Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওজন কমাতে গিয়ে স্বাস্থ্যহানি 

একজন মানুষের স্বাস্থ্যকর ওজন খুবই জরুরি কারণ অতিরিক্ত ওজন বাড়া যেমন ক্ষতি করে একইভাবে অতিরিক্ত ওজন কমানোও ক্ষতিকর। তবে এই ওজন কমানোর জন্য যখন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ইন্টারনেট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে ডায়েট চার্ট তৈরি করে সেই অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে হতে পারে নানান ধরনের শারীরিক সমস্যা।

ওজন কমানো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যহানিও ঘটায় বলে চিকিৎসকগণ মতামত দেন। কারণ ওজন কমানোর ফলে অনেকের মধ্যেই মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়, শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায় এছাড়া রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই অনেক সময় বিশেষজ্ঞরা শরীরচর্চার পরামর্শ দেন না।

ওজন কমানোর জন্য নিজের শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ওজন কমাতে গিয়ে যেসব বিপদ আসতে পারে এগুলো হলো-

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরের জন্য পুষ্টিকর ও উপকারী এবং ওজন কমাতে গিয়ে কমবেশি সবাই প্রোটিনের উপর ভরসা রাখেন। তবে অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে ক্ষতি হতে পারে অন্ত্রের। কারণ এই খাবারে অভাব থাকে ফাইবারের, তাই ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। 

অনেকে আছেন যারা ওজন কমানোর জন্য ডায়েট করে থাকেন৷ এক বেলা না খেয়ে থাকেন কিংবা অনেকক্ষণ পরে একবার খান। আবার অনেকে আছেন যারা সারাদিন না খেয়েই থাকেন। খাওয়া দাওয়ার এই অনিয়ম হয়তো ওজন কমায় ঠিকই তবে ডেকে আনে শারীরিক সমস্যা। দেখা যায় শরীরের চর্বির বদলে পেশিও কমতে পারে এবং শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পায়। 

খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম অর্থাৎ খুব অল্প পরিমাণে খাওয়া কিংবা না খেয়ে থাকার ফলে পেট দীর্ঘক্ষণ খালি থাকে তখন অবশিষ্ট খাবার ও রস দীর্ঘ সময় ধরে পরিপাকতন্ত্রের ভেতর থাকে এবং ক্ষুদ্র কথাগুলো একত্রিত হয়ে একটি পাথর তৈরি করে। এই পাথর পিত্তথলিতে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি করে। 

ওজন কমাতে গিয়ে অল্প পরিমাণে খেতে গিয়ে দেখা যায় শাক-সবজি কম খাওয়া হয়। কিন্তু শরীরে সব ধরনের খনিজ ও ভিটামিন থাকা প্রয়োজন। কারণ শরীর প্রয়োজনমতো পুষ্টি ও ভিটামিন না পেলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হতে শুরু করে এবং শরীরে বিভিন্ন সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ায়।

অনেক সময় এমন হয়ে যায় যে শরীর সব পুষ্টি উপাদান সমানভাবে না পেলে ত্বক প্রভাবিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাব ব্রণ, নিস্তেজ ত্বক, ব্রেকআউটের কারণ হতে পারে। ত্বক সুস্থ রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। 

নিজের মতো করে ডায়েট চার্ট তৈরি করার ফলে দেখা যায় সকলেই প্রায় কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খায় ফলে ডায়েট চলাকালীন সময়ে কিছু পুষ্টি, খনিজ ও ভিটামিনের অভাবে চুল পড়তে পারে।

তাই ওজন কমাতে হলেও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং খাদ্য তালিকায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। স্বাস্থ্যহানি হয় এমন কিছু থেকে বিরত থাকা উচিত।