Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কর্মজীবী মায়ের দুশ্চিন্তা দূর করতে ডে-কেয়ার

গ্রাফিক্স: অনন্যা

কর্মজীবী মায়েদের কর্মস্থলে নিশ্চিন্ত মনে কাজের পথে প্রথম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তার শিশুসন্তানের নিরাপত্তাজনিত চিন্তা। শিশু কোথায় আছে, কিভাবে আছে, কী করছে, এসব চিন্তা একজন মাকে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তার ভেতর রাখে। ফলে মা নিজের কাজে শতভাগ মনোযোগী হতে পারেন না। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পেশাজীবী নারীরা বলছেন, দেশে শতভাগ যত্নশীল ও নিরাপত্তাবেষ্টিত ডে কেয়ার থাকা জরুরি। তাহলে মায়েরা তাদের শিশু সন্তানকে ডে কেয়ারে রেখে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করতে পারবেন। আর সন্তানও থাকবে নিরাপদে।

এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘কর্মজীবী মায়েদের সন্তানের জন্য ডে কেয়ার কেন প্রয়োজন বলতে গেলে, কিছু প্রেক্ষাপট তুলে না ধরলেই নয়। মূলত নারীরা যেই হাতে বাচ্চার দোলনায় দোল দেন, সেই হাতে দেশের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিতও আছেন। কর্মক্ষেত্রে ও সাংসারিক দুই কাজেই নারীদের সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নারীদের ক্ষেত্রে এজন্য নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম কর্মজীবী মায়েদের সন্তানের জন্য ডে কেয়ার নেই। এজন্য অনেক নারী যোগ্যতা, দক্ষতা থাকলেও সন্তানের কথা ভেবে পিছিয়ে পড়ছেন। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন না। আপনারা যদি পরিসংখ্যান দেখেন, তবে বুঝবেন, ২০২০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী এদেশের অর্ধেকের বেশিই নারী। এখনকার মেয়েরা এসএসসি থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায়ে ভালো রেজাল্ট করছে। ওই অনুযায়ী বলাই চলে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষণীয়। তবে এই শিক্ষিত অংশের কতজন নারী নিজেদের পরবর্তী সময়ের জন্য তৈরি করে তুলছেন?’

অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা

ড. রেবেকা সুলতানা আরও বলেন, ‘বৃহৎ একটা অংশ পরিবারের চাপে ও বিশেষ করে সন্তানের দেখভালের অভাবে তার নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন কর্মক্ষেত্র থেকে। ২০২০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী দেখি মাত্র ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ নারী কর্মজীবী। কিন্তু দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অবদানের তুলনায় তা অনেকটা কম। যদিও এখন কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তার কারণ নারীরা অনেকেই স্বাধীন পেশায় নিজেকে নিযুক্ত করছেন। উদ্যোক্তা হচ্ছেন। এতে করে সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা করতেও হচ্ছে না আবার কিছু রোজগারও করছেন। এই থেকেও বোঝা যায় নারীর কাছে তার সন্তান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের জন্যই তারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন পারিবারিক আবহে।’ তিনি বলেন, ‘তবে বাইরের দেশগুলো যদি দেখেন দেখবেন বেশিরভাগ দেশেই সারকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডে কেয়ার আছে। ফলে সন্তানদের জন্য মায়ের ভাবনা নেই। তিনি মনোযোগ দিয়ে তার কাজে সর্বোচ্চটা দিতে পারছেন। কিন্তু এদেশে কর্মজীবী মায়েদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তার সন্তানটি সে বের হওয়ার পর কেমনভাবে আছে, কী করছে, এসব বিষয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। ফলে সরকারকে এখন অবশ্যই এদিকে নজর দেওয়া উচিত। সমতার জন্য। নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সরকারি উদ্যোগে কর্মজীবী মায়েদের সন্তানের জন্য ডে কেয়ার করতে হবে এটা এখন সময়ের দাবি। নাহলে দেশ জাতি পিছিয়ে পড়বে। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডে কেয়ারের ব্যবস্থা করলেও অনেকটা সমস্যার সমাধান ঘটবে।’

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মোছা. শামীমা খাতুন বলেন, ‘আমরা যারা কর্মজীবী মা, আমার মনে হয়, তাদের এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে সন্তানের নিরাপত্তা এবং তাদের যত্ন নেওয়ার মানুষের অভাব। একজন মা যখন তার আদরের সন্তানকে বাসায় দেখে রাখার কাউকে পান না বা অফিসে বাচ্চা রাখার পরিবেশ থাকে না, তখন হয়তো সেই মা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। অথবা বাসায় কারও কাছে রাখলেও হয়তো তিনি ঠিকমত বাচ্চার যত্ন টা নিতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে বাচ্চার হয়তো ঠিকমতো শারীরিক মানসিক বিকাশ হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা আমি মনে করি, আমরা যখন অফিস থেকে বাসায় ফিরি, সারাদিনের ক্লান্ত শ্রান্ত অবস্থায় আর বাচ্চার সঙ্গে ভালো করে কথাও বলতে ইচ্ছা করে না। আবার দেখা যাচ্ছে বাচ্চার সঙ্গে একটুতেই রেগে যাচ্ছি। এরকম পরিস্থিতে আসলে ডে কেয়ার সেন্টার খুবই জরুরি।’

মোছা. শামীমা খাতুন

এই বিচারক আরও বলেন, ‘একজন কর্মজীবী মা যখন জানবেন, তার সন্তান নিরাপদে আছে, ভালো আছে তখন স্বাভাবিকভাবেই তার অফিসে কাজে মনোযোগ বেড়ে যাবে, বাসায় যাওয়ার তাড়া থাকবে না। আসলে মায়ের কাছে সন্তানের ওপরে কিছু নেই। সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে একজন মায়ের ঘরের বাইরে কাজ করা একেবারেই সহজ হয়ে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক ড. শামীমা নাছরিন বলেন, ‘দেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা যেমন দিন দিন বাড়ছে ঠিক তেমনই একক পরিবারের সংখ্যাও বাড়ছে। আর এই অবস্থায় সবচেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে সন্তানেরা। সন্তান কোথায় বা কার কাছে থাকবে, এই উদ্বিগ্নতায় অনেক শিক্ষিত ও যোগ্যতা সম্পন্ন নারী তাদের লক্ষ্য টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। মনের বিরুদ্ধে গিয়ে অনেকক্ষেত্রে অবস্থান নিতে হয়। বর্তমানে কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে কেয়ার অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক যৌথ পরিবার নেই বললেই চলে। যৌথ পরিবার হলে চাকরি বা ব্যবসায় যখন মা চলে যান, তখন পরিবারের সদস্যদের কাছে সন্তানকে রেখে যেত পারতো। কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন। ফলে কর্মজীবী মায়েরা সন্তানের কথা মাথায় রেখে কর্মক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে পড়ছেন।’

ড. শামীমা নাছরিন

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘এখন মাতৃত্বকালীন ৬ মাসের ছুটির বিধান আছে। কিন্তু এরপরও কি মায়ের জন্য সন্তানের ভাবনা নেই ? তবে যদি সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে ডে কেয়ার থেকে, তবে সমস্যার সুরাহা হয়। আর এখন অহরহ নানারকম ঘটনা গণমাধ্যমে দেখা যায়। ফলে মায়েরা আরও আতঙ্কিত। এক্ষেত্রে সন্তানের জন্য নিরাপত্তা জরুরি। সত্যিকার অর্থে এখনকার দিনে কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে কেয়ারের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানাজ পারভীন রিমি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারী শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। তবে নারীর এই ক্ষমতায়নের পথটা মোটেও কুসমাস্তীর্ণ নয়। উত্তরণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীকে অতিক্রম করতে হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। কেননা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের পরিবার বা সমাজ যেভাবে একজন পুরুষের নিজস্ব পরিচয় তৈরিতে সচেষ্ট, নারীর ক্ষেত্রে চিত্রটি তেমন নয়। এর মধ্য দিয়েই নারী নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আত্মপরিচয় তৈরিতে আজকের এই আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ নারীই আগামী দিনের কর্মজীবী মা। নারীর এই ক্ষমতায়নের ফলে কর্মজীবী মায়ের সংখ্যাটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

শাহানাজ পারভীন রিমি বলেন, ‘নারীকে একইসঙ্গে পালন করতে হচ্ছে দুটো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মাতৃত্ব প্রতিটি নারীকে এনে দেয় পূর্ণতা। তবে কর্মজীবী মায়েদের ক্ষেত্রে এই পূর্ণতার সঙ্গে যুক্ত হয় একরাশ সংশয়, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কর্মক্ষেত্রে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাকে পড়তে হয় এক ভায়াবহ অনিশ্চয়তায়। উৎকণ্ঠার প্রধান কারণ থাকে সন্তানকে কোথায় এবং কার কাছে রেখে কর্মক্ষেত্রে যাবেন। কিছু ক্ষেত্রে বাবা সময় দিলেও অনেক সময়ই কর্মস্থল ভিন্ন জায়গায় হওয়ার কারণেও সম্ভব হয়ে ওঠে না। কর্মসূত্রে পরিবার থেকে দূরে থাকায় অনেকেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাহায্য না পেয়ে বাধ্য হয় গৃহকর্মীর ওপর নির্ভর করতে। কিন্তু বিশ্বস্ত মানুষ পাওয়া এসময় বেশ কঠিন। ফলে ঘটে যায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যা প্রায়শই সংবাদপত্রের শিরোনামে স্থান পায়। সেক্ষেত্রে,মায়েদের একাই সন্তানের দায়িত্ব নিতে হয়।’

শাহানাজ পারভীন রিমি

এই শিক্ষক বলেন, ‘সকাল হলেই একহাতে অফিসের ব্যাগ অন্য হাতে সন্তানকে নিয়ে তাকে ছুটতে হয় কর্মক্ষেত্রে। সন্তানের প্রতি এই দুশ্চিন্তা পরিণামে তার কর্মস্পৃহা ও সৃজনশীলতাকে ক্রমশ কমিয়ে দেয়। এই সব অনিশ্চয়তা থেকে অনেক সময়ই সন্তানের স্বার্থে অনেক শিক্ষিত ও যোগ্য নারী চাকরিতে যোগ দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন, অনেকে সিদ্ধান্ত নেন চাকরি ছেড়ে দেওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানকে রাখার একটা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে শিশু-দিবা-যত্ন কেন্দ্র কর্মজীবী মা-বাবাকে দিতে পারে মানসিক স্বস্তি। বিভাগীয় পর্যায়ে শিশু-দিবা-যত্ন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হলেও সেভাবে প্রসার হয়নি আঞ্চলিক পর্যায়ে।’

কর্মক্ষেত্রগুলোতে এমন ব্যবস্থা করা গেলে প্রয়োজনে মায়েরা সন্তানকে দেখার সুযোগ পাবেন উল্লেখ করে শাহানাজ পারভীন বলেন, ‘সন্তানকে রেখে মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগী হতে পারবেন। এক্ষেত্রে, শিশু-দিবা-যত্ন কেন্দ্রের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের হতে হবে দায়িত্বশীল, সৎ ও পরিশ্রমী যারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিষয়গুলো যত্ন সহকারে লক্ষ রাখবেন। শিশুদের এখানে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করা হবে। চাকরির ক্ষেত্রে কর্মজীবী মায়েদের কাছে সন্তান এবং সংসার তখন কোনো প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে না। আমার কর্মক্ষেত্র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষকদের শিশু সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য শিশু-দিবা-যত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থা রয়েছে, যা নিঃসন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সব কর্মক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানে এরকম শিশু-দিবা-যত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে কর্মজীবী মায়েদের কর্মমুখী করে তুলতে এবং সফলতা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। নারীর ক্ষমতায়নে যা একটা বাড়তি মাত্রা যুক্ত করবে।’

অ্যাডভোকেট শেখ কানিজ ফাতেমা

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাহিত্যিক শেখ কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘একজন কর্মজীবী মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, তার সন্তানের সুরক্ষা। একজন কর্মজীবী মাকে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে তার সংসার,কর্ম ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ঠিক রাখতে হয়। অনেক নারীকেই দেখা যায় মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন। তার বড় কারণ হচ্ছে, সন্তানের নিরাপত্তা। একটা সময় এমন ছিল যে আমরা যৌথ পরিবারে বসবাস করতাম। তখন বাচ্চারা একটা সুন্দর পরিবেশে বড় হতো। কিন্তু বর্তমানে যৌথ পরিবারের ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চারা আগের সেই সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ আর পাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মজীবী নারীদের জন্য তাদের সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ারর ব্যবস্থাটা খুব জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশে সব কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা পাই না। তখনই থেমে যায় নারীর উন্নয়ন।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘কত সম্ভাবনাময় নারী শুধু সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলেন। একজন মায়ের জন্য তার সন্তানের চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না। ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা যদি থাকতো, তাহলে মেয়েরা খুব নিশ্চিন্ত মনে কাজ করতে পারতো। এর ফলে সে তার কর্মক্ষেত্রেও ভালো করতে পারতো,সন্তানের চিন্তা করা লাগতো না। সন্তানের সুরক্ষার পাশাপাশি সমাজ তথা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো। সরকারের উচিত এবিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া। শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। তাই তাদের ভবিষ্যৎ এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ডে-কেয়ারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।’

ফেরদৌসী জ্যোতি

শিক্ষক ও নারী উদ্যোক্তা ফেরদৌস জ্যোতি বলেন, ‘মা হওয়া প্রতিটি নারীর জন্য গর্বের। একইসঙ্গে সন্তান জন্ম দিলেই আসলে অনেক পারিপার্শ্বিক অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় একজন মা’কে। বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েদের। মা হলেই সব সহজ হয়ে যায়, এমনটি নয়। কর্মজীবী মায়েদের একমাত্র চিন্তার বিষয় আদরের সন্তানকে কার দায়িত্বে রেখে যাওয়া যাবে। বাসায় সাহায্যকারী থাকলেও তাকে ভরসা করা যায় না, যদি না কর্মজীবী মায়ের পারিবারিক সার্পোট থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডে কেয়ার সন্তানকে রাখতে পারলে কর্মজীবী মায়েরা চিন্তামুক্তভাবে তাদের কর্মে মনোনিবেশ করতে পারেন। ডে কেয়ার একটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করে। একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, কর্মজীবী মায়েরা দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারেন। তাদের কাজের প্রতি বেশি মনোযোগ মানেই দেশের উন্নয়ন।