Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মহাশূন্যের পথিক কল্পনা চাওলা

কল্পনা চাওলা

১৯৯৭ সালটি ভারতীয়দের মনে রাখার মতোই বছর। সে বছর নাসার তত্ত্বাবধানে STS-87 এ একটি মহাকাশযান যাত্রা করে। আর এই অভিযানের মাধ্যমেই ভারত সর্বপ্রথম মহাকাশ জয়ের স্বাদ পায়। প্রথম ভারতীয় হিসেবে সর্বপ্রথম মহাকাশে পাড়ি দেন কল্পনা চাওলা। এই সফল অভিযানের পরই সমগ্র বিশ্বে ভারত যেন নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে আবার। তবে কল্পনা চাওয়া যেমন গল্পের প্রধান চরিত্রের মতোই ভারতীয়দের মনে স্থান গেড়ে নিয়েছিলেন তেমনই তার মৃত্যুতেও শোকাচ্ছন্ন হয়েছিলো ভারত।

১৯৬২ সালে হরিয়ানার কর্নেলে জন্ম কল্পনার। চার ভাই বোনের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ কল্পনা সবসময় বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠছিলেন। মজার ব্যাপার হলো স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত কল্পনার আনুষ্ঠানিক নামকরণ হয়নি। বাবা-মা আদর করে মন্টু বলে ডাকতেন। লেখাপড়া শুরু করার আগে নিজের ইচ্ছাতেই ‘কল্পনা’ নামটি রাখেন। এমনিতে নিজেকে কে সি বলেই পরিচিত করেন তিনি।

সহপাঠীদের সঙ্গে কল্পনা চাওলা

কিন্তু মহাশূণ্যের যাত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কাজ করলো কবে থেকে? মাত্র তিন বছর বয়সে একবার আকাশে প্লেন উড়তে দেখলেন। প্লেন দেখে মুগ্ধ কল্পনা স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবে বাবার সাথে যাতায়াত শুরু করেন। স্কুলে থাকাকালীন সময়েই তিনি এভিয়েশনের প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করেন। কারনালে ট্যাগোর বাল নিকেতন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে পড়ালেখা করছিলেন চাওলা।

বড় হয়েও নিজের শৈশবের আকাঙ্ক্ষা বাদ দেননি। পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। অবশ্য এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার সময় প্রফেসররা কল্পনাকে মানা করেন। এই ক্যারিয়ারে মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত হওয়া বেশ কঠিন। তবে এসব শুনে কল্পনা হার মানতে রাজি হননি। ১৯৮০ সালে লেখাপড়া শেষ করেই তিনি আমেরিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৮ সালে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডক্টরেট সম্পন্ন করেন।

১৯৮০ সালে লেখাপড়া শেষ করেই তিনি আমেরিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান

ডক্টরেট সম্পন্ন করেই চাওলা চাকরি পেয়ে গেলেন। তবে নিজের স্বপ্নের চাকরীই বলা যায়। নাসাতে এমস রিসার্চ সেন্টারে তিনি পাওয়ার্ড লিফট কম্পিউট্যাশনাল ফ্লুইড ডাইনামিক্সে কাজ করতে শুরু করেন। মূলত উড়ার সময় মহাকাশযানে কিভাবে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে তা কম্পিউটার কিভাবে দেখবে তা নিয়ে কাজ করতেন।

১৯৯৪ সালেই কল্পনা এস্ট্রোনট হিসেবে মনোনীত হন। কয়েক বছর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি এস্ট্রোনট অফিসের ক্রু রিপ্রেজেন্টিভ নির্বাচিত হন। সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালে তিনি মহাকাশে যাত্রা করেন। সফল এই অভিযানের পর আবার নতুন যাত্রার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালে কল্পনা চাওলা মহাকাশে যাত্রা করেন

তবে ২০০৩ সালের সেই যাত্রাটি ঠিক সুখকর হয়নি। পৃথিবীতে ফেরার সময় বায়ুমণ্ডলের সাথে সংঘর্ষে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সেই কলম্বিয়া মহাকাশযান। এটি ছিলো মহাকাশযানের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনার পর অন্তত দু বছর নাসা আর কোনো অভিযান প্রেরণ করেনি। উৎক্ষেপণের মাত্র সাত সেকেন্ডের মাঝেই এই দুর্ঘটনা সোজাসাপ্টা না।

সে যাই হোক। কল্পনার এই সাফল্য ভারতীয় নারীদের এক নতুন দিগন্তের খোঁজ দেয়। ভারতীয় মেয়েদের শিক্ষা বিস্তার নিয়ে কল্পনার আগ্রহ ছিলো প্রচুর। তা নিয়ে কাজও করেছেন।

অনন্যা/এআই