Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রেমের নামে নারীরা কেন ভুল করে

সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন না ঘটলেও মানুষের মধ্যে এখন কিছু ক্ষেত্রে বেশ পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষত প্রেম সম্বন্ধনীয় ধ্যান- ধারণায়। এখকার যুগে ছেলে-মেয়েদের কাছে প্রেমে পড়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। শুধু মনের লেনদেনের মধ্যেই প্রেম সীমাবদ্ধ থাকছে না। একে অন্যের প্রতি অতি আবেগে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়ছে বেশিরভাগই। কিন্তু প্রেমে পড়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া কতটা নিরাপদ? মেয়েরা কেন জীবনের প্রতি এতটুকুও সচেতন নয়?

সমাজ বাস্তবতার দিকে লক্ষ করলে সহজেই অনুধাবনযোগ্য বর্তমান সময়ে নারীরা প্রেমে পড়ে অহরহ শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। পরবর্তীকালে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জীবনে। সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি, টানাপড়েন নিয়ে একপক্ষ অন্যপক্ষকে ব্ল্যাকমেইলিং করছে। ফলে জীবন হয়ে উঠছে নেতিবাচক। তবে মেয়েরা প্রেমে পড়ছে এবং শারীরিক সম্পর্কে আবদ্ধ হচ্ছে কিসের তাগিদে? বিয়ের জন্য? কিন্তু কয়জনই বা একে অন্যের সঙ্গে দাম্পত্যজীবনে আবদ্ধ হচ্ছে? প্রেম ও দৈহিক মিলন ঘটলেই কি বিয়ে জরুরি? প্রশ্নগুলো একে অন্যটির সঙ্গে খানিকটা সাংঘর্ষিক। কিন্তু মেয়েদের এমন মেলামেশার ফলে একসময় তাদেরই বিপদে পড়তে হচ্ছে। তাহলে নারীরা কেন সচেতন হচ্ছে না?

প্রেম বা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের নিশ্চয়তা বিধান করতে চায় মেয়েরা? সেক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কই কেন বিয়ের টিকিট হবে? আর কেনোই বা মেয়েরা এই সম্পর্কের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করে? সত্যিকার অর্থে এগুলো নারীদের এক ধরনের বোকামি। কোন পথে পা বাড়াচ্ছে, তা না বুঝেই নিজের সর্বস্ব দান করছে। আবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে বলেই প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসছে। তাহলে মেয়েদের আত্মসম্মান, মর্যাদাবোধ নেই! না কি প্রেমের নামে নিলামে তুলছে ব্যক্তিত্ব, নিজেকে; সর্বোপরি জীবনও?

প্রেমের সঙ্গে শরীরকে জড়িয়ে নিয়েই সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া কতটা সঙ্গত? নাকি বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রেম বলতেই দাম্পত্য সম্পর্কে গড়ায়? পরস্পরের প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মতো চাওয়া পাওয়া তৈরি হয়! যা কোনোভাবেই মেয়েদের জন্য কল্যাণকর নয়। মেয়েরা প্রেম কেন করে? সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করলে আদৌ সম্পর্কে সে পর্যন্ত গড়াবে কি না, নিশ্চিত নয় কেউই। দুজনে সর্বোচ্চ নিশ্চিত থাকলেও যেকোনো কারণে সমস্যা ঘটতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হচ্ছে নিজেদের বিবেককে কাজে লাগানো। ভালো-মন্দ বোধ থাকতে হবে। ভুল করে ফাঁদে আটকে গেলে তা সারাজীবনের দুঃখ হয়ে দেখা দিতে পারে। সম্মানহানি, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। মেয়েদের সচেতন হতে হবে।

মেয়েরা যদি প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় বিয়ের উদ্দেশ্যে, তবে যেই নারীরা দাম্পত্য সম্পর্ক বহির্ভূত সম্পর্ক করে, তারা কিসের আশায় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে? সেখানে বিয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে না। তাহলে কি শুধু শরীর বা মনের চাহিদা মেটাতেই মেয়েরা সম্পর্কে জড়াচ্ছে? তবে যে কারণেই নারীরা এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ুক না কেন নিজেদের ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে ভাবা অবশ্যই প্রয়োজন। ভুল করে জীবনকে ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড় করানো বোকামি। তাই প্রেমের নামে দৈহিক মিলনে মেয়েদের সচেতন হতে হবে। আবেগের বশে ভুল করে ফেললে তা সারা জীবনের কান্না হয়ে দেখা দিতে পারে। প্রেমকে হাতিয়ার করে এক শ্রেণির কুচক্রী মহল নারীদের সরলতায় সুযোগ গ্রহণ করে। সে ব্যাপারেও নারীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। স্বাভাবিকতার বাইরে সম্পর্ক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নারীরা সচেতন হোক তাদের জীবনযাপন, ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদায়।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ