Skip to content

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ রোধে নারীর সচেতনতা জরুরি

জান্নাতুল-যূথী

দিনের পর দিন ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। এ থেকেই বোঝা যায় সমাজের ঘুণে ধরা চিত্র। মানুষের ব্যক্তিত্বহীন জীবন। পশুর চেয়ে যখন মানুষ বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখনই সমাজের মাঝে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বারংবার ঘটে।

আমাদের সমাজে বর্তমানে নারীকে সেই আদিম যুগের মতো ভোগ্যপণ্য মনে করা হচ্ছে। পরিবারগুলো সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ। ফলে নারীদের প্রতি সম্মানবোধ, শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বদলে তারা নারীদের কামনার চোখ দিয়ে দগ্ধ করছে। অবাধ ইন্টারনেটের ব্যবহারের ফলে এখন শিশু থেকে প্রবীণ সবাই এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে এর ইতিবাচক দিক যে নেই, তা নয়। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক সেখানেই বেশি প্রবেশ করে, যেখানে গতিরুদ্ধ হয়। এছাড়া পর্ন সাইটগুলো সহজলভ্য হওয়াতেও তরুণ সমাজ এগুলোতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। সমাজের ঘটে চলা এত অস্থিতিশীল পরিবেশ থেকে নারীরা কতটা সচেতন হয়েছে?

পুরুষতন্ত্র নারীদের দুর্বল করে দিতে, মনোবল ভেঙে দিতে, তাদের ঘরে আবদ্ধ করতেই সর্বদা নারীর প্রতি নিপীড়ন করে চলেছে। ধর্ষণের মতো ঘটনা দিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাদের বাহুবল, শক্তিশালী ও সামর্থ্যের পরিচয় দিতে চায়। যার মাধ্যমে তাদের প্রভুরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর নেপথ্যে রয়েছে পারিবারিক শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। পরিবার থেকে যদি শিশুদের সমান মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গড়ে তোলা যায়, তবে তারা নারীদের শ্রদ্ধা, সম্মান করতে বাধ্য। কিন্তু বাবা-মা পরিবার-পরিজনদের কাছে বারবারই ছেলে শিশুরা মেয়েদের গণ্ডির বিষয়টা উপলব্ধি করে। ফলে শৈশবেই তার মধ্যে এক ধরনের বৈষম্যমূলক মনোভাব তৈরি হয়।

বাড়ির ছোট্ট ছেলেশিশুটিও জানে তার বোনের চেয়ে বা তার অন্যান্য সতীর্থ যারা কন্যা, তাদের চেয়ে তার যোগ্যতা বেশি। আর এ যোগ্যতা তার স্রষ্টা প্রদত্ত (এটা মানুষের প্রচলিত স্বভাবগুণে সে বিশ্বাস করে)। ফলে স্রষ্টা যখন তাকে বেশি যোগ্যতা, সামর্থ্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, তবে জাহির তো করায় লাগে। সেক্ষেত্রে শিশু বয়স থেকেই এই ছেলেশিশুটির মনে পরিবারের অভিভাবকত্ব চলে আসে। নিজেকে বোনের, মায়ের দায়িত্বশীল অভিভাবক ভাই, সন্তান ভাবতে শেখে। ফলে নারী যে তার অভিভাবক নিজে হতে পারে না, নারী যে একা ঘরের বাইরে প্রবেশ করতে পারে না এগুলো সমাজের তৈরি একধরনের ভণ্ডামি।

বেস্ট ফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড, মামা, চাচা, খালু, বন্ধুর পরিচিত বন্ধু প্রভৃতি সম্পর্কে কাকে কেমন বিশ্বাস করা যায়, কতটুকু বিশ্বাসে তার ক্ষতির আশঙ্কা নেই, এগুলোও নারীদের বুঝে চলতে হবে। এত বুঝে হয়তো পথ চলা মুশকিল। কিন্তু কোনো বিপদের সম্মুখীন হওয়ার চেয়ে একটু সাবধানে, বুঝে শুনে পথ চলতে ক্ষতি কী? তাই নারীদের নিরাপত্তায় নারীদেরই সাবধনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরবর্তীকালে পুরুষের যে হম্বিতম্বি শৈশবকাল থেকেই তার বীজ বুনে দেওয়া যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সে আরও তার শিকড় বেশিদূর অবধি গেঁড়ে নেয়। পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিবর্তন জরুরি৷ নারীকে মন থেকে শ্রদ্ধা করা, সম্মান করা যতদিন জাতির মস্তিষ্কে গেঁথে না যাবে ততদিন এরূপ অপরাধ সংগঠিত করে তুলবে পুরুষ সমাজ বারবার।

এক্ষেত্রে নারীর দিক থেকে সচেতন হওয়া জরুরি। নারীদের প্রথমত নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিচিত বা পরিচিত কোন পুরুষ সদস্যের সঙ্গে পরিবারকে লুকিয়ে বা পরিবারের অনুমতি নিয়ে হলেও একান্তে সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ নারীদের এই অস্থিতিশীল পরিবেশকে আগে বুঝতে-শিখতে হবে। এখন নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। সেক্ষেত্রে একান্তে পরিচিত, অপরিচিত পুরুষ সদস্যদের সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়। তাহলে ধর্ষণের হাত থেকে নারীরা কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।

অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে সর্বদাই নারীদের সাবধান থাকতে হবে। এক্ষেত্রে গণপরিবহনে যাতায়তের ক্ষেত্রে অনেক সময় পুরুষ সদস্যরা বেশ গায়ে পড়ে নারীদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে বসেন। এবং একপর্যায়ে এমনও হয় তিনি পথিমধ্যে আসা খাবার কিনে পাশের নারীর দিকে এগিয়ে দেন। বেশ অনুরোধ করে বসেন। এক্ষেত্রে নারীদের উচিত অতি সতর্ক থাকা। বর্তমানে নারীরা কোন পুরুষের কাছেই নিরাপদ নয়। সেক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তি থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া বাইরের পরিবেশে নারীদের সর্বদা চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সবাইকে বিশ্বাসী না ভেবে বরং অবিশ্বাস করলে নারী নিরাপদ থাকবে। তাই যাদের প্রতি কোন আস্থা বা বিশ্বাস গড়ে তোলার কোনই প্রয়োজন নেই সেখানে নারীর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে রক্ষা করতে পারে।

সব ইতিবাচকতা জীবনের জন্য ভালো নয় এটা নারীদের বুঝতে হবে। তাই পুরুষতন্ত্রের হাত থেকে বাঁচতে নারীদের কিছু সতর্ক বার্তা সবসময় মনে স্থান দিতে হবে। নারীরা কেথায় যাচ্ছেন, কী কাজে যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন এ ব্যাপারে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মায়ের কাছে শেয়ার করতে পারেন। এতে করে বিপদে পড়লে বা কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হলে তিনি সাহয্য করতে পারবেন। আইনের কোঠোর প্রয়োগ তো করতেই হবে কিন্তু জনবহুল দেশে ঘরে- বাইরে সর্বত্র নারীকে নিজের দায়িত্ব নিতে হবে বেশি। সবাইকে গণহারে বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের জন্য কতটুকু ঠিক তা নির্ধারণ করতে হবে।

বেস্ট ফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড, মামা, চাচা, খালু, বন্ধুর পরিচিত বন্ধু প্রভৃতি সম্পর্কে কাকে কেমন বিশ্বাস করা যায়, কতটুকু বিশ্বাসে তার ক্ষতির আশঙ্কা নেই, এগুলোও নারীদের বুঝে চলতে হবে। এত বুঝে হয়তো পথ চলা মুশকিল। কিন্তু কোনো বিপদের সম্মুখীন হওয়ার চেয়ে একটু সাবধানে, বুঝে শুনে পথ চলতে ক্ষতি কী? তাই নারীদের নিরাপত্তায় নারীদেরই সাবধনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ