Skip to content

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারীবিদ্বেষীর আখড়ায় মসজিদ কমিটির আর কিসের ভয়!

একটি সমাজে আইনগত পদক্ষেপের চেয়ে কট্টরপন্থী মৌলবাদ কি বেশি শক্তিশালী? মানুষের বড় হয়ে ওঠার সাথে তার উপর কোন প্রভাবটি বেশী লক্ষ করা যায়? আইনের অনুশাসন নাকি ধর্মীয় অনুশাসন?

 

সকল স্তরের মানুষ যখন একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার সমাজে বেঁচে থাকে তখন কি তার কেবল নিজের ধর্মীয় অনুভূতির প্রাধান্যই দেয়া উচিত? নাকি সবাই যেন সবার মত সুন্দর পরিবেশে মিলে মিশে থাকতে পারে সেইরকম একটা পরিবেশ তৈরি করে দেয়া উচিত? কিন্তু প্রায়ই কি আমরা কেবল নিজের সুবিধা চিন্তা করে অন্যদের একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলে দেই না?

 

দুদিন ধরে একটা খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মসজিদে নাকি মাইকিং করে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। অপরাধ হলো তাঁরা তাদের মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়েছেন উচ্চশিক্ষার জন্য। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের একটি মেয়ে ঝর্ণা চৌধুরী।  তিনি ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন। তখন সংগঠনের সাথেও নারী ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। একারণেই তিনি সে এলাকার একজন বিরাগভাজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। গত ২৬শে ডিসেম্বর তিনি যখন বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য পারি জমান। 

 

তখন কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির আহবানে ঝর্ণা চৌধুরীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়। পরে ঝর্ণা চৌধুরী কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির সাথে যোগাযোগ করে জানতে চান, তাদের অপরাধ কি? মসজিদ কমিটি জানায়, সনাতনী ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হওয়ার অপরাধে তাকে নিয়ে বিচার পঞ্চায়েত গঠন করা হয়েছে। যদিও উল্লেখিত বিষয়টি ইউএনও পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং মসজিদ কমিটিকে সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা এমন বিদ্বেষমূলক আচরণকে আর প্রশ্রয় না দেয়। 

কিন্তু এইরকম একটা ঘোষণা দেয়ার মত ঔদ্ধত্য কি করে একটা কেন্দ্রীয় মসজিদ পেতে পারে সেটা এক তাজ্জব ব্যাপার। এই ঔদ্ধত্য নিশ্চয়ই একদিনে ফুলে ফেঁপে ওঠেনি। এরজন্য সেই এলাকাবাসীরাও যথেষ্ট তেল পানি দিয়ে তাদেরকে মাথায় তুলে রেখেছে। শুধু তাই না, বাংলাদেশের সর্বোপরি  চিত্রটাও তো খুব একটা ভিন্ন না। নারীদের পোশাক থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্তও বিচার করাটা দৈনন্দিন আড্ডা হিসেবে বহুল প্রচলিত। যেন একদিন কোনো মেয়েকে ভালো কিংবা খারাপ না বললে পরিপূর্ণ একটি দিন পার করা হয়না। 

 

জনমনে এই নেতিবাচক মনোভাবই প্রতিফলিত করে এই কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির কার্যকলাপ। তখন আইনের অনুশাসন উপেক্ষিত হয়ে যায়। আর যেহেতু মসজিদ কমিটিকেই এলাকাবাসীরা রাজা বানিয়ে রেখেছে, সেহেতু মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করাকে তাদের নজর আন্দাজ না করলেও চলে। কারণ সমাজই যেখানে নারী বিদ্বেষের পৃষ্ঠপোষক, মসজিদ কমিটি তখন থোড়াই পরোয়া করে আইনের অনুশাসন।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ