Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সমাজে প্রতিবন্ধীদের এত প্রতিবন্ধকতা কেন

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা সমাজের ৮-১০টা সাধারণ শিশুর মতো স্বাভাবিক হয় না। তাদের আচরণ কিংবা চলাফেরায় এক বিশেষ পার্থক্য থাকে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সমাজে তাদের অপূর্ণতার কারণে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। পৃথিবীর এক নিষ্ঠুরতার ভাগীদার তারা। এদের শারীরিক অসুস্থতা কিংবা মানসিক সমস্যা থাকার কারণে তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলা হয়ে থাকে।

আমাদের সমাজে অনেক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা রয়েছে, যারা সমাজে নিজেদের বিকশিত করতে পারে না। অথচ তাদেরও সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার আছে, তাদেরও মৌলিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে তাদের সে মর্যাদা দেওয়া হয় না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সমাজে হেয় চোখে দেখা হয়। সমাজ তাদের কোনো সুযোগ সুবিধাই দেয় না, বরং তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে।

সমাজের নিষ্ঠুর কিছু মানুষের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা তাদের নিজেদের বিকশিত করা থেকে বঞ্চিত হয়। তারা যখন নিজে থেকে তাদের প্রতিভা বিকশিত করতে চায় তখন তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিকশিত করতে না পারার বিশেষ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তার মধ্যে ‘কুসংস্কার’ ও ‘বৈষম্য’ অন্যতম। যখন একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু নিজেকে বিকশিত করতে চায়, তখন সমাজ তাকে বুঝিয়ে দেয়, সে চাইলেই সব কাজ সাধারণ শিশুর মতো করতে পারবে না। বৈষম্যের কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা তাদের কাজগুলো ঠিক ভাবে করতে পারে না। এই প্রতিবন্ধকতা তাদের জীবনে প্রভাব ফেলে। তারা নিজেকে বোঝা ভাবতে শুরু করে এবং পরবর্তী সময়ে আর কাজ করার অনুপ্রেরণা পায় না।

আবার অনেক পরিবার আছে, যারা লোকলজ্জায় কিংবা সমাজের ভয়ে অনেক সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যে তালিকা রয়েছে, তাতে অন্তর্ভুক্ত করেন না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বাকি সাধারণ শিশুদের মতো বেড়ে ওঠে না। তাদের আচরণ কিংবা চলাফেরা স্বাভাবিক নয়। তাই তাদের পড়তে হয় নানাবিধ সমস্যায়। প্রতিবন্ধকতা তাদের জীবনকে গ্রাস করে ফেলে। তাদের দৈহিক গঠন, আচরণ অসাম্যঞ্জপূর্ণ হওয়ায় তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ ঠিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না, অনেকে আবার ভালোভাবে কথা বলতে পারে না, কেউবা আবার কানে শুনতে পায় না, আবার অনেকে আছে চোখে দেখতে পায় না, অনেকে আবার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। সমাজে তাদের বোঝা মনে করা হয়। অনেকে বিশ্বাস করেন এটি কোনো পাপের শাস্তি বা অভিশাপ।

পরিবার থেকে শুরু হয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিবন্ধকতা। একটা পরিবারের উচিত তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়া। কিন্তু তা না হয়ে পরিবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে তাদের পরিবারের বোঝা ভাবতে শুরু করে। এমন অনেক পরিবার আছে যারা জানেই না তাদের ঘরে থাকা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির চাহিদা। তারা অনেকেই বুঝতে পারে না তাদের কি দরকার এবং কি সুযোগ দেওয়া উচিত। যার ফলে শিশুরা নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ পায় না। কিন্তু পরিবারই পারে এই প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে দিতে, তার শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করতে এবং তার কি চাহিদা আছে তা জেনে সে অনুযায়ী তার সন্তানকে গড়ে তুলতে।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জীবনযাত্রার মান ফিরিয়ে দিতে পারে তাদের অধিকার সমূহ। আমাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে তাদের উপর। যা কার্যকর করতে হবে তাদের নিজেদের বিকশিত করার জন্য। তাদের চলার পথে বাড়তি সুযোগ সুবিধা দেওয়া উচিত, তাদের জন্য আলাদা বিদ্যালয় গড়ে তোলা উচিত, দরকার আলাদা কর্মক্ষেত্র যেখানে তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ দেওয়া থাকবে।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের জন্য অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো সমাজ। সমাজের মানুষ তাদেরকে হেয় চোখে দেখে। সমবয়সীরা তাদের সঙ্গে মিশতে চায় না। কিন্তু একটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সমাজের ধ্যান-ধারনার উপর। সমাজের মানুষ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অযোগ্য ভাবার কারণে তারা বিভিন্নরকম হেনস্তার সম্মুখীন হয়। তবে সমাজে মানুষের উচিত তাদের এসব প্রতিবন্ধকতায় না ফেলে তারা যে কাজে পারদর্শী সে কাজ করতে দেওয়া, তাদের তাদের মৌলিক চাহিদা গুলো বুঝিয়ে দেওয়া। সমাজের বোঝা না ভেবে তাদেরকে মানুষ ভাবা উচিত।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাভাবিক শিশুর তুলনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্যায়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা চারগুণ বেশি থাকে। অথচ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারা তাদের মৌলিক অধিকার। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি করুণা না করে, তাদের জন্য ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিভিন্নভাবে সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিত। সমাজের মানুষের বোঝা উচিত যে প্রতিবন্ধীরা অক্ষম নয়, তারাও কোনো না কোনো কাজে সক্ষম।

সুস্থ শিশু জাতির ভবিষ্যৎ। শিশু যদি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয় তাহলে তাকে নিয়ে পরিবারের মানুষের অনেক চিন্তা থাকে। যেখানে শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ, সামাজিক আচরণ, সামাজিক কল্পনা ইত্যাদি ক্ষেত্রসমূহে বেশ সমস্যা লক্ষ করা যায়। যদিও সঠিক চিকিৎসা নিয়ে এইসব শিশুকে সুস্থ করে তোলা যায়। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সুস্থ রাখতে তাদের সঙ্গে সমাজ এবং পরিবারের একটি সুন্দর সুসম্পর্ক গড়ে তোলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের পরিবারের প্রতিটা মানুষের উচিত তাদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

অনন্যা/জেএজে