Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সোশ্যাল মিডিয়াও নারীর জন্য নিরাপদ নয়!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদ আমরা ভোগ তো করছি বটেই, সাথে অভিশাপও কিছু কম দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে নারীদের জন্য। চলার পথে, গণপরিবহনে,  কর্মস্থলে, এমনকি নিজ বাসস্থান সব জায়গায়ই নারীর নিরাপত্তায় রয়েছে যথেষ্ট খামতি। এর ওপর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিত্যনতুন তৈরি হওয়া হয়রানি তো রয়েছেই।

 

আজকাল গণপরিবহন যেমন নারীর জন্য এক আতঙ্ক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও একই। প্রযুক্তির আর কোন বিষয়টি আমরা ঠিক কতটা আয়ত্ত করতে পেরেছি বলতে পারব না, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের যেকোনো দেশকে টেক্কা দেওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছি, বললেও খুব একটা ভুল হবে না।

 

 

বেশ কয়েক বছর আগেও অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে এতটা শোরগোল ছিল না। কারণ, তখনো আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত দক্ষতা ছিল না। ২০২০ সালের গোড়ার দিক থেকে করোনা মহামারীর কারণে যখন গৃহবন্দী হতে থাকে মানুষ, তখন প্রযুক্তির আশীর্বাদ খুব ভালোভাবে উপভোগ করতে থাকে সবাই। মানুষের জীবন বেশ অনেকটাই অনলাইন-নির্ভর হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই সময়টাতে অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা যেন লাগাম ছাড়া হয়ে যায়। আর সেই লাগাম যেন কোনোভাবেই টেনে ধরা যাচ্ছে না।

 

জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়, করোনাকালে বিশ্ব জুড়েই অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের হয়রানি ও যৌন-হয়রানির ঘটনা বেড়েছে৷ আমাদের দেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, দেশের তিন-চতুর্থাংশ নারীই সাইবার বুলিংয়ের শিকার।

 

 

বিভিন্ন জের ধরে নারীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হচ্ছে, আপত্তিকর বার্তা, ছবি এবং যৌন-নিপীড়নমূলক বার্তা পাঠানো হচ্ছে। আর এ-সব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় পরিবার এবং সমাজের ভয়ে প্রতিবাদ না করে নিজেদের গুঁটিয়ে নিচ্ছে অধিকাংশ নারী। কেউ হয়রানিমূলক বার্তা পাঠালে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে 'ব্লক' নামক অপশনটি বেছে নিচ্ছে প্রায় সবাই। আর এতে করে অন্যায়কারী আরো প্রশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে। 

তবে শুধু নারীরাই নয়, পুরুষরাও অনলাইন হয়রানির শিকার হয়। তবে এ তালিকায় যে নারীরা অনেকটা এগিয়ে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নারীর প্রতি অনলাইন-হয়রানি দিনের পর দিন এত বেড়ে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো:

 

* ইন্টারনেট সম্পর্কিত বিষয়ে পুরুষের তুলনায় নারীর স্বল্প-জ্ঞান।

* নারীর সরল বিশ্বাস।

* সামাজিক অবক্ষয় ইত্যাদি।

 

 
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কনসালটেন্ট জেনিফার আলম এ বিষয়ে বলেন, 'আমরা ইন্টারনেটে যখন বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি, তখন এমন কিছুই বলছি, যা আমরা সামনাসামনি বলতে পারি না। বাংলাদেশে বড় যে সাইবার ক্রাইমগুলো হয়, তার থেকে কমন একটি হলো সোশ্যাল মিডিয়া রিলেটেড। আমরা কিভাবে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপদ রাখতে হয়, তা ফলো করি না, এ-জন্যই হ্যারাসমেন্টের শিকার হই, আর তার পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহীনির কাছে যেতে চাই না। এ-জন্য যারা অন্যায় করছে, তারা আরো অন্যায় করার সুযোগ পায়।’

 
তিনি ইন্টারনেট জগতে নিজেকে নিরাপদ রাখার কিছু টিপস প্রদান করেন: 

১. আপনার সব ধরনের, বিশেষ করে ই-মেইলে চার ধরনের নিরাপত্তা চালু করবেন। 

২. সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলোতে টু-ফ্যাক্টর অন করবেন, একটা ইয়েল ব্যবহার করবেন, ডিভাইসগুলো রিকোগনাইজ করবেন। 

৩. সব ধরনের ছবি আপলোড করা যাবে না। যেমন, কোনো ভ্যালিড আইডি কার্ডের ছবি।

৪.  কেউ কোনো ধরনের একটা লিংক দিয়ে ভয় দেখিয়ে ক্লিক করতে বললে যাচাই না করে ক্লিক করা যাবে না। এতে আইডি হ্যাক হওয়ার সুযোগ থাকে। 

৫. কোনভাবে যদি কোনো হয়রানির শিকার হন, মনে রাখবেন আপনি কোন ধরনের সমস্যার শিকার হচ্ছেন, যা ঘটছে তার প্রমাণ স্বরূপ একটা লিংক রাখবেন, আর নিকটস্থ থানায় যত দ্রুত সম্ভব জিডি করবেন।