Skip to content

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকাসহ ৪ নারীর লাশ উদ্ধার

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় মাজার-ই-শরীফ শহরের একটি বাড়ি থেকে চার নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা গত সপ্তাহে ওই হত্যালীলা চালালেও বিষয়টি গতকাল রবিবার প্রকাশ্যে আসে। তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারি সাইদ খোস্তি এ বিষয়ে টুইটারে জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে এর বিচার হবে। কে বা কারা এই খুনগুলোতে জড়িত, সেটি অবশ্য প্রকাশ্যে আনেনি তালেবান সরকার।

 

জানা গেছে, যে চারজনকে খুন করা হয়েছে, তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল।
কারা খুন হয়েছেন, তাও জানানো হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই ব্যক্তি ওই নারীদের সেই বাড়িতে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। আটকদের আদালতে তোলা হয়েছে।

 

মাজার-ই-শরীফের তিনটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা শুনেছেন যে ওই নারীরা একটি ফোন কল পেয়েছিলেন। কেউ হয়তো তাদেরকে উদ্ধার ফ্লাইটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তাদেরকে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার কথা বলেছিল। এরপর একটি গাড়িতে করে তাদের তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। জানা গেছে,  নিহত চার নারী বন্ধু ও সহকর্মী ছিলেন। 

 

নিহতদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা এবং নারী অধিকারকর্মী রয়েছেন, যার নাম ফ্রোজান সাফি। গুলিতে তার শরীর পুরোপুরি ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। সাফির বোন রিতা জানান, ‘আমরা তাকে তার পোশাক দেখে চিনতে পেরেছি। বুলেট তার চেহারা নষ্ট করে দিয়েছে। তার মাথায়, হৃদপিণ্ড, বুকে, কিডনি এবং পায়ে অসংখ্য গুলির ক্ষত ছিল, যা গণনা করার মতো নয়, এতো বেশি।’

 

ঊনত্রিশ বছর বয়সী ফ্রোজান একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়াতেন। তালেবানরা দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানিস্তানে সরকার গঠন করার পর থেকেই ভয়ে থাকতেন ফ্রোজান।

 

নিহত বাকি তিন মহিলার পরিচয় জানা যায়নি। যে দেহগুলো উদ্ধার হয়েছে, তার মধ্যে বাকি তিনজনই মহিলা কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বলখ প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাবিউল্লা নূরানি অবশ্য আগেভাগেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে।