Skip to content

১১ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রবীণদের জন্য হ্যাপি হোম: হয়ে উঠুক নির্ভরতার, আনন্দের

অর্থনৈতিক দিক থেকে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন-মধ্যবিত্তের কাতারে পড়ে। ফলে জীবনযাপনের জন্য তাদের প্রতিনিয়তই সংগ্রাম করতে হয়। কোনরকম খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারলেই তারা খুশি থাকেন। তবে যতদিন শারীরিক শক্তি থাকে ঠিক ততদিনই মানুষ কর্মে নিযুক্ত থাকতে পারে। এরবাইরে আমাদের দেশে আজ অবধি প্রবীণদের জন্য তেমন কোনোই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। ফলে একটা বয়স পর্যন্ত কোনো রকমে জীবনযাপন করতে পারলেও প্রবীণ বয়সে তারা দুর্বিষহ জীবন পার করেন।

ষাটোর্ধ্ব বয়সের প্রায় সব নারী-পুরুষের জীবনেই অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার পাশাপাশি দেখা দেয় নানামাত্রিক জটিলতা। শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নেই কোনো উদ্যোগ। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নারীদের কল্যাণে কাজ করা হলেও প্রবীণ নারীদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে প্রবীণ বয়সে আমাদের অগ্রজরা অথৈ জলে পড়েন। যতদিন কর্মের সঙ্গে থাকেন, ঠিক ততদিন পরিবার তাদের দেখভাল করতে চায় বা করে কিন্তু যখন পরিবারের প্রবীণ সদস্যটি কর্মহীন হয়ে পড়েন তখন সবার করুণার পাত্রে পরিণত হন। শুরু হতে থাকে অবহেলা, অযত্ন, নির্যাতন-নিপীড়ন।

পরিবার-পরিজন, সন্তান লালন-পালনে পুরো জীবনের উপার্জিত ও সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে তাদের সুখের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন। কিন্তু যখন ঠিক পরিবারের সবার ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতার দরকার পড়ে ঠিক তখনই তার হাতটা ছেড়ে দেন আজকের যুগের সন্তানেরা, পরিবারের সদস্যরা। ফলে জীবনের শেষপর্যায়ে এসে পরিবার-পরিজনদের এরূপ ব্যবহার প্রবীণদের জীবনকে আরও বিষিয়ে তোলে। তারা সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন থেকে সরে যান।

অর্থনৈতিক সচ্ছলতা মানুষের জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে সহজেই। কিন্তু যেই প্রবীণ নারী-পুরুষের সঞ্চিত কোনোই অর্থ নেই তার জন্য ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কারণ হিসেবে বলতে গেলে, প্রবীণ বয়সে মানুষের মধ্যে অনেকটা শৈশবের আচার-আচরণ ফিরে আসে। শিশুসুলভ হয়ে পড়েন তারা। সে পর্যায়ে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা তাকে চিন্তিত করে তোলে। সঠিকভাবে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে চিকিৎসা গ্রহণ, খাবার গ্রহণ করতে পারেন না। একাকিত্ব, অসহায়ত্বে মানুষের সহোযোগিতাও পান না। তবে প্রবীণ বয়সী নারী-পুরুষের এসব সমস্যাকে মাথায় রেখে চালু হতে যাচ্ছে ‘হ্যাপি হোম অ্যান্ড রিক্রিয়েশন সেন্টার’। শহর ও গ্রামের প্রবীণদের দুর্বিষহ জীবনের পরিত্রাণ ঘটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় সংগঠনটির কর্তৃপক্ষ।

দেশের গড় আয়ু বাড়লেও প্রবীণদের জন্য সঠিক কোন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি আজও। প্রবীণ বয়সে তারা শারীরিক, মানসিক জটিলতায় ভোগেন। সঠিকভাবে জীবনযাপনের জন্য উপর্যুক্ত পরিবেশও পান না। একাকী জীবন কাটানো প্রবীণদের জন্য বিনোদন, চিকিৎসা, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধা নিয়ে গড়ে তোলা হবে হ্যাপি হোম।

প্রবীণদের দুঃখ-কষ্ট নিরসনে এটি একটি মহতী উদ্যোগ। তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ করতে এবং নতুন জীবনের সন্ধান দিতে ‘হ্যাপি হোম অ্যান্ড রিক্রিয়েশন সেন্টার’ নতুন সম্ভবনার দ্বার খুলে দেবে। শুভ উদ্যোগের পথে হ্যাপি হোমের জন্য শুভকামনা রইলো।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ