Skip to content

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারীর পোশাক নয়, পরিবর্তন দরকার সমাজের চিন্তাধারার

'ভিকটিম ব্লেমিং' বিষয়টি আমাদের সমাজে বেশ অনেকটা শেকড় বিস্তার করে বসে আছে। বিষয়টি দিনে দিনে যেন আরো নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষ করে, নারীদের প্রতি হওয়া সব অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন সব কিছুর বিপরীতে নারীকে দোষ দেওয়া হয়। নারীর প্রতি হয়রানি, ধর্ষণ, অশালীন মন্তব্য, যেকোনো বিষয়ে বিচারের আগে নারীকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। আর নারীর দিকে যে এক গাদা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয়, এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো, 'মেয়েটির পোশাক কী ছিল?' 

 

নারীদের পোশাক নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে রয়েছে নানা মত। কোন মেয়ের পরিবার কেমন,  চরিত্র কেমন, লেখাপড়ায় কেমন, সব কিছু পরীক্ষা করা হয় তার পরনের পোশাক দেখে। আমাদের সমাজ নারীকে কতটা সম্মান জানাবে, আদৌ সম্মান জানাবে কিনা তা নির্ভর করে নারীর পোশাকের ওপর। 

 

 

যখন কোনো নারী ধর্ষণ কিংবা হয়রানির শিকার হয়, অনায়াসে সমাজ নারীর পোশাক ও চলাফেরাকে দোষারোপ করে বসে। আর এ থেকে অন্যায়কারী যেন অন্যায় করার নীরব সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে। সমাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে, পোশাকের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে নারীকে চাইলে ধর্ষণও করা যায়। 

 

কিন্তু পোশাককে দোষারোপ করা মানুষ সাধারণত চোখের অর্ধেকটা ব্যবহার করে,  যা দিয়ে কেবল প্যান্ট, শার্ট বা পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরা মেয়েদের ধর্ষণ কিংবা হয়রানির খবরই দেখতে পায়। ছোট্ট কোলের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ মহিলা, কিশোরী, রাস্তার ধারের মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর ধর্ষণের খবর তাদের চোখে পড়ে না। তাই অনায়াসেই তারা পোশাককে দোষারোপ করে দায় সারে। 

 

 

নারীর পোশাক কিংবা চলাফেরার দিকে প্রশ্ন তুলে নারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায় একদল মানুষ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পুরুষের বেলায় ধরাবাঁধা পোশাক কিংবা ঘর থেকে বের হওয়ার নির্দিষ্ট সময় না থাকলেও নারীর সময় থাকে একাধিক বাধ্যবাধকতায় ভরা। আর সেই বাধা ভাঙতে গিয়ে যদি কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হয়, তবে ধর্ষককে বাহবা দিয়ে সমাজ বলে, 'বেশ হয়েছে'! 

 

ব্যস!  হয়ে গেল। ধর্ষক নেমে গেল খোঁজ করতে ১০টার পর ঘরের বাইরে কাজে আছে, এমন মেয়েকে পাওয়া যায় কিনা। বোরকা-হিজাব বাদ দিয়ে জিন্স পরেছে, এমন কোনো মেয়ে পাওয়া যায় কিনা। কারণ, এমন মেয়েদের ধর্ষণ করলে সমাজ উলটো মেয়েটিকেই দোষ দিয়ে দেবে। এমন সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? 

 

 

ধর্ষণ রুখতে সমাজ কেবল নারীর পোশাক এবং চলাফেরার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাই মনে করে। তবে এই অসুস্থ মানসিকতা সমাজে চলমান এ-সব অন্যায় কোনোভাবেই কমাচ্ছে না বরং বাড়াচ্ছে। তাই নারীর পোশাকের নয়, প্রয়োজন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতার পরিবর্তন।