Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পুরুষ যেমন-তেমন হবেই, নারীকে হতে হবে সহনশীল!

 

সম্পর্ক বিষয়টি একটি পারস্পরিক সম্মানবোধ থেকে আসে। যে  সম্পর্কে সম্মান নেই, সে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। তবু নারীদের সম্মান জলাঞ্জলি দেওয়াটা একটা নিয়মিত আয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীরা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ছাড় দেওয়াটাকে স্টকহোম সিন্ড্রোম বলে। 

 

স্টকহোম সিন্ড্রোম কী? স্টকহোম সিন্ড্রোম হলো, যখন সব নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করে কোনো সুক্ষ্ম বিষয়কে আপন করে নিয়ে কোনো সম্পর্কে নারী টিকে থাকেন, সেটার মতো। নারীকে হাজার বছর ধরে সম্পর্কের হাল ধরার জন্য একটা সমঝোতার শিক্ষা দেয়া হয়, তার পরিবার থেকে। এই সমঝোতা করার সমস্ত দায় নারীকেই নিতে হয়। কারণ, সম্পর্কে পারস্পরিক দায়িত্ব বলেও যে কিছু আছে, সেটা এই সমাজ না পুরুষকে শিখিয়েছে,  না নারীকে। তাই পারস্পরিক দায়িত্বহীন সম্পর্কের হাল যখন নারীই ধরে, তখন নারীদের মুখে প্রচলিত একটা কথা বলতে খুব শোনা যায়। 'ওর রাগ বেশি কিন্তু মানুষ ভালো।'

 

যে মানুষ নিজের রাগ কোথায় দেখাবে, কোথায় দেখাবে না- এটা ঠিক করে জানে না, কোনো মানুষের মূল্যায়ন তার জীবনে সব চেয়ে বেশি, সে তা জানে না।  কোন সম্পর্ককে যত্ন নিতে হবে, যদি এটাই সে ঠিক মতো না জানে, সে কিভাবে মানুষ ভালো হয়?  রাগ যেখানে একজন মানুষের প্রবৃত্তি, সেখানে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করাটাই একটা মানবিক আচরণ।

 

কিন্তু নারীদের সেই হাজার বছর ধরে পাওয়া শিক্ষা।  সেই শিক্ষা বলে পুরুষ একটু যেমন-তেমন হবেই৷ কিন্তু নারীকে হতে হবে সহনশীল। তাকে সব মেনে নিয়ে সংসার আর সম্পর্ক আর সন্তান পালন করতে হবে!

 

কিন্তু এই শিক্ষা যে নারীকে মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ করে দেয়, সেটা কারো কাছে তেমন কোনো গুরুতর সমস্যা না৷ কারণ, সে অন্তত বেঁচে তো আছে। ভাত-কাপড়ের জায়গা তো এখনো আছে। এ-ছাড়া, অর্থনৈতিক ক্ষমতা বড় ক্ষমতা। পুরুষ যেখানে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী, সেখানে তারা তাদের অধীনস্থ নারীকে এত সম্মান আর কেনই-বা দেবে, তাই না?

 

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও একদমই অনুৎসাহিত করা হয়। কারণ, অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী যদি নারীরা হন, তাহলে ঘর দেখবে কে?  আর সাবলম্বী মানুষেরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে বোঝে৷  মেয়েমানুষ বুঝে গেলেও তো আবার একটা সমস্যা৷  তখন আবার নিজের অধিকার চেয়ে বসবে।

 

যা-ই হোক, নারীদের এই মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ করে রাখার কার্যক্রম হাজার বছরের একটা প্রথা। সেই প্রথা আধুনিক যুগেও আধুনিকতার সাথে টিকে আছে। হয়তো নারীদের ম্যানুপুলেট করার জন্য এখন অল্পতেই গায়ে হাত তোলা হয় না ঠিকই, কিন্তু মানসিকভাবে অনেক অংশেই এখনো নারীরা পিছিয়ে থাকে। কারণ, এটাকেই তারা স্বাভাবিকতা হিসেবে মেনে নিয়েছে৷ তারা এখনো মনে করে, পুরুষের কাজ বুঝি বাইরে কাজ করে ঘরের ভেতরে এসে খ্যাটখ্যাট করা।

 

নিজের পরিবার আর সমাজে নারীরা দেখে অভ্যস্ত যে, পুরুষরা এ-রকমই হবে।  তাই মানিয়ে নেওয়ার গুরু দায়িত্বটা তারই। নারীর বাইরে কাজ করাটা তার নিজের জন্যও একটা বিলাসিতা হিসেবে গণনা করে সে। এ-ছাড়া, পুরুষের রাগ নিয়ে প্রচলিত কিছু বৈধতা তো তার মগজ ধোলাই করছেই৷ 

 

আর তাই নারীরা মনে করে নেয়,  পুরুষ মানুষের রাগ বেশি হলেও হয়তো সে মানুষ হিসাবে খারাপ না।  কিন্তু এতটুকু সে বোধ করতে চায় না যে, সে নিজে কোনো ঘরে সাজানো পুতুল না। সে নিজে কোনো কেনা ক্রীতদাসও না৷  সে একজন আলাদা মানুষ,  একজন স্বতন্ত্র স্বত্তা,  যার সাথে রাগ দেখানো কিংবা যাকে অপদস্ত করার মতো অধিকার কারো নেই।