Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আজ শুভ ভ্রাতৃদ্বিতীয়া

''ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।" এই কয়েকটি লাইন আজ প্রায় সব হিন্দু পরিবারেই উচ্চারিত হচ্ছে। কারণ আজ ভাইফোঁটা। হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছে অন্যতম একটি উৎসব এই ভাইফোঁটা। যেখানে বোনেরা এই লাইনগুলোর মাধ্যমে ভাইয়ের দীর্ঘজীবন কামনা করে থাকেন। 

 

ভাইফোঁটার দিন বোনেরা ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে এই ছড়া বলে ও বোনেরা ভাইদের দীর্ঘজীবন কামনা করে। আর সেই সাথে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেয় ভাইয়েরাও। হিন্দু ধর্মের নিয়মানুসারে ফোঁটা দেয়ার সময় শঙ্খ বা উলু বাজানো হয়। মিষ্টি, পায়েস সহ ভাইবোনদের পছন্দের খাবারও থাকে এই অনুষ্ঠানে।  ভাইফোঁটা দেয়ার পর বোনদের উপহার দেন ভাইয়েরা। এই উৎসবটি মূলত ঘরোয়াভাবেই পালিত হয়। 

 

আজ ৬ নভেম্বর, পালিত হচ্ছে ভাইফোঁটা। ভাইফোঁটাকে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠানও বলা হয়। বাঙালি হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ২য় দিনে উদযাপিত হয়। মাঝেমধ্যে এটি শুক্লপক্ষের ১ম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে। পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামেও পরিচিত। সেখানে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। 

 

ভাইফোঁটা রীতি নিয়ে অনেক ধরণের ইতিহাসই কথিত আছে। যেমন, এই দিন মৃত্যুর দেবতা যম, তার বোন যমুনার হাতে ফোঁটা নিয়েছিলেন। অন্যদিকে শোনা যায়, নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর কৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে যখন এসেছিলেন, তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে তাকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকেই ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়। 

 

তবে ইতিহাস যাই থাক, আর বিভিন্ন স্থানে যেভাবেই পালন করা হোক না কেন এই উৎসবটি পালন করার মূল লক্ষ্য ভাইবোনদের মধ্যে একটি মিষ্টি সম্পর্ক বজায় রাখা। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল ভাইবোন, অটুট থাকুক বন্ধন।