Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারী পর্যটক ভ্রমণে স্বস্তি, অস্বস্তি

ভ্রমণপিপাসু মানুষ সুযোগ পেলেই ঘুরতে যেতে চায়। কখনো পাহাড়ে তো কখনো সাগরে ঘুরে বেড়িয়েই শান্তি পান অনেকে। আবার অনেকে এমনও আছে, যারা নিজের ক্লান্তি দূর করতে একটু রিলাক্স হতে ঘুরতে যায়। এই পর্যটকদের মধ্যে যেমন পুরুষ থাকে, তেমনি নারীরাও থাকে। একজন নারী পর্যটকের ভ্রমণে যেমন স্বস্তি রয়েছে, ঠিক সেভাবেই অস্বস্তিও রয়েছে। কিন্তু তাই বলে কি নারীরা ভ্রমণ করা বন্ধ করে দেবে? না। সব পরিস্থিতিকে ছাপিয়েই নারীরাও ঘুরতে যায়। নিজেকে একটু স্বস্তি ও আনন্দ দেওয়ার জন্যই তাদের ঘুরতে যাওয়া।

একজন নারী পর্যটক হিসেবে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা হলো তারা যার বা যাদের সঙ্গে যাচ্ছে, তারা কতটা সহযোগিতা করবে। সহযোগিতা সম্পন্ন মানুষের সঙ্গে গেলে নারীরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারে এবং ঘুরতেও পারে নিশ্চিন্তে। ভ্রমণকালে যাত্রার সময়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:

ভ্রমণে যাত্রার সময় যারা মোশন সিকনেসে আক্রান্ত হন, তারা অনেকক্ষণ যাবত গাড়ির সামনের দিকে তাকিয়ে না থেকে জানালা দিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার চেষ্টা করুন। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপনি সুস্থও থাকবেন। এর কারণ, আপনি যদি বাইরের দিকে তাকিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে মগ্ন থাকেন, তাহলে আপনার মস্তিষ্কে আর ভুল সংকেত পাঠাতে পারবে না।

গাড়ির ভেতর দুর্গন্ধ। ভ্রমণের সময় আপনি যে গাড়ি দিয়ে ভ্রমণ করবেন, সে গাড়িতে যদি দুর্গন্ধ থাকে তাহলেও আপনি মোশন সিকনেসে আক্রান্ত হতে পারেন। গাড়ি যদি ব্যক্তিগত হয়, তাহলে ভ্রমণ যাত্রার আগে গাড়ি খুব ভালো করে পরিষ্কার করে রাখুন। এরপরও যদি গাড়িতে দুর্গন্ধ থাকে, তাহলে ভালোমানের এয়ারফ্রেশনার রাখুন। প্রয়োজনে ব্যবহার করুন। এছাড়া, গাড়ির ভেতরে দুর্গন্ধ দূর করার জন্য এসি অন করে রাখতে পারেন। ন্যাপথলিন রাখতে পারেন। এর ফলে গাড়ির ভেতরকার বাজে গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

ভ্রমণকালে গাড়ি যদি ব্যক্তিগত হয়, তাহলে লম্বা জার্নির সময় মাঝ পথে একটা বিরতি নিয়ে নিন। আপনার হাতে যদি একটু বেশি সময় থাকে তাহলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে একটু ঘোরাফেরা করে নিন। কিছুক্ষণ খোলা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন অনেকটা সুস্থ বোধ করবেন।

ভ্রমণের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাওয়া-দাওয়া। অতিরিক্ত ঝাল, মশলা, তেলযুক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। এ জাতীয় খাবার মোশন সিকনেসকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ক্র্যাকারস জাতীয় বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার পেটকে প্রশমিত করতে পারে, যা বমি বমি ভাব এবং বমি কমিয়ে ফেলতে পারে। আর তাই ভ্রমণকালীন সময়ে এসব খাবার খেতে চেষ্টা করুন। এছাড়াও বাইরের যেকোনো পানীয় কিংবা কোল্ড ড্রিংকস, কৃত্রিম জুস ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণের সময় বিশুদ্ধ ফুটানো পানি, গ্লুকোজ কিংবা আদা বা লেবু চা সঙ্গে রাখতে পারেন। আরেকটা কথা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে, ধূমপান আপনার মোশন সিকনেসের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে, সুতরাং ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

যেসব খাবার খেলে আপনার মোশন সিকনেস প্রতিরোধ হবে সেসব খাবার সাথে রাখুন এবং খান। আপনার অস্বস্তিকর পেটকে শান্ত করতে আদা বা আদার তৈরি খাবার অনেক বেশি শক্তিশালী। কয়েক টুকরো শুকনো আদা কাটা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। ভ্রমণকালীন সময় যখনি অসুস্থতার লক্ষণগুলি অনুভব করবেন, তখনি তা ধীরে ধীরে চিবুতে থাকুন। ছোট তাজা লেবুর রস ভ্রমণকালে আপনার বমি বমি ভাব এবং বমি রোধ করতে পারে। তাই সাথে ছোট ছোট তাজা লেবু ভ্রমণের সময় রাখতে পারেন এবং সাথে পরিষ্কার পুদিনা পাতাও রাখতে পারেন। পুদিনাপাতা গ্যাস্ট্রিক জনিত বমি বমি ভাব দূর করতে দারুণ কাজ করে। ভ্রমণের সময় যখনই মোশন সিকনেস অনুভব করবেন তখনই এড়িয়ে মনকে শান্ত রেখে অন্য কাজে মনোযোগ স্থির রাখার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে ঘুমিয়ে পড়ুন। যদি ঘুম না আসে তাহলে চোখ বন্ধ করে রেখে চুপচাপ শুয়ে থেকে গান শুনতে পারেন। তবে যাদের খুব বেশি সমস্যা হয়, তারা এই অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে গাড়িতে উঠার আগেই বমির ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন। তবে যে ওষুধই খান না কেন, তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

নারী পর্যটকের সঙ্গে কেউ নারী না থাকলে তাকে অনেকের মুখেই অনেক কথা শুনতে হয়। শুধু কথা শুনা নয়, একজন নারী আরেকজন নারীকে যত সহজে বলতে পারবে তা হয়তো তার সঙ্গে থাকা পুরুষ সদস্যকে বলতে পারে না। নারী একা সমুদ্রে নামলে তাকে আশেপাশের মানুষ নানাভাবে বিরক্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু এই নারীই যখন তার গ্রুপের সঙ্গে থাকে তাকে কেউ কিছু বলতে পারে না।

নারীর থাকার জায়গাটি নিয়েও অনেক সময় পড়তে হয় অস্বস্তিতে। পর্যটন কেন্দ্রের আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রতিদিন কেউ না কেউ থাকে তাই সেখানকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিকমতো হয় না। ঘরে ময়লা জমে থাকে। আবার কখনও কখনও তো হোটেল গুলোতে রুম পাওয়াও দায় হয়ে যায়।

একজন নারীর ঘুরতে যাওয়া, থাকা, ঘুরা ও ফেরত আসা নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতে হয়। অনেক সময় পরিবার থেকে ঘুরতে যাওয়ার পারমিশন নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ঘুরতে গিয়ে নারীর পোশাক নিয়ে কথা বলছে এমন মানুষেরও সম্মুখীন হতে হয়। তাই নারীর ভ্রমণে স্বস্তি- অস্বস্তি উভয়ই দেখা যায়।

অনন্যা/এসএএস