Skip to content

২রা জুন, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ‘বাংলা’ আজ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’

আমরা বাঙালি, জন্মের পর থেকে তাই বাংলা ভাষাটা শুনি। আমরা কথা বলতে শিখি মায়ের কাছ থেকে। প্রথম বুলিটা বাংলা ভাষাতেই শেখা, তাই বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা।

বাঙালির মাতৃভাষা হলো বাংলা। বাঙালি বলতে শুধু বাংলাদেশিদের নয়, পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার ও আসাম জেলাতেও বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং বর্তমানে বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৩ কোটি। ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে তালিকাবদ্ধ ১৮টি ভাষার অন্যতম একটি, বাংলা।

বাঙালির এই রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে আনার জন্য করতে হয়েছিল আন্দোলন, দিতে হয়েছিল প্রাণ। তাই তো ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির জন্য অবিস্মরণীয় একটি দিন। শুধু বাঙালি না, বর্তমানে এই দিনটি গোটা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

 

অমর একুশ হিসেবে পরিচিত এই দিনটি বাঙালির জন্য ছিল যেমন বেদনার, একই সাথে সাফল্যের। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন হয়। এই আন্দোলনে পূর্ব বাংলার রাষ্ট্রভাষা বাংলা রাখার দাবি করা হয়। আন্দোলনে শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখ। তাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পেয়েছি । 

১৯৫৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। সর্বস্তরের মানুষ খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে অংশগ্রহণ করেন এবং শহিদ মিনারে গিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনসহ পুষ্পার্ঘ্য দেয়। ২০০১ সাল থেকে সারা বিশ্বে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এই দিনটি বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন। দিনটিকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে বাংলা একাডেমি-প্রাঙ্গণে অমর একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকার বাংলা ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে একুশে পদক প্রদান করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। 

'একুশ' নিয়ে প্রথম গান লেখেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। গানটি হলো, 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'। 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সব ভাষা শহিদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই 'বাংলা' আজ 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা'।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ