Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারীর করণীয়

মনে রাখতে হবে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। ফলে যেভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তাই এখনই সচেতন নাহলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যদি প্রত্যেকেই সচেতন হয় তবে হয়তো কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে। তবে নারীরা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হলে পরিবারের সদস্যের খানিক নিরাপদ রাখতে পারবেন। সেজন্য পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে নারীদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবার ডেঙ্গু গত বছরের চেয়েও প্রকট হবে৷ মৌসুমের শুরুতেই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বেড়েছে। এছাড়া জুন-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে জলাবদ্ধতা একটা প্রধান সমস্যা। আমরা জানি, এডিস মশার লার্ভা থেকেই ডেঙ্গু ছড়ায়। ডেঙ্গু সাধারণত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। স্ত্রী এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। এ ভাইরাসে সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু জীবাণু মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এই রোগ ছোঁয়াচে না হলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কাউকে মশা কামড়ানোর ফলে সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালেও তার মধ্যে রোগটি সংক্রমিত হবে। এ ছাড়া সংক্রমিত মশার সংস্পর্শে আসা সব বয়সের মানুষই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

সাধারণত এডিস মশা স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে এবং বংশ বিস্তার করে। তাই খেয়াল রাখতে হবে বাড়ির আশেপাশে বা বাড়ির আঙ্গিনায় কোথাও যেন পানি জমে না থাকে। নারীরা যেহেতু ঘরকন্নার কাজে পটু এবং এদিকটাতে তাদের উদ্যোগই বেশি তাই ফুলের টব, খালি বালত, মগ, কোথাও দীর্ঘদিন পানি জমে আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। যদি এডিস মশা বিস্তারের এমন উৎস পাওয়া যায় তবে তা দ্রুত ধ্বংস করতে হবে।

এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে নজরে রাখতে হবে। সেইসঙ্গে মশা যাতে আক্রান্ত না করতে পারে এর উপর্যুপরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাতে মশা যাতে কামড়াতে না পারে সেজন্য মশারি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া দিনেও যেন কামড় না দিতে পারে সেজন্য মশার স্প্রে, মশা নাশক ক্রিম ও লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় ঘরে বাতাস যাতায়াতের সঠিক ব্যবস্থা রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে। এজন্য এখন অনেক বাড়িতে মশারির মতো ছোট জাল বা নেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জানালায় এ ধরনের ব্যবস্থা করলে অনেকটা নিরাপদে থাকা সম্ভব। যেহেতু এডিস মশা গোধূলিলগ্নেই বেশি কামড়ায় তাই দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামের আগেই ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখা উচিত। পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করলে এর ভয়াবহতা থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকা সম্ভব।

তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অতীব জরুরি। বাড়ির আশেপাশে স্বচ্ছ পানি জমে থাকলে সেখানে মশার লার্ভা সৃষ্টি হয়। এবং এডিস মশা রোধ করতে এর বংশবিস্তার আটকাতে হবে। নারীরা যেহেতু তার পরিবার-পরিজন সবারই খেয়াল রাখেন এবং ঘরের কোথায় কী আছে না আছে সেসব সহজেই নজরে রাখেন সেক্ষেত্রে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে নারীদের সচেতন হওয়া আবশ্যক।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ