Skip to content

২০শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সন্তানকে বুঝুন

শিশুদের মন কোমল হয়। এই কোমল মনে একবার দাগ কাটলে সেই দাগ তাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। ছোটবেলা থেকে কোন জিনিস করতে ভয় পেলে শিশুটি বড় হয়েও শিশুটির ভয় কাটে না। যেমন কেউ ছোট থেকে সাপ অনেক ভয় পায়। পরিপক্ক বয়সেও তার সামনে সাপ নিয়ে কথা বললে সে বিষয়টি নিতে পারে না। সে ভয়ই পায়। তাই সন্তানরা কি চায় সেই বিষয়টি বোঝা জরুরি। তাদের মনের মধ্যে কোন ভয় থাকলে তা ছোটবেলাতেই কাটিয়ে উঠানো উচিত। নয়তো বিষয়টিকে সারাজীবন সঙ্গে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়।

জীবনের খুব সুন্দর সময় হলো শৈশবকাল। বর্তমানে কথাটা যেন শুধু একটা ‘ধারণা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সামাজিক পরিকাঠামোয় ওই খুদে বয়সটা যে সমস্যা-জর্জরিত। খুন, আত্মহত্যা, প্রবঞ্চনা হানা দিচ্ছে শিশু মনেও। কিন্তু তা বলে হাল ছেড়ে দিলে তো চলবে না। আপনার সন্তান এ দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। সে যাতে বিপথে না যায়, তাকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং শক্ত মাটিতে দাঁড় করানোর দায় কিন্তু আপনার। তার জন্য প্রয়োজন আপনার সন্তানের সঙ্গে আপনার সুদৃঢ় বন্ধন। আত্মিক যোগাযোগ। বাবা-মায়ের সঙ্গে তার আত্মজের মনের যোগাযোগের বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। সন্তানের পূর্ণাঙ্গ মানসিক বিকাশের জন্য বাড়িতে ডিসিপ্লিন জরুরি, তার উপর বিশ্বাস রাখতে হয়। কখনও তাকে অনেকটা ছেড়ে দিতে হয়। সায়কায়াট্রিস্ট ডা. জয় রঞ্জন রামের মতে, বাচ্চাদের যে চেঞ্জিং ডেভলপমেন্টাল নিড রয়েছে, সেটা বাবা-মাকে অনুধাবন করতে হবে। আপনার পাঁচ বছরের ছোট্ট মিঠি কিংবা জিকোর সঙ্গে আপনি যেভাবে আচরণ করেন, সেটাই কিন্তু অজান্তে আপনাকে বলে দিচ্ছে, বড় হয়ে সে অন্যদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবে। সম্পর্ক সম্বন্ধেও তাদের ধারণা তৈরি হয় এভাবেই। সন্তান লালন এবং পালন এই পুরো প্রক্রিয়াটি করতে হয় রীতিমত বুদ্ধি দিয়ে।

সন্তান সুসন্তান হয়ে বেড়ে উঠুক’ এই চাওয়াটা সব বাবা-মায়ের। কিন্তু সন্তানকে উপযুক্ত করে লালন-পালন করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা অনেক সময় সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেননা। বাবা-মা মনে করেন, বাচ্চারাও আমাদের মতো। আমরা যা বুঝি তারাও তা বোঝে, আমরা যা পছন্দ করি ওরাও তাই পছন্দ করবে।

কিন্তু বাচ্চা যদি আমার মতোই বুঝতো, তাহলে তো সে বাচ্চা থাকতো না। এজন্যে সে যেভাবে বুঝবে তাকে সেভাবেই বুঝাতে হবে। এক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ককে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও মমতাপূর্ণ করা এবং সন্তানকে সবসময় আদেশ-নির্দেশ না দিয়ে উদ্বুদ্ধ করলে, পরিশ্রমী এবং কষ্টসহিষ্ণু করে তুললে, সন্তান আপনার কথাই শুনবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ