Skip to content

১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিমির অবগুণ্ঠন ছিঁড়ে জাগতে হবে নারীকেই

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?

ফররুখ আহমদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতেই হয় নারীরা জীবনে আসমান ভরা মেঘমুক্ত আকাশ কবে পাবে? কে আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে তাদের মুক্তির পথ দেখাবে? নারীরা কবে সর্বত্র জীবনযুদ্ধে জয়ী হবে? যে নারী আজও সমাজের কাছে অস্পৃশ্য তাদের মুক্তিবার্তা কবে কে শুনিয়ে যাবে? এই প্রশ্নগুলো মনের গহীনে জেগে উঠলেও এটাই সত্যি নারীকে পথ দেখানোর কেউ নেই। মূলত পথ পথিক সৃষ্টি করে। প্রত্যেক নারীকে সেই পথের পথিক হতে হবে।

কারও আশায় বসে থাকলে নারী জীবনের তিমির অবগুণ্ঠন কোনদিন ঘুচবে না। তবে নারীকে হতে হবে প্রাগ্রসর মনের অধিকারী। নারীরা যদি নিজেরাই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং পরচর্চাকারী হয় তবে নারী সমাজ আরও তলিয়ে যাবে। সমাজের চর্তুদিকে নারীর জন্য কাঁটা বিছানো। মাছকে যেমন টোপ দিয়ে বর্শিতে তোলা হয় সমাজের সর্বত্র নারীর জন্য রয়েছে অসংখ্য ফাঁদ। একটু বেকায়দা হলেই কখন যে নারীরা সেই বর্শির অসহায় মাছে পরিণত হবে সে নিজেও বুঝে উঠতে পারবে না। তাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীকে যেমন সর্বত্র কাজের প্রমাণ দিতে হয় তেমনই নারীর দৃষ্টি থাকবে উচ্চকিত। ধরতে চায়লেই যেন সহজে নারীরা ফাঁদে গেঁথে না যায় সেদিকে নারীকেই সুনজর রাখতে হবে।

গণপরিবহন, অফিস- আদালত, রাস্তায় চলাচল, স্কুল বা কর্মক্ষেত্র সবখানেই নারীর যাতায়াত। নারীরা নিজেরাও একবাক্য স্বীকার করবেন সমাজে এর একটি জায়গাতেও নারী তার প্রাপ্য সম্মান পান না। এক্ষেত্রে যদি নারীর প্রতিদ্বন্দ্বী হয় নারীরাই তবে সেখানে আরও বিপত্তি। দুজন নারীর মধ্যে দুজনের একই আচারণ পরিলক্ষিত হলে এক্ষেত্রে সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি নেতিয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেশি সুবিধাপ্রার্থী হয়ে যদি নারীর প্রতিদ্বন্দ্বী নারী হয় তবে তো সেখানে নিশ্চিত বিপর্যয়।

নারী জীবনের প্রতিবন্ধকতা রুখে দিতে নারীকে সৃষ্টি করতে হবে নিজের দেওয়াল। নারী অবশ্যই তার কাজটি করবেন সঠিকভাবে কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তার মনের দেওয়াল ভেদ করে যেন অন্ধকার ছড়িয়ে দিতে না পারে। এই গহীন অন্ধকার নারীকে চাপে রাখার জন্য সৃষ্টি করেছে সমাজ। যাতে নারী পিছিয়ে পড়ে ধাপে ধাপে। তবে এখনকার নারীরা সজাগ অনেকটাই। এই নারীদের আরও নিজেদের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। লক্ষ ঠিক রেখে পথে হাঁটলে একসময় পথের জঞ্জাল এমনই দূর হবে। তার জন্য ভয়ে সিঁটিয়ে থাকলে নারী মুক্তি ঘটবে না। তাই নারীর প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নারীকেই আগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

শৈশব থেকে কন্যা সন্তান হয়ে জন্মানোর অভিশাপস্বরূপ প্রতিনিয়ত সমাজে নারীকে হেয় করা হয়। নারীরা যদি একত্রে নিজেদের অধিকারের পথে লড়াই করে তবেই সমাজে একদিন তাদের জায়গা নিশ্চিত হবে। স্কুল- কলেজ, বিশ্বিবদ্যালয়, পরিবারে- সমাজে সর্বদা নারীকে শুধু একজন নারী বলেই তাকে সবকাজে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। কাজে অংশগ্রহণের আগেই তার প্রতি তীব্র বিরূপ মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়া হয়। প্রাচীনকাল থেকে তো নারীরা ঘরেই আবদ্ধ ছিল। আজকাল বাইরে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। নারীরা তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তবে কেন অগ্রগামী নারীদের পিছিয়ে দিতে এত আয়োজন?

যত নারীরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে চায় সমাজের চাপ তত বেশি ঘিরে ধরে। তবু নারী জাতিকে তো হার মানলে চলবে না। নারীর মেধা, যোগ্যতা যেমন আছে তেমনই একসঙ্গে নারীরা অধিক ধৈর্য্য ও সহনশীলতার অধিকারী। নারীরা মায়ের জাত। মায়ের জাত কখনও হারতে জানে না৷ কঠিন লড়াই করে টিকে থাকা তাদের স্বভাবজাত। তাই সমাজের তির্যক মন্তব্য গায়ে না মেখে নারীকেই তিমির অবগুণ্ঠন ভেদ করে ছড়িয়ে দিতে হবে আলো।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ