Skip to content

২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ ও কিছু কথা

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। এর আগে নারীদের উন্নয়নে এমনভাবে কেউই এগিয়ে আসেনি। নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তাই নারীরা তাদের ধৈর্য ও মনোবলের ফলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আর নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্নভাবে তাদের কাজে নিযুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও শান্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। এ সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নারীর ক্ষমতায়ন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

৯ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউএন ওমেন- এর যৌথ আয়োজনে “মাল্টি- স্টেকহোল্ডার্স কনসাল্টেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন রিভিউ ওয়ার্কশপ ওন বাংলাদেশ ন্যাশন্যাল প্লান অন ওমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্ব এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি উগ্রবাদ, বাল্যবিবাহ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সামাজিক সম্পৃক্ততার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীর কার্যকর ভূমিকার বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার জন্য কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

আমাদের সমাজে নারীদের নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। কিন্তু সমস্যা কিছুটা হলেও কমতে পারে যখন রাষ্ট্র এর দায় গ্রহণ করে। অর্থাৎ নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে প্রশংসার। তবে তার উপর্যুপরি বাস্তবায়ন জরুরি। যদি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় তবে অনেকাংশে সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মিলবে। উগ্রবাদ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারীদের ভূমিকা এজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, তারা সচেতন হলে অন্তত এই সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারবে। প্রশাসনের সহোযোগিতা গ্রহণও করতে পারবেন। শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী চরমভাবে অবহেলিত। তবে এই অন্যায় নিপীড়ন তখনই কমে আসবে যখন নারী নিজেকে মূল্যায়ন করবে। দেশের জন্য, দশের জন্য নিজেকে সম্মানিত করতে সচেষ্ট হবেন। নারীর গড়ে ওঠা, বেড়ে ওঠাতে তাই সবার সহোযোগিতা কাম্য। তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বস্তরের নারীদের নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে হবে৷ সরকার এবং নারীরা যখন একসঙ্গে নিজেদের উন্নয়নের পথে সঠিকভাবে হাঁটতে শিখবে তখনই সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ