Skip to content

১৫ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকরা কতটা সম্মান পান?

শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর হলেও সমাজ তাদের কতটা সম্মান দেয়, কত দেয় সম্মানী?  বিষয়টি নিয়ে শিক্ষরা জানাচ্ছেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে, সমাজ-সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকের মর্যাদা, সম্মান ও সম্মানীর বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে জাতি-রাষ্ট্রের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-এর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা বলেন,‘শিক্ষক দিবসে আমার গভীর শ্রদ্ধা। শিক্ষকরা যুগে যুগে প্রত্যক্ষ- পরোক্ষভাবে সমাজ, দেশ, রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন। মূলত বর্তমানে শিক্ষদের সম্মান কতটা, সে বিষয়ে কথা বলতে গেলে শিক্ষা কী, তা আগে জানতে হবে। শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী গতিশীল প্রক্রিয়া। যা সর্বদাই হয় লক্ষাভিমুখী। যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন, তারাই মূলত শিক্ষার্থী। আর এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু শিক্ষক। এজন্য বলা হয় Teacher is the backbone of Education system.’

ঢাবির এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যে ধরনের সামাজিক,  রাজনৈতিক অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে শিক্ষক আদর্শবান হলেও কতটা তা ধারণ করতে পারেন, নির্ধারণ করা একটু কঠিন কাজ। কারণ শিক্ষকরাও মানুষ। তাকে সমাজের মধ্যেই বাস করতে হয়। শিক্ষক আদর্শবান হলেও অনেক সময় পারিপার্শ্বিক চাপে তার আদর্শ ক্ষুণ্ন হয়। আগেও যে শিক্ষকরা চাপে ছিলেন না, তা নয়। সক্রেটিসও কিন্তু সত্য বলতে গিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। সে যুগ থেকে বর্তমান খুব বেশি ফারাক নয়৷ তবে শিক্ষকরা বেশিরভাগ সময় তাদের আদর্শ ধারণ করে রাখতে চেষ্টা করেন। তাকে যদি কোনো কারণে সরে যেতে হয়, সেটি সমাজের জন্য বেশ ভীতিকর। এজন্য শিক্ষকরা যেন নিজের আদর্শ ধরে রাখতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে।’

ড. রেবেকা সুলতানা আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের সম্মানের বিষয়টা খুব বিতর্কের বিষয়। আসলে জাত-শিক্ষকদের সমাজ আজও সম্মান করে। কিন্তু শিক্ষকের আদর্শই তাকে শ্রদ্ধা করার মানদণ্ড। শিক্ষকের বেতন আজও সন্তোষজনক নয়। মাধ্যমিক,  বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষকদের বেতনের খুবই নাজুক অবস্থা। যা জাতির জন্য লজ্জাজনক৷ কারণ শিক্ষকরাই জাতি গড়ার কারিগর। তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। যেন তারা জাতি গঠনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

এই শিক্ষক বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীরা কতটা ঝুঁকিমুক্ত, এটাও বেশ বিতর্কের বিষয়। সব জায়গায় নারীরা নিরাপদ এমন নয়। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারী শিক্ষকেরা বেশ ঝুঁকিতে।’

ড. রেবেকা সুলতানা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনোরমা ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাদান একটি জটিল ও কঠিন কাজ। এই কাজটি যিনি করেন, তিনি শিক্ষক। শিক্ষককে মানুষ গড়ার কাজ করতে হয় বলে শিক্ষকতা একটি উচ্চ মাত্রার শিল্প। শিক্ষক শুধু পাঠ পরিচয় দান করবেন, এমন নয়। শিক্ষককে নানাবিধ বিষয়ে ইতিবাচক তথ্য ধীরে ধীরে একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যত্নসহকারে প্রবেশ করানোর পারাপাশি তাকে একজন মানুষ হিসেবে যোগ্য করে তোলার দায়িত্ব পালন করতে হয়। একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীর বয়স অনুযায়ী কখনো বন্ধু, কখনো পরিচালক ও কখনো পথপ্রদর্শক ও  কখনো যোগ্য উপদেষ্টার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। যখন একজন শিক্ষক এই সব গুণ ধারণ করেন, তখনই তিনি আদর্শ শিক্ষক।’

মনোরমা ইসলাম বলেন, ‘একজন আদর্শ শিক্ষকের পক্ষেই সম্ভব শিক্ষার কাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা। রবীন্দ্রনাথের মতে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের ছাত্রত্ব গ্রহণে তার মনের তারুণ্য নষ্ট হতে পারে না, বরং তিনি সব সময়ই ছাত্রদের সুবিধা অসুবিধা ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন এবং এ কারণেই তিনি শিশুদের মনের একান্ত কাছাকাছি থাকবেন। কিন্তু, ব্যক্তিভেদে এর তারতম্য ঘটে, এটা স্বীকার করতেই হবে। একজন মানুষ যেমন মানবিক সব বৈশিষ্ট্য একাই ধারণ করতে পারেন না, তেমন আদর্শ শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য সবার মধ্যে থাকে না। শিক্ষক পেশাটায় ভীষণ দায়ভার বহন করেন। সুতরাং, পেশাটির দায়িত্ব বহন করা খুব সহজ নয়।’

রাবির এই শিক্ষক আরও বলেন,  ‘বর্তমান সময়ের টালমাতাল পরিস্থিতির প্রভাব শিক্ষক পেশাটির ওপরও পড়েছে। ফলে আদর্শ শিক্ষকের মানদণ্ডে কোনো শিক্ষককে বিচার করাটাও এখন খুব সংবেদনশীল ইস্যু। এই সময়ের শিক্ষকরা আদর্শ কতোটুকু সেই বিচারের চেয়ে বরং বলতে চাই যে, বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকদের সচেতন হওয়া উচিত।’

ড. মনোরমা ইসলাম

মনোরমা ইসলাম বলেন,  দেশের বিভিন্ন জেলায় বিগত কয়েক মাসে বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে কয়েকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার দৃষ্টান্ত  আমাদের শিক্ষক সমাজের জন্য খুবই লজ্জাজনক। ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ বলে দেয় যে, আমাদের মধ্যে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা কতটা নিম্নগামী। এর কারণও অনেক। প্রথমেই বলবো, শিক্ষকদের মধ্যেই অনেকে আছেন যারা নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থে নিজের পেশার সম্প্রদায়ের আত্মমর্যাদাকে বিলীন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। ফলে অনেকেই শিক্ষককে ব্যবহার ও অসম্মান করার সুযোগ পেয়েছেন। আবার রাষ্ট্রের কিছু গাফিলতিও আছে।  ফলে, শিক্ষককে অসম্মান করার একটা চর্চা গড়ে উঠেছে। যার ফল ভোগ করছেন অনেকেই। মানুষের মধ্যে সহনশীলতার অভাব, আত্মমর্যাদা রক্ষার মানসিকতার অভাব এবং অন্যকে দমিত রাখার প্রবণতা, এমন আরও অনেক নেতিবাচক মনোভাব শিক্ষককে সম্মান না দেওয়ার নেপথ্য কারণ।’

কিছু পেশা আদিলগ্ন থেকে সম্মানী নয়, সম্মানের ওপর নির্ভরশীল মন্তব্য করেন মনোরমা বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। জীবনযাত্রার মান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে। আর আমাদের রাষ্ট্রে পেশার সম্মানের চেয়ে পেশার সম্মানীর ওপর সেই জীবনযাত্রার মান নির্ধারিত। ফলে, সম্মানী সময়ের প্রয়োজনে প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। তবুও শিক্ষক পেশার দায়িত্বভার অনেক যা সম্মানী দিয়ে বিচার করা যাবে না। একজন কম সম্মানীর শিক্ষক যেমন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক যে গুরুভার বহন করেন, সমভার একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও বহন করেন। সুতরাং, সম্মানী ও সম্মানের ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সমপর্যায়ের হওয়া উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। ’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘একজন নারী শিক্ষক হিসেবে  বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, কর্মজীবী নারীরা কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট ঝুঁকিতে থাকে। কোনো কোনো নারীর ক্ষেত্রে হয়তো এমন ঘটে না, তবে অধিকাংশ নারীকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। প্রগতিশীল মানসিকতার চর্চা নিয়ে যত বুলি আওড়ানো হোক না কেন আসলে এক ধরনের বৈষম্যমূলক মনোভাব পোষণ করেন সবাই। আমাদের সমাজে শিশু বয়স থেকে দেখা এই চর্চার প্রভাব বড় বয়সেও দেখা যায়। শুধু পুরুষ নয়, নারীরাও নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। নোংরা মস্তিষ্কচর্চার শিকার থেকে কেউই বাঁচতে পারে না। একজন দক্ষ  নারী শিক্ষক সহজে স্বীকৃতি পান না, একজন পুরুষের দ্বিগুণ শ্রম দেওয়ার পরেও তাকে পুরুষের সমান সম্মান দিতে কুণ্ঠাবোধ করে। কেউ কেউ হয়তো এগুলোর প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে পারেন। তবে অনেককেই এইসব মেনে বা মানিয়ে চলতে হয়।’

শিক্ষকতাকে মহান পেশা উল্লেখ করে এই শিক্ষক বলেন, ‘সেই পেশাকে তার নিজস্ব মর্যাদা দিতে হলে প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে।একটি পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তি পর্যায়ে একজন শিক্ষক, একজন শিক্ষার্থী প্রত্যেকের মূল্যবোধের পরিচর্যার প্রয়োজন।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালযেল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন রেজোয়ানা বলেন, ‘বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে একটু জটিল। আমি নিজে একজন শিক্ষক, আবার আমার পরিবার ও বন্ধুদের অনেকেই শিক্ষকতা পেশায় আছেন। আমার চেনা গণ্ডির ভেতরে যারা আছেন, তাদের বেশির ভাগকেই আদর্শবান মনে হয়। তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে অনেকেই সেই আদর্শের জায়গাটা থেকে বিচ্যুত। এর পেছনে প্রধাণ কারণ আমার মনে হয়েছে,  ক্ষমতার প্রতি মোহ এবং লোভ।’ 

শারমিন রেজোয়ানা

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘‘সম্প্রতি শিক্ষকদের অবমাননার বিভিন্ন ঘটনা থেকে সমাজে শিক্ষকদের সন্মানের জায়গাটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, এটা সহজেই বোঝা যায়। আমাদের এখনকার সমাজ পুঁজিতান্ত্রিক, যেখানে সমাজের বেশ কিছু সূচকের মূল্যায়ন হয় অর্থ ও ক্ষমতার সম্পর্ক দিয়ে। একটা উদাহরণ দেই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচের একটা গ্রুপ আছে ফেসবুকে। সেখানে প্রায়শঃই দেখি কোনো পুলিশ কিংবা বিসিএস ক্যাডার বন্ধুরা প্রমোশন পেলে রাশি রাশি শুভেচ্ছা বার্তা থাকে, অথচ কেউ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলো, কিংবা খুব ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করলো, বা অন্য কোনো পেশায় উন্নতি করলেও সেখানে কোনো শুভেচ্ছা থাকে না। কারণ, এই দলটির ক্ষমতা বলয়ের ভেতরে নয়। এই ‘সন্মানের জায়গাটাতে’ আমাদের চাকরির গ্রেড বিন্যাসের কিছু ভূমিকা আছে।  প্রাথমিক শিক্ষাকে বলা যায় একটি মানুষের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি, এই সেক্টরটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমাদের দেশে প্রাথমিকের শিক্ষকরা এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, মাধ্যমিকের শিক্ষকরা সবে মাত্র দুই-তিন বছর আগে দ্বিতীয় শ্রেণির পর্যাদা পেয়েছেন—যা সম্ভবত এই বিশ্বে বিরল। অন্যদিকে  যেকোনো পেশায় যোগ দিলে তার সিনিয়র সচিব বা তদূর্ধ্ব মর্যাদা উন্নীত হওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মর্যাদা রাষ্ট্রীয় পদক্রমে যুগ্ম সচিবের পদমর্যাদায় আটকে দেওয়া হয়েছে। এর ওপরে ওঠার সুযোগ নেই। তাই বলা যায়, শিক্ষকের মর্যাদা যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তা কেবল বইয়ের পাতাতেই। পাশাপাশি এটিও বলবো যে,  শিক্ষকদেরই একটি শ্রেণির নানান কর্ম ও দায়িত্বহীনতারও সেই সম্মানের আসন বিচ্যুতিতে ভূমিকা রাখছে।’

দেশের ভবিষ্যৎ বংশধরদের যোগ্য-দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য উল্লেখ করে এই শিক্ষক বলেন, ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত দেশগুলোতে তাই বেতন ও সামাজিক অবস্থানে শিক্ষককে অনেক ওপরে রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা একেবারেই উল্টো। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতনকাঠামোর কথা বলা হলেও গত এগারো বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের অবস্থা তো আরও করুণ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করে একজন শিক্ষার্থী যদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করতে চান, তাহলে তাকে কাজ করতে হবে ১৪ নম্বর গ্রেডে, জাতীয় গ্রেডে মর্যাদার বিচারে তিনি তৃতীয় শ্রেণির। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতনের পার্থক্য রয়েছে ব্যাপক। এ বৈষম্য বিগত ৫০ বছর ধরে চললেও এটা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। সুতরাং বাংলাদেশের সব স্তরের শিক্ষকই যে তাদের কাজ ও মর্যাদা অনুযায়ী বেতন পান না, এটা খুব স্পষ্ট।’

 নারীশিক্ষকের পেশাগত ঝুঁকি বিষয়ে শারমিন রেজোয়ানা বলেন, ‘ নারী শিক্ষকরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক  সমিতিতে নারী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ দেখুন, প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া ক্লাস কার্যক্রমের বাইরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ খুব সীমিত।  তবে ঝুঁকি আমার দৃষ্টিতে অনান্য পেশার চাইতে তুলনামূলকভাবে কম।’

রহনপুর আহম্মদী বেগম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোসা. শামীমা সুলতানা ছন্দা বলেন, ‘শিক্ষক দিবস—শব্দ দুইটির ব্যাপ্তি বিস্তর। এক-দুই কথায় শেষ হবে না। আমার মনে হয় ছোট বেলা থেকে আজ পর্যন্ত যাদের কাছে শিখছি, সবাই আমার শিক্ষক। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষকদের সম্মান করি ঠিক ততটাই, যতটা সম্মান করলে তাকে বোঝানো যাবে যে, তিনি আমার গুরু, আমি তার চিরকালের শিষ্য।’  তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এখনকার জেনেরেসন শিক্ষক শব্দটার অর্থই যেন চেঞ্জ করে দিয়েছে। এখনকার যুগে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হতে হয় ছাত্রের হাতে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে শুরু করে জুতার মালাও শিক্ষকদের পরতে হয়। কেন? আমার প্রশ্ন হলো সেই ছাত্র- ছাত্রীর কাছে যারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হাজারও অভিযোগ আনে। পরিবারে বাবা- মা যদি শাসন করার অধিকার রাখে, তাহলে একজন শিক্ষকও ছাত্রদের শাসন করার অধিকার রাখে। কারণ বাবা- মার আরেকটা প্রতিরূপ হলো শিক্ষক। তাই বাবা- মায়ের মতোই তাদের সম্মান করতে হবে।’

শামীমা সুলতানা ছন্দা

শামীমা সুলতানা ছন্দা বলেন, ‘এখনকার নতুন শিক্ষকরা তো ছাত্র- ছাত্রীদের বন্ধু হয়ে ওটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আসলে কী হতে পারছে! আমি বলবো, আমি একজন শিক্ষক হিসেবে আমার ছাত্রদের যতটা ডেডিকেশন নিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করি, ততটা কি পারি?’ তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক ঠিক কতটাকা বেতন পায়! তবু তার ধ্যান-জ্ঞান ছাত্রদের উন্নতি নিয়ে। তাই শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্কটা পারিশ্রমিক দিয়ে না মেপে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব দিয়ে মেপেও কি অনেক শিক্ষক তার যোগ্য সম্মান পাচ্ছে!’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘‘৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে আমাদের একটাই শপথ করা উচিত, ‘ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হবে অকৃত্রিম, প্রয়োজনে বন্ধুত্বের, প্রয়োজনে শাসনের’। আমার সব শিক্ষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই আজকের এই শিক্ষক দিবসে, যাদের জন্য আজ আমিই একজন শিক্ষক হতে পেরেছি।’’

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ