Skip to content

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বাধা কারা

বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, রাজনীতি কোনো দিক থেকেই নারীরা পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের নারীরাও বিশেষভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্বের তুলনায় ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীদের অগ্রগতি অনেক কম! কিন্তু যেখানে নারীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিজয় নিশ্চিত হয়েছে, সেখানে নারীর ক্ষমতায়নের পথে বাধা কোথায়?

নারীর ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে বিশেষভাবে সক্রিয় পুরুষতন্ত্র। আমাদের সমাজে নারীদের প্রতিনিয়ত ঘরবন্দি করে রাখার পাঁয়তারা চলে। এক শ্রেণি তাদের নারীদের ঘরবন্দি করে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করে। নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া, পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করাকে তারা ‘জাহান্নামি’ হওয়ার নামান্তর বলেও ফতোয়া দাঁড় করায়। নারীবিদ্বেষী এসব মানুষ তাই নারীদের ঘরে আবদ্ধ করেই রাখে।

প্রতিবছর যে পরিমাণ নারী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা লাভ করে, তার এক তৃতীয়াংশই বিয়ের পর নানাভাবে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। কর্মক্ষেত্রের চৌকাঠ মাড়ানোর ক্ষমতা তাদের হয় না। কারণ এদেশের সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা রীতিনীতির বাইরে এই শ্রেণি বের হতে পারে না। কর্মজীবী নারীদের পরিসংখ্যান লক্ষ করলেই দেখা যাবে, প্রতিবছর মেডিক্যাল, বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ থেকে বের হওয়া নারীরা কোথায়? একটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কতজন নারী ডাক্তার আছে? কতজন ইঞ্জিনিয়ার নারী? আর কতজন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির এমডি, বড় পদের কর্মকতা? তাহলে এই বৃহৎ অংশের নারীরা কোথায় গেলো? পড়াশোনায় যারা ঝরে যায়নি, তারা চাকরিক্ষেত্রে কেন ঝরে পড়লো?

নারীদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী হতে হবে। আস্থা থাকতে হবে তাদের প্রতি। যদি নারীর প্রতি সামন্যতম ভরসা থাকে তবে এই কোমলপ্রাণের অধিকারী নারীরা বিশ্বজয় করবেই। তাই যদি সহোযোগী না হতেও পারি তবু নারীদের পথকে রুদ্ধ না করি আমরা। উন্মুক্ত হোক নারীদের পথ চলা। গড়ে উঠুক মানবের পৃথিবী।

কারণ হিসেবে বলতে গেলে যে দৃশ্য প্রথমেই উঠে আসে, তাহলো বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যরা নারীদের শিক্ষিত করেন ভালো পাত্রস্থ করার জন্য। মেয়েকে সাবলম্বী করার জন্য নয়। ফলে অর্নাস বা মাস্টার্সের গণ্ডি যদি কেউ পেরুতে পারে,তাহলে বাবা-মায়ের বুকের ওপর থেকে পাথর নামে। দেখে-শুনে একটা ভালো পাত্র জুটে হয়তো যায় কপালে। কিন্তু নারীটির জীবনে ঘটে গরুর খোঁয়াড়ে বাঁধা গরুর মতো হীন দশা! প্রভুর অনুমতি মতো খেতে হবে, ঘুমাতে হবে, বাচ্চা-সংসার সামলাতে হবে, শ্বশুর -শাশুড়ির হুকুম শুনতে হবে। এমনকি চাকরি করবে কি না, বাপের বাড়ি বেড়াতে যাবে কি না, সেটাও শ্বশুর-শাশুড়ি-স্বামীর পরিবারের মর্জির ওপর নির্ভর করে। আর এটা যতটা সামজিক নিয়ম, তারচেয়েও বেশি ধর্মীয় বিধানও বটে। ধর্মের দোহাই, অপব্যাখ্যা, গোঁড়ামি, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা দিনশেষে একটা নারীকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলে! তার গতির পথকে রুদ্ধ করে দেয়।

নারীদের অগ্রগতি যে থমকে দেওয়ার নয়, সে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে সাফ ফুটবলে নারীদের বিজয় নিশ্চিত করে আসা। তবে এই কৃষ্ণা, সাবিনা, সানজিদার মতো পরিবারের সংখ্যা বাংলাদেশে হাতেগোনা। তাদের পরিবারে অসচ্ছলতা আছে, কিন্তু মনোবলের অভাব নেই। তার প্রামণও পরিবারগুলো দিয়েছে। এক নারী ফুটবলারের দাদি কিন্তু জোর গলায় প্রতিবেশীদের বলেছেন, যেতে হয় তারা পুরো পরিবারই জাহান্নামে যাবে। তবু সন্তানকে তার লক্ষ থেকে পিছে হটাবে না। এই বাংলাদেশের আর কয়টা পরিবারে পাওয়া যেতে পারে এমন? যে বা যারা এই বলয় ভাঙবে, তারা কৃষ্ণা-সাবিনাদের মতো পূজনীয় হবে দিনশেষে।

নারীদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী হতে হবে। আস্থা থাকতে হবে তাদের প্রতি। যদি নারীর প্রতি সামন্যতম ভরসা থাকে তবে এই কোমলপ্রাণের অধিকারী নারীরা বিশ্বজয় করবেই। তাই যদি সহোযোগী না হতেও পারি তবু নারীদের পথকে রুদ্ধ না করি আমরা। উন্মুক্ত হোক নারীদের পথ চলা। গড়ে উঠুক মানবের পৃথিবী।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ