Skip to content

১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চীনের জনসংখ্যা-নীতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

সম্প্রতি একটি প্রতিবদনে জানা যায়, চীনের সিচুয়ান প্রদেশ সন্তান জন্মদানের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে। চীনা দম্পতি ও অবিবাহিতরাও এখন যত ইচ্ছা সন্তান নিতে পারবেন। চীনা সরকারের এমন নীতিমালা নির্ধারণের কারণ, সিচুয়ান প্রদেশে গত বছর মৃত্যু হার ছিল জন্মহারের চেয়ে বেশি। চীনা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

১৯৭৯ সাল থেকে চীনে এক সন্তান নীতি প্রবর্তিত ছিল। নিয়ম ভঙ্গ করা পরিবারকে গুনতে হয়েছে জরিমানা, আবার চাকরি হারিয়েছেন অনেক নারী। ২০১৬ সালে বিতর্কিত ‘এক সন্তাননীতি’ বাতিল করে চীন সরকার। করোনাজনিত মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় মৃত্যুহারের তুলনায় কমেছে জন্মহার। তাই জনসংখ্যা বাড়াতেই সরকারের এবার নতুন উদ্যোগ নিলো।

কিন্তু চীনা সরকারের অনুসরণে বাংলাদেশেও যেন এরকম নীতি নির্ধারণ না হয়, তাই প্রত্যাশা। বাংলাদেশে বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনার নীতিনির্ধারণী হচ্ছে, ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’। কিন্তু চীনা সরকারের অনুসরণে যত ইচ্ছা তত সন্তান নেওয়ার নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে দেশের জন্য তা হিতে বিপরীতই হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটি। আমাদের আর্থিক সামর্থ্যের তুলনায় এই জনসংখ্যা অধিকই বটে।

অধিক জনসংখ্যা কোনো দেশের জন্যই কল্যাণকর নয়। আর মধ্যম আয়ের দেশের জন্য তো অভিশাপস্বরূপ। বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশে বেকারত্বের হার বাড়ার কারণও অধিক জনসংখ্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাকরিতে পদ বাড়ছে না। এতে বেকার সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে মাথাপিছু আয় কমে। ফলে বেকারত্ব ও মাথাপিছু নিম্ন আয়ের কারণে সামাজিক অস্থিতিশীলতা দেখা যায়।

তাদের মনে রাখতে হবে, অন্যের দেখাদেখি অধিক সন্তান গর্ভধারণ করে নিজের ও জাতির জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনা যাবে না। কেউ যদি নিজেই দুর্ভোগ ডেকে আনে, তার পরিণতি ভয়াবহ হতে বাধ্য।

জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভব হয় না খাদ্য উৎপাদন। আর দেখা দেয় খাদ্যাভাব, বৃদ্ধি পায় অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুর মৃত্যু। অতিজনসংখ্যার চাপে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি মারাত্মক ভাবে ব্যহত হয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান অনুকূল তা ব্যাহত হয়। যেমন, মূলধনী দ্রব্যের জোগান হ্রাস পায়, সম্পদের মাত্রা অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে সম্পদ সঞ্চয় কমে যায়, বিদেশি ঋনের পরিমান বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণও কিন্তু বর্ধিত জনসংখ্যা। পানিদূষণ, শব্দদূষণ, পাহাড়কাটা, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট; ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় ।

এছাড়া অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্ন, জীবনযাত্রার মান হ্রাস এবং বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা দেখা দেয়। সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

বাংলাদেশেদর প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই এখনো শিক্ষার আলো থেকে অনেকটাই দূরে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনার অনেক বিষয়ের সঙ্গেই তারা পরিচিত নন। আর এ কারণেই দেশের জনসংখ্যার হার উর্ধ্বমুখী। আর এর সঙ্গে যদি চীনা সরকারের ‘যত ইচ্ছা তত সন্তান’ নীতি চালু হয়, তাহলে দেশ অচিরেই রসাতলে যাবে।

বিষয়টি বিশেষ করে বাংলাদেশের নারীদের মনে রাখতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে, অন্যের দেখাদেখি অধিক সন্তান গর্ভধারণ করে নিজের ও জাতির জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনা যাবে না। কেউ যদি নিজেই দুর্ভোগ ডেকে আনে, তার পরিণতি ভয়াবহ হতে বাধ্য। অতএব আমাদের নারীদের সবার আগে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ