Skip to content

২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিয়ের আগের প্রেম বিয়ের পর কোথায় যায়?

সংসার মানে সোনার কাঁকনে জীবনের রঙ লাগা,
সংসার মানে রক্তে মাংসে সারারাত্রির জাগা।
সংসার মানে অনাগত শিশু, পুতুলে সাজানো ঘর,
সংসার মানে মনোহর নেশা, ঈশানে বিষাণে ঝড়।
সংসার মানে ব্যর্থ বাসনা, বেদনার জলাভূমি,
সংসার মানে সংসার ভাঙা, সংসার মানে তুমি।
নির্মলেন্দু গুণ

‘সংসার’ একটি বহুল পরিচিত শব্দ। একজন মেয়ে বা ছেলে সাবালক বা সাবালিকা হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সংসার সম্পর্কে একটি ধারণা পেয়ে যায়। আবার বিভিন্ন শব্দযোগেও এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই যেমন, জগৎ সংসার, জীবন সংসার, ঘর সংসার ইত্যাদি।
কিন্তু মানুষ স্বভাবত সংসার বলতে যা বোঝে তা হলো একজন পুরুষ ও একজন নারী পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়ে যখন একই ছাদের নিচে বাস করে তখন তাদের এই মিলনের নামই সংসার। যেখানে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা থাকবে।
এককথায় সংসার মানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। ধনী, গরীব, অন্ধ, বিকলাঙ্গ, যোগ্য, অযোগ্য সবাই সংসার করে। অর্থাৎ সংসারী অনেকেই হয়। কিন্তু সুখী হয় কজন? এটাই সবচেয়ে জটিল বিষয়। যারা সুখী হয় না, তারা কেন সুখী হয় না ? স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নীতিভ্রষ্ট অর্থাৎ চরিত্রহীন। স্বামী নিজের স্ত্রীতে সন্তুষ্ট নয় পক্ষান্তরে স্ত্রীও স্বামী নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। দুজনেই পরস্ত্রী বা পরস্বামীতে আসক্ত। এই ধরনের সংসারে শান্তির বসবাস সম্ভব নয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ঝগড়াটে। সামান্য অজুহাতে চড়াও হয়, ক্ষেপে যায়। কারও প্রতি কারও সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ নেই, একজন আরেকজনের সুখে সুখী, দুঃখে দুঃখী হওয়ার মতো গুণ নেই। পরস্পরের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা নেই।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রীর প্রেম-ভালোবাসা অবিবাহিত জীবনের ভালোবাসার চেয়ে ও অনেক দামী এবং খাঁটি।’

এর কারণও অনেক। বর্তমানের অবিবাহিত জীবনের ভালোবাসার কুপরিণতি সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন। সেই তথাকথিত ভালবাসার পাত্ররা যতক্ষণ পর্যন্ত বা যতদিন পর্যন্ত ভালোবাসার পাত্রীর চরিত্র হরণ করতে পারে না, ততক্ষণ বা ততদিন পর্যন্ত ভালোবাসা দেখায় গলায় গলায়। তাদের ভালোবাসার পাত্রীরা ও এত ভালোবাসতে জানে যে বিবাহের আগে নিজের চরিত্র বা সম্ভ্রম পর্যন্ত বিলিয়ে দেবে। আর যখন প্রতারিত হবে তখন অভিভাবক, থানা, পুলিশ, কোর্ট, মিডিয়া সবাইকে জানাবে তাদের নগ্ন ভালোবাসার কাহিনী। অথচ বিবাহিত জীবনে গৌণ হয়ে যায় ভালোবাসার সম্পর্ক।

স্বামী স্ত্রীর প্রতি স্ত্রী স্বামীর প্রতি সদয় হতে পারে না। অন্তর্জ্বালায় পুড়তে পুড়তে মনটা যখন কয়লায় পরিণত হয়, তখন কথায় কথায় অহেতুক বাড়াবাড়ি, তর্কবিতর্ক, এমনকি তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা, নালিশ, বিচার, সালিশ, মুচলেকা আরো কত কি। পারিবারিক জীবনে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সর্বদা ঝগড়াঝাটি, গালমন্দ, মারধর এই ধরনের সংসার হল অসুর-অসুরীর সংসার। এই ধরনের সংসারে কোনো দিন সুখ হয় না। শান্তি থাকে না। স্বামী স্ত্রী দুজনই খারাপ প্রকৃতির। তখন এদের সংসার হয় অসুর-অসুরীর সংসার।

পুরুষ নারী দুজনের দোষ থাকলেও শুধু নারীকেই কেন সব দায় নিতে হবে? সংসার টেকানোর দায়ে নারীকেই কেনো সব সহ্য করে যেতে হবে? স্বামী পরনারী আসক্ত। তারপরও সব দায় নারীর। সংসার টিকিয়ে রাখাটাই যেনো বড়। নারীর ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনো মূল্যই যেন নেই। সংসারে সুখ শান্তি যদি না-ই থাকে তাহলে তা কিসের সংসার। সংসার মানেই তো দুজনের ভালো থাকা, দুজনের ভালোবাসা। তাহলে কষ্ট শুধু নারীকেই কেনো পেতে হবে? সংসার সুখের হওয়ার পেছনে নারী পুরুষ দুজনেরই অবদান থাকে। তাই যদি কখনো নারীর মনে হয় সংসারে সুখ নেই, তাহলে সেখানে থেকে মানসিক অত্যাচার সহ্য না করাই শ্রেয়।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ