফিসার সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলামের কদর্য মন্তব্য নারীর প্রতি অসম্মান। তিনি কোনো একক নারীকে অসম্মান করেননি। করেছেন বুশরার মতো সব নারীকে। আমাদের সমাজ সর্বদা অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়ভাবে এগিয়ে চলে। অর্থাৎ ছোট শিশু থেকল শুরু মোটামুটি সব মানুষই কমবেশি সমাজ দ্বারা প্রভাবিত। সমাজের প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। সেখানে মির্জা ফখরুলের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিভাবে তার মেয়ের বয়সী একজন নারীকে নিয়ে এমন বিভৎস মন্তব্য করে?

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের মূল্যায়ন করা, সম্মান দিয়ে কথা বলা কী এতটাই কষ্ট? আমরা জানি, ‘বন্দুকের গুলি আর মুখের বুলি’ দুটোই খুব বিপজ্জনক। দুটোই একবার যখন বেরিয়ে যায় তা হয় জীবন নেবে নাহলে সম্মান-সম্পর্ক শেষ করবে। কিন্তু আমাদের এ সমাজের অধিকাংশ মানুষ কথা বলার আগে কখনই ভাবেন না তিনি কী বলছেন, কেন বলছেন!

নারীর প্রতি এই আক্রোশ উগ্রে দেওয়ার মানে নেই৷ এর মাধ্যমে নিজের নৈতিকতা, বিবেক প্রশ্নবিদ্ধ। সম্মান অর্জন করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের এসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাঘববোয়ালরা এমন ভাষ্য দেন মাঝে মাঝে যা তাকেই হাসির খোরাকে পরিণত করে। অসম্মানিত করে। তিনি নারীকে নিয়ে এভাবে মন্তব্য করতে পারেন না। তার এই মন্তব্যের জন্য তাকে নারীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিত।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ