Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পড়াশোনায় অমনোযোগী সন্তান: পরিবারের করণীয়

‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’। আজ যারা শিশু তারাই তো ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে তবেই না তারা ভালো কিছু করতে পারবে। কিন্তু শিশুর বিকাশ কিভাবে সঠিক হবে? শিশুকে কিভাবে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবেন?

শিশুর বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে পরিবার ও পরিবেশ। শিশুদের স্মৃতিশক্তি অনেক তুখোড় হয় তাই তারা সহজে নানা জিনিস নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারে। এছাড়াও তারা যা দেখে বা যে পরিবেশে বেড়ে উঠে সেভাবেই কাজ করে। এজন্যই শিশুর পরিচর্যায় সঠিক পরিবেশ ও পরিবার প্রয়োজন। আর সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই শিশুকে পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলা সম্ভব।

একজন মা তার সন্তানকে যেভাবে আগলে রাখে বা রাখবে সেভাবে অন্য কেউ রাখতে পারে না। অর্থাৎ জন্মের পর থেকে শিশু সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়ে থাকে তার মায়ের সঙ্গে। এ কারণে একজন শিশুর উপর তার মায়ের আচরণ অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। মা যেভাবে কথা বলে শিশুকেও একইভাবে কথা বলতে দেখা যায়। মাকে দিয়ে শুরু হলেও পরিবারের বাকি সদস্যরাও একিভাবে ভূমিকা রাখে।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে পরিবার ও পরিবেশ। তাই শিশুর আশেপাশের পরিবেশ টা হতে হয় স্নিগ্ধ। এছাড়া শিশুর সামাজিক স্বীকৃতি আসে পরিবার থেকে। অর্থাৎ শিশুর আচরণে পরিবারের সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে কাজ করে। শিশুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পরিবারের নিয়ম, শৃঙ্খলা, আচার-ব্যবহার সবকিছুই নির্ভর করে। শিশুরা চোখের সামনে যেমনটা ঘটে দেখে তেমনটাই করার চেষ্টা করে। তাই পরিবার একটি শিশুর বেড়ে উঠায় অনুপ্রেরণা জাগাতে পারে। এই অনুপ্রেরণাই শিশুকে পড়াশোনাতে আগ্রহী করতে পারে। শিশু যখন পরিবার থেকে পর্যাপ্ত সময় পায় তখন সে পরিবারের সবার কথা শুনে চলে।

একটা সময় পর শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা প্রতিকূলতা পার করতে হয়। একেক শিশু একেক পরিবেশে বেড়ে উঠে। তাদের প্রত্যেকের বিকাশেও থাকে ভিন্নতা। তাই এই সময়টাতেও পরিবারই ভূমিকা রাখে। পারিবারিক শিক্ষা ও একাডেমিক শিক্ষা দুটোর মধ্যেই শিশুর বিকাশ নির্ভর করে। আর একাডেমিক শিক্ষা দেরিতে শুরু হলেও এটি অনেক ছোট থেকেই মা-বাবা বা পরিবারের শিক্ষার সাথে জড়িত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর পর থেকেই শিশুর শিক্ষা জীবন শুরু। কিন্তু প্রায় সময়ই দেখা যায় শিশুরা পড়াশোনায় খুব বেশি আগ্রহী থাকে না। এসময় তাদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনার কাজটি করতে হয় পরিবারকেই। কিন্তু কিভাবে মনোযোগী করে তুলবেন তাই ভাবছেন তো?

একজন শিশুর বড় হওয়ার সময় যখন নানান মানুষের সঙ্গে মিশতে থাকে তখন তার মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ বাড়ে। জানার আগ্রহ বাড়ে এবং শিশুর মধ্যে মিশুক ভাব আসে। যদি শিশুর বেড়ে ওঠায় মিশুক ভাবটি চলে আসে, তাহলে দেখা যায় শিশুরা সহজে সবার সঙ্গে মিশতে পারে। শিশুর মধ্যে কোনো ভীতি কাজ করে না। শিশুরা শিক্ষক, সহপাঠী সবার সঙ্গেই সহজে মিশতে পারে। কিন্তু শিশু যদি কোনো গম্ভীর পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তখন তার মধ্যে কাজ করে আতঙ্ক। শিশু সহজে কারও সঙ্গে মিশতেও পারে না। আবার নিজের মনের ভাব প্রকাশও করতে পারে না। এছাড়া শিশুর শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হয় একজন মায়ের হাত ধরেই। মা’ই প্রথম তার সন্তানকে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন।

এছাড়াও শিশুকে পড়ানোর সময় তাকে তার পড়ার বাইরে সেই বিষয়ের ওপর আগ্রহী করে তুলতে হয়। এতে করে শিশুর জানার আগ্রহ বেড়ে যায় এবং সে মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করে।

শিশুকে পড়াশোনার জন্য বেশি চাপ না দিয়ে। তাকে একটি রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসলে এবং পড়া ও খেলাধুলার মধ্যে সমতা এনে দিলেও শিশু পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এছাড়া আজকাল টেলিভিশন বা ইউটিউবে শিক্ষামূলক নানান প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও শিশুকে পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলা সম্ভব।

একটানা কিছুক্ষণ পড়ার পর যদি শিশুর পড়তে ইচ্ছে না করে তখন তাকে কিছুক্ষণ খেলার সময় দেওয়া। কিংবা তাকে নিয়ে বাইরে হাটতে বের হওয়া বা সাইক্লিং করা। এতে শিশুর মন ভালো হয়ে যায় এবং বিশ্রাম নিয়ে শিশু নিজেই পড়তে বসতে চায়। শিশু যে বিষয়গুলির প্রতি বেশি আগ্রহী তাকে সেই বিষয়গুলি করতে দেওয়া।

পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিশুকে আঁকাআঁকি করানো বা গল্পের বই পড়তে উৎসাহী করা। এতে করেও শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারে।

মা-বাবাসহ পরিবারের সবার শিশুদের সময় দেওয়া উচিত। শিশুদের সাথে খেলাধুলা করা উচিত। এসবের মাধ্যমেও শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলা সম্ভব।

অনন্যা/এসএএস