Skip to content

২০শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারী-শিক্ষার্থীরা কতটা নিরাপদ

শিক্ষায় জাতির মেরুদণ্ড। আর জাতির মেরুদণ্ড গড়ে তোলার কারিগর হলেন শিক্ষক। কিন্তু বর্তমান যুগে আধুনিকতার ছোঁয়াতে এই মানুষ গড়ার কারিগরেরাই হয়ে উঠেছেন এক একজন শোষক। দিন বদলের হাওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উভয়েই অনেকটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছেন। প্রতিনিয়তই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

নানারকম অপরাধের জেরে কোথাও শিক্ষক দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন, কোথাও আবার শিক্ষার্থীরা। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু আমরা স্বভাবতই জানি মানুষ গড়ার কারিগর যে শিক্ষক, সেই শিক্ষকদের কাছ থেকেই সন্তানসম শিক্ষক্ষার্থীরা উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। তবে আজকাল কেন প্রতিনিয়ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে? কেনই বা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজেদের সম্মানের জায়গাটা নিয়ে চিন্তিত? কেনই বা দিনকে দিন শিক্ষাকে কেন্দ্র করেই দু’পক্ষের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা, প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব গড়ে উঠছে?

শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে এখনই ভবার সময়। নতুবা ঘটনাগুলোর শেকড় বাকল আরও সুদূরপ্রসারী হয়ে উঠবে। খুব আশ্চর্য হতে হয় যখন বিষয়গুলো চোখের সামনে আসে। এমনি আরও একটি ঘটনায় চোখ আটকে গেলো আশ্চার্যজনকভাবেই।

গত ৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এলাকার এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর বেণী করে চুল বাঁধা নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রীকে মারধোরের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাদের মাঠে খেলতে নামার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। এই ঘটনার প্রতিবাদে নিজের মাথান্যাড়া করে ছবি তুলে বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষিক জাহিদা পারভীন।

এর জন্য স্কুলের বাইরে এক্সট্রা কমিটিও গঠন করতে হবে। যেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরস্পরের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার না হন। সুদিন ফিরে আসুক দ্রুত। আবারও ভরসা, আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধার হয়ে গড়ে উঠুক ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। অভিযোগ করা হলেও স্বীকার করেননি অভিযুক্ত শিক্ষক। কিন্তু এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলতি বছরে অনেকগুলো বিষয় সামনে এসেছে। শিক্ষকের গলায় জুতা পরানো হচ্ছে, শিক্ষককে কান ধরে উঠাবোস করানো হচ্ছে, শিক্ষকের কথা রেকর্ড করে ভিডিও ক্লিপ বানিয়ে উসকানিমূলক কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা, কোথাও বা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করতে গিয়ে পিটিয়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। শুধু শিক্ষকরাই লাঞ্ছিত হচ্ছেন না, উল্টো চিত্রও অহরহ গণমাধ্যমে আসছে৷ তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য ভীতিকর, অস্বাভাবিক ও একইসঙ্গে অশনিসংকেতও।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন একটি জায়গা, যেখান থেকে মানুষ মানবিকতা, মনুষ্যত্ব, বিবেক জাগ্রত করার শিক্ষা পায়। সঠিক মানুষ হয়ে দেশ-দশের কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়। সেই শিক্ষালয়ের এরূপ হাল সত্যিই জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের! এখনো সময় আছে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপের মধ্যমে প্রতিহত করতে হবে। মানুষের জীবনের মূল্য বোঝাতে হবে। সব শিক্ষকের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

শিক্ষক হতে হলে শুধু মেধাই নয়, সঙ্গে তাদের মানবিক গুণাবলি, আইকিউ, সহনশীলতা, ধৈর্য্যের শিক্ষাও দিতে হবে। সেইসঙ্গে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। যেন শিক্ষকরা স্রেফ শিক্ষক নন, অভিভাবক হয়ে ওঠেন। ঠিক তেমনই শিক্ষার্থীদের জন্য কড়া নজরদারি রাখতে হবে। অযথা শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করলে কর্তৃপক্ষ তার সত্যতা যাচাই সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এর জন্য স্কুলের বাইরে এক্সট্রা কমিটিও গঠন করতে হবে। যেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরস্পরের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার না হন। সুদিন ফিরে আসুক দ্রুত। আবারও ভরসা, আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধার হয়ে গড়ে উঠুক ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ