Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গণপরিবহনে ইভটিজিং বন্ধ হোক

নারীদের স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সাশ্রয়ী যানবাহন হলো গণপরিবহন। সেই গণপরিবহন এখন তাদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। বরং প্রতিনিয়ত ঘটছে ইভটিজিং-যৌনহয়রানির মতো ভয়াবহ ঘটনা।  একুশ শতকের সভ্য দুনিয়ায় এসেও নারীরা নিরাপদে চলতে পারছে না।  

গণপরিবহনগুলোয় নারীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রথমত বাসে উঠতে গেলেই কন্ডাক্টরের হাতের স্পর্শ এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। কন্ডাক্টররা কৌশলে নারীর শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা  করে। এই যেন তাদের পরম বাসনা! এই বাসনা পূরণের জন্য তারা ওঁত পেতে থাকবেই। সুযোগ পেলেই তাদের কদর্য মানসিকতার বলি হতে হয় নারীকে। 

এ তো গেলো গণপরিবহন-সংশ্লিষ্টদের অসদাচরণের কথা।  এরপর রয়েছে সমাজের কতিপয় মানুষের অসভ্য আচরণও। যাদের বিকৃত রুচি চরিতার্থ করার মোক্ষম ফাঁদ হয়ে উঠেছে গণপরিবহন! বিশেষত রাজধানীর সড়কগুলোয় বাসে চলতে গেলে প্রত্যেকটি নারীকেই কমবেশি এই শ্রেণীর মানুষের বিকৃত রুচির শিকার হতে হয়।  পাশাপাশি সিটে যদি নারী-পুরুষ উভয়ই বসে, তাহলে পুরুষরা এমনভাবে বসে, তাতে নারীকে বেশিরভাগ সময়ই নিজের সিটের অর্ধেক ছেড়ে দিতে হয়। কখনো কখনো পুরুষ সহযাত্রীরা নারীর শরীর-ঘেঁষে এমনভাবে বসেন, যেন কিছুই ঘটেনি। যেন তার পাশে যেই নারী বসে আছেন, তিনি কোনো মানুষ নন, নির্জীব কোনো বস্তু। পাশে বসা নারীটির যে অসুবিধা হতে পারে বা তিনি যে বিব্রত হতে পারেন পারেন, বিষয়টিকে ওই পুরুষ আমলেই নিতে চান না। 

এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদ করতে গেলে নতুন বিপাকে পড়তে হয় নারীকে। এক্ষেত্রে উল্টো নারীকেই অকথ্য কথা শুনতে হয়! কখনো কখনো পুরুষ সহযাত্রীরা বলেই বসেন,  ‘পাবলিক বাসে না উঠলেই হয়! পাবলিক বাসে চড়বেন, আর এইটুকু সহ্য করবেন না?’ আর যদি গণপরিবহনে ভিড় থাকে, তাহলে তো  কথাই নেই। কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার পুরুষদের ষোলো কলা ইচ্ছাই পূর্ণ হয়! অজুহাত দিয়ে নোংরা প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে চেষ্টা করে। আবার সিটে বসতে না পেরে দাঁড়িয়ে থাকা নারী গন্তব্যে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত  নানা রকমের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কখনো শরীর ছুঁয়ে, কখনো বা বাজে মন্তব্য করে পুরুষরা ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতেই থাকে। এই বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তিরা সময়-সুযোগ পেলে নারীকে ধর্ষণ করতেও ছাড়ে না। এই ধর্ষকদের সারিতে সুযোগসন্ধানী যাত্রী যেমন থাকে, তেমনি থাকে বাস ড্রাইভার-হেল্পাররাও। 

নারীরা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হলে বেশিরভাগই প্রতিবাদ করেন না। কারণ মুখ খুললে তাকে হয় গালি শুনতে হয়। নতুবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়। এমনকি যে নারী ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন তাকেই খারাপ মেয়ের তকমা সেঁটে দেয় বিকৃত রুচির পুরুষ চক্রটি। 

 

গণপরিবহনে নারীর চলাচলকে নিরাপদ করার জন্য রাষ্ট্রকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।  নারীদের জন্য আলাদা গণপরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে অবলীলায় নারীরা নিজেদের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত নারীদের জন্য শতভাগ আলাদা গণপরিবহনের ব্যবস্থা না হচ্ছে, ততদিন গণপরিবহনের অর্ধেক সিট নারীদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। আর নারীদের ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে গণপরিবহণকে চলমান রাখা যাবে না।  তাহলে আর চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা করার সময় সাহায্য করার উছিলায় কন্ডাক্টররা নারীর গায়ে হাত দিতে পারবে না।  ইভটিজিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও অনেকটা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।  এর বাইরে গণপরিবহনে পুলিশি নজরদারি বাড়াতে হবে। যখন যেখানে  যৌনহয়রানি বা ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটবে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে সেখানে যেতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আটক করতে হবে। দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে গণপরিবহনে যৌনহয়রানি ও ইভটিজিং কমে আসবে। একসময় চিরতরেই বন্ধ হয়ে যাবে।