Skip to content

৪ঠা জুন, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার জয়ী শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী আর নেই

 

দীর্ঘদিন থেকেই কিডনি ও রক্তে সংক্রমণসহ নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে তাকে ঢাকায় আনা হয়। পরে গত ১৪ ডিসেম্বর ভর্তি করা হয় সিএমএইচে।

 

একাত্তরের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নারীনেত্রী ও সাহিত্যিক এবং উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি মুশতারী শফীর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দুই ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার জয়ী শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী

 

১৯৩৮ সালের ১৫ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুশতারী শফীর জন্ম। বাবার বাড়ি ফরিদপুরে। একাত্তরের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার স্বামী মোহাম্মদ শফী ও ছোট ভাই এহসানকে পাকসেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি চট্টগ্রামে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

এর আগে ষাটের দশকে নারী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা মুশতারী শফী নব্বইয়ের দশকে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন জোরদার হলে সেখানেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে ভূমিকার পাশাপাশি এতে নেতৃত্বও দেন। জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে এই শহীদজায়া।

 

দীর্ঘ জীবনে প্রবন্ধ, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, কিশোর গল্পগ্রন্থ, স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ লিখেছেন মুশতারী শফী। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ এই অবদানের জন্য তাকে ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ওপর তার লেখা গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী’, ‘চিঠি, জাহানারা ইমামকে’ ও ‘স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন’। স্বাধীনতাযুদ্ধে অনন্য ভূমিকার জন্য ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি তাকে ‘ফেলোশিপ’ প্রদান করে। ২০২০ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘রোকেয়া পদক’ পান তিনি।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ