Skip to content

৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদায় বাংলাসাহিত্যের ‘আগুনপাখি’!

দেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। বাংলা সাহিত্যে যিনি জ্বালিয়েছেন একের পর এক মশাল৷ গতকাল রাতে সাহিত্যাঙ্গনকে বেশ অনেকটাই শোকাচ্ছন্ন করে চলে গেলেন প্রখ্যাত এই কথাসাহিত্যিক।

  

৮২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় নিজ বাস ভবনে তিনি মারা যান। 

 

হাসান আজিজুল হকের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ দোয়া বখশ্ এবং মায়ের নাম জোহরা খাতুন। জন্ম পশ্চিমবঙ্গে হলেও জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি পার করেছেন রাজশাহীতে।  

 

১৯৫৪ সালে যবগ্রাম মহারানী কাশীশ্বরী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৬ সালে খুলনার দৌলতপুরের ব্রজলাল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।  ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ (রাজশাহী কলেজ) থেকে দর্শনে স্নাতক এবং ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

 

তাঁর কর্মজীবনও ছিলো বেশ বর্ণীল। তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি ব্রজলাল কলেজ অধ্যাপনা করেন। ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন হাসান আজিজুল হক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন।হাসান আজিজুল হক ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে দায়িত্ব পালন করেন।

 

হাসান আজিজুল হকের লেখা জনপ্রিয় কিছু গল্প- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, জীবন ঘষে আগুন, নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, আমরা অপেক্ষা করছি, মা-মেয়ের সংসার ইত্যাদি। তাঁর লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস আগুনপাখি। এছাড়াও তাঁর লেখা আরো ২ টি উপন্যাস হলো সাবিত্রী উপাখ্যান ও শামুক। প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে কথাসাহিত্যের কথকতা, অপ্রকাশের ভার, অতলের আঁধি, চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি। আত্মজীবনী: ফিরে যাই, ফিরে আসি,উঁকি দিয়ে দিগন্ত, টান, লন্ডনের ডায়েরি ইত্যাদি। 

 

তাঁর বিভিন্ন সৃষ্টিকর্মের জন্য পেয়েছেন বিভিন্ন  পুরস্কার ও সম্মাননা। ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক এবং ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ লেখক শিবির পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, দিবারাত্রির কাব্য সাহিত্য পুরস্কার (পশিচমবঙ্গ),  শওকত ওসমান সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

 

২০১২ সালে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি পান হাসান আজিজুল হক। দীর্ঘদিন বিভিন্ন অসুস্থতায় ভোগার পর, তাঁর রাজশাহীর বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে যেনো ঝরে গেলো বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বলতম এক নক্ষত্র।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ