Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অনন্যার ৩৪ বছর

'কেউ কথা রাখেনি' কবিতায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আক্ষেপ করেছিলেন, 'তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখল না।' পাক্ষিক অনন্যার তেত্রিশ বছর কেটেছে, অনন্যা কথা রেখেছে।' কথাগুলো বলছিলেন অনন্যা পুরস্কার প্রাপ্ত কবি ও কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান। জন্মদিন উপলক্ষে তৈরি ভিডিওতে ঝর্না রহমান ছাড়াও অনন্যার অনন্য ভূমিকা নিয়ে কথা বলছিলেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, শিক্ষাবিদ ড. সাদেকা হালিম, ভোকাল আর্টিষ্ট পিঙ্কি চিরান, শিল্পোদ্যোক্তা মুনিরা ইমদাদ প্রমুখ। এরা সকলেই কৃতি নারী, ধারণা করি বৃহত্তর অনন্যা পরিবারের সাথে তারা সংশ্লিষ্ট আর অনন্যা নারীর সমানাধিকারের জন্য কাজ করে, নারীর কথা বলে। ভিডিওটি তৈরি করেছে অনন্যার সাথে কাজ করা একদল তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী যারা সৃষ্টিশীল, নবচেতনা, নবউদ্ভাবনে মগ্ন। তরুণ প্রজন্মে গভীর আস্থা তাসমিমা হোসেনের যিনি নবীনদের সাথে কাজ করতে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন তাদের, নিজের চারপাশে জড়ো করেছেন ডিজিটাল প্রজন্ম।

কারওয়ান বাজারের ইত্তেফাক ভবনের ১১ তলায় উঠে মাজেদা বেগম মিলনায়তনে গিয়ে আমি এই ডিজিটাল প্রজন্মের বেশ কয়েকজনকে দেখতে পাই, দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছিল তারা। আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে আমিই প্রথম আর আমি বোধকরি একটু আগেই পৌঁছে গেছি, ফলে ঘরগোছানো চোখে পড়ল। দুপাশে ছয় ছয় বারো সিটের লম্বা বৈঠকি টেবিলের উপর দশ মাইক আর চৌদ্দ পানির বোতল সাজানো। টেবিলের হোস্ট সাইডের দুদেয়ালে দুটি ব্যানার, তাসমিমা হোসেন যে প্রান্তে বসলেন, সে প্রান্তে রিয়েল ব্যানার, বিপরীত দেয়ালে ভার্চুয়াল ব্যানার, ভারি সুন্দর ডিজাইন দুটোরই, অনন্যার জন্মদিনের নীল সাদা কেকটি ব্যানারের মূল নকশা মেনে  অনিন্দ্য সুন্দর। তাসমিমা আপা বললেন, বাংলাদেশে এখন এত সুন্দর নকশার কেক তৈরি হয়, দেখে ভালো লাগছে।

সেই কেক কাটার সময় তাসমিমা হোসেন, প্রথম অনন্যা তিনিই, চাইলেন সবাই পেছনে এসে জড়ো হোক, একটা জমজমাট দলগত ছবি তোলা হোক। কোভিড জড়তা সকলের মাঝেই কমবেশি সক্রিয়, তার নিজেরও তা মনে পড়লো বোধকরি, কেক কাটলেন একা একাই সকলের দিকে সহাস্য তাকিয়ে, রসিকতা করে বললেন, 'আমার কেক, আমিই কেটেছি, আমিই নিজেকে খাইয়ে দেই।' তার রসবোধ প্রবল, আজ ছিলেন উচ্ছ্বাসপূর্ণ। তাকে আমি যতবারই দেখেছি ততবারই মুগ্ধ হয়েছি। কখনো শিশুর মতো সরল, কখনো কিশোরীর মত চপল, কখনো যুবতীর মতো সৌন্দর্য সচেতন, কখনো (না আমি কখনোই তাকে প্রবীণা বলব না), অগ্রগামী বয়সের মতো প্রাজ্ঞ, কর্তৃত্ববান। এখন অগ্রগামী বয়সে এসে ভাবছেন প্রবীণাদের জন্য কি করা যায়, কিকরে তাদের চাঙা রাখা যায়। পড়ন্ত সূর্যকে তো আর ঠেলে মধ্যগগনে নেওয়া যাবে না, তাকে গ্রাস করতে আসে যেসব মেঘ, কারো নাম 'নিঃসঙ্গতা', কারো নাম 'উপেক্ষা', কারো নাম 'সংসারের বোঝা', সরিয়ে উজ্জ্বল করে রাখা যায়।

তবে এসবই পরের কাহিনী। আগের কাহিনী হলো আমি যখন, মিলনায়তন না বলে মিটিং রুম বলাই ভালো, ভেতরের ছবি তুলছি তখন প্রথমে ম্যারিনা নাসরিন, নামের সাথে ম্যাচ করে ম্যারিন ব্লু পোশাক পরে এলেন। এরপর যিনি এলেন তিনি পোশাকের নকশাকার, ফ্যাশন ডিজাইনার, বাংলার পোশাকের প্রমোটার। কিশোরী বয়সে বিলেতে গিয়েছিলেন ফ্যাশন ডিজাইন পড়তে, যৌবনে হয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন মডেল। তিনি বিবি রাসেল, বাঙালি নারীর স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যের বিচারে অস্বাভাবিক লম্বা (কিশোরী বয়সে নাকি শুনতেন পড়শিদের উৎসুক্য আর আত্মীয়দের উদ্বেগ- এ মেয়ের বর কোথায় পাওয়া যাবে, কে একে বিয়ে করবে ইত্যাদি) আর কৃতিতে অনেক পুরুষের চাইতেও দীর্ঘকায়া, অনেক বেশি বিখ্যাত। তিনি চোখে পরেছেন তার একটি সিগনেচার ডিজাইন পেইন্টেড ফ্রেমের গোল চশমা। তাসমিমা হোসেন আসার আগে বিবি রাসেলের কথামালা ক্যামেরায় রেকর্ড করেছেন পিয়াল নামের একটি মেয়ে। আর কাউকে না পেয়ে  অনুভূতি ব্যক্ত করা দ্বিতীয় মানুষটি হলাম আমি। বিবি রাসেলের কথা শুনতে শুনতে আমি কাচের দেয়ালের উপরে ছাদসংলগ্ন এক সংবাদপত্র দৈর্ঘ্যের জায়গাজুড়ে দৈনিক ইত্তেফাকের কিছু ঐতিহাসিক সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠার কপি দেখি। দূর থেকে আমি শুধু হেডলাইনগুলো পড়তে পারলাম। এগুলোর মাঝে বিশেষ ভাবে চোখে পড়লো ইন্দিরা গান্ধীর ঐতিহাসিক ঢাকা সফরে আসার দিনের প্রধান হেডিং কালো কালিতে 'জনগণমন অধিনায়ক' আর লাল কালিতে লেখা 'জয় হে ভারত ভাগ্যবিধাতা'। আরও দুটি ঐতিহাসিক দিনের মেইন হেডিং 'বিশ্ব বিবেক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে', এবং 'সাবাস বাঙ্গালী অবাক পৃথিবী,তাকিয়ে রয়'। 'বাঙালি' বানান ''বাঙ্গালী' দেখলাম, তখন সেটাই বানানরীতি ছিল। প্রায় সবগুলো সংখ্যাতেই বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি লক্ষণীয়। একটি হেডিং হলো 'মস্কোয় বঙ্গবন্ধু'; আরেকটি 'বাংলা রুখিয়া দাঁড়াও'। চোখে পড়লো বঙ্গবন্ধুর উক্তি, 'বাংলাদেশ কাহারও নির্দেশিত পথে চলবে না।' বাংলাদেশের ইতিহাসকে ইত্তেফাকের মতো আর কোনো দৈনিক কি ধারণ করেছে? কেউ নয়।

তারও আগে আমি অনন্যার তৈরি ছোটো পোস্টারগুলো, যেগুলো বিতরণ করা হয়েছে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, পড়ছিলাম। নারীর বিপন্নতা আর নারীর সমানাধিকারের ভাষায় বাঙ্ময় পোস্টারগুলো। প্রথম পোস্টারটিই চমকে দেয়, 'শত সরস্বতী যায় ঝরে/যত লক্ষ্মী সাজানোর ঘোরে', বাল্যবিবাহের নিরেট বাস্তবতার প্রতি আঙুল তোলে। নারী নির্যাতন বিরোধী দুটি পোস্টার- "বাড়ন্ত শৈশবের ঘুড়ি/ উড়তে দাও, নির্যাতনের লাটাই ধরা হাত/ গুঁড়িয়ে দাও' শ্লোগানধর্মী হলেও কাব্যিক, তবে ছবিটি সুস্পষ্ট নয়। "নির্যাতন করা মানেই/নয় পুরুষত্ব /অপরাধী সে/বিকৃত মনুষ্যত্ব" দুর্বল ছড়া, ছবি সুস্পষ্ট। "উপহারের নামে যৌতুক/ আর নয় কৌতুক" অন্ত্যমিলের সহজ কথা, ছবির নবপরিণীতার সিঁথিতে রক্তলালজবা আর টকটকে লাল শাড়ি ব্লাউজ সাদাকালোয় অপরূপ ফুটেছে, নারীটি যদিও বিপর্যস্ত যৌতুকের চাপে। ইভটিজিং নিয়ে পোস্টারের ছবিটি সুন্দর হলেও কথা এলোমেলো "ইভ টিজিং কি কুলনেস বাড়ায়?/ আর কত নিচে নামলে থামতে শেখা যায়?।" শেষ পোস্টারটি একজন ভয়ার্ত নারীর ছবির পাশে , 'পা বাড়ালেই আবারও সেই ভয়/এই পৃথিবীর কোথাও কি আমার নয়?' অন্ত্যমিলে লেখা।

বিবি রাসেল তার বক্তৃতায় বললেন করোনা মহামারী আমাদের দুটি জিনিষ শিখিয়ে গেছে:
১। কেমন করে ডিজিটাল হওয়া যায়।
২। তোমরা সকলে মানবিক হও, পরিবেশ বান্ধব হও।

আমি নারীকে এগিয়ে দিতে, নারীর অধিকার রক্ষায় অনন্যার অনন্যসাধারণ ভূমিকার প্রশংসা করলাম। বললাম, আমরা এগুতে পারিনি, এখনো প্রচুর বাল্যবিবাহ হয়, কোভিডকালে লক্ষ্মীর সংখ্যা বেড়েছে, সরস্বতীর সংখ্যা কমেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা, ইভ টিজিং কমেনি, বরং বেড়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ নিয়ে স্বাধীন হওয়া দেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা দেখছি দেশ জুড়ে পূজামণ্ডপে আক্রমণ, হিন্দুদের বাড়িঘর পোড়ানো।

আমি যখন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে পরিপার্শ্ব অচেতন হয়ে কথা বলছিলাম সেসময় তাসমিমা হোসেন এলেন। সঙ্গে 'বৃহস্পতির আড্ডা'র তিন কবি রোকেয়া ইসলাম, তাহমিনা কোরাইশি ও নাহার আহমেদ। এর আগে এসেছেন ঝর্না রহমান, হাসান আলী ও ফারুক ফয়সল। একটু পরেই এলেন ফরিদুর রহমান। তাসমিমা হোসেন গিয়ে বসলেন হোস্ট প্রান্তে। ফরিদুর রহমানের ভ্রমণকাহিনী লেখার প্রশংসা করলেন অকুণ্ঠচিত্তে। হাসান আলী যিনি প্রবীণদের নিয়ে গবেষণা করেন,  নিবন্ধ লিখেছেন ২৫০-৩০০, বই লিখেছেন দুটি, তার কাছে মতামত চাইলেন প্রবীণদের নিয়ে কি কি করা যায়? এখন নিজেই যখন সেই বয়সের ব্রাকেটের ভিতর ঢুকে যাচ্ছেন তাসমিমা হোসেন, বাংলাদেশের কোনো জাতীয় দৈনিকের প্রথম নারী সম্পাদক, ৩৪ বছর আগে নারীদের নিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন 'অনন্যা', বললেন কি করে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে একটি কক্ষ, তার ভাষায় 'দখল' করে অনন্যা শুরু করেছিলেন সেই সংগ্রামমুখর দিনগুলোর কথা। তখন দৈনিক ইত্তেফাক ছিল রামকৃষ্ণ মিশন রোডে। অনেক বছর পরে যখন জাতীয় দৈনিকটি কারওয়ান বাজারে  নিজস্ব বহুতল ভবনে চলে এলো। তারও কিছুদিন পরে তিনি ফের একটি তলা 'দখল' করলেন। বললেন, 'ইত্তেফাকের সম্পাদকের পদও 'দখল' করেছি (হাসি)।' এরপর আরও একটি তলা, যেখানে শাশুড়ির নামে এই মিলনায়তন বানিয়েছেন। শাশুড়ি মাজেদা বেগমের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেন এই বলে যে মানিক মিয়ার পরিবারের যত সম্পত্তি তার বেশিরভাগ এই নারীর বিচক্ষণতার ফসল। স্বামী পত্রিকা ও রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকত, সম্পত্তি বানানোর দিকে খেয়াল ছিল না।

কিছু বলতে অনুরোধ করলে বিবি রাসেল বললেন, ৯৪ সালে তিনি যখন প্রথম বাংলাদেশে আসেন তখন অনন্যাই তাকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় (অনন্যা শীর্ষদশ); আর সে পুরস্কার তিনি গ্রহণ করেছিলেন শ্রদ্ধেয় কবি সুফিয়া কামালের হাত থেকে। বাংলাদেশের তাঁতশিল্পকে বাঁচানোর যে সংগ্রাম বিবি রাসেল চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আর্থিক সহায়তাও অনন্যা সম্পাদক দিয়েছেন। তিনিই একমাত্র এবং তিনিই সর্বশেষ দাতা। সুতরাং অনন্যার কাছে তার ঋণ অসীম, তাসমিমা ডাকলে তিনি 'না' এসে পারেন না, যত কাজই থাকুক না কেন।

তার কথা থেকে জানলাম তাসমিমা হোসেনের পরিবার ও বিবি রাসেলের পরিবার প্রতিবেশী ছিলেন, তারা পরস্পরকে চেনেন বহুবছর ধরে। তাসমিমা হোসেনের ডাকনাম টিপটিপ তার পছন্দ; স্মরণ করলেন টিপটিপরা একেক বোন একেক বোন থেকে সুন্দরী, নর্থ বেঙ্গলের নামকরা সুন্দরী পরিবার। তাসমিমা হোসেন জানালেন বিবি রাসেলের বাবা প্রয়াত মোখলেসুর রহমান ছিলেন একজন আধুনিক মানুষ এবং প্রথম দিককার একজন শিল্পোদ্যোক্তা। তিনি বৌকে নিয়ে পঞ্চগড়ের ডোমারে গিয়েছিলেম মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করতে সেই আমলে! ভাবা যায়?

প্রবীণাদের নিয়ে কি করা যায়, অনন্যা কি করতে পারে তা আজকের আলোচনার কেন্দ্রে রইল। হাসান আলী বললেন আমাদের সাহিত্যে প্রবীণরা উপেক্ষিত শুধু নয়, অপমানিত। শামসুর রাহমান, অত বড়ো কবি, তিনি ছড়া লিখলেন 'উকুনি বুড়ি', পাঠ্যবইয়ে সংকলিত সে ছড়া শিশুরা পড়ছে। আমাদের ছড়াকাররা লিখেন 'পান্তাবুড়ি' নামের ছড়া। প্রবীণদের নিয়ে লিখতে আমাদের সাহিত্যিকরা আগ্রহী নয়, আমাদের সাহিত্যে প্রবীণরা প্রায় অনুপস্থিত। বাংলাদেশে এখন দেড় কোটি মানুষ ষাটোর্ধ অর্থাৎ প্রবীণ। এরা নিঃসঙ্গ, অবহেলিত। ষাটোর্ধ বেশিরভাগ নারী স্বামীহীন। 

ওই যে বলেছিলাম তাসমিমা হোসেন আছেন রসবোধের চূড়ায়, সাংবাদিক ফারুক ফয়সালকে বললেন, ফারুক তোমাকে আমি কতকাল ধরে বহন করছি বলো তো (হাসি)। হাসান আলী হেসে বললেন, বাইশ বছর। ফরিদুর রহমান যখন তার ঘোড়া দৌড়ানো মেয়ে তাসমিনাকে নিয়ে বানানো শর্ট ফিল্ম ৩৬টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে আর ৫টি পুরস্কার জিতেছে জানালেন তখন আমি মন্তব্য করলাম 'তাস' দিয়ে শুরু নামের নারীরা দেখি কীর্তিমান। তাসমিমা আপা তাস বিতরণের ভঙ্গি করে দেখালেন আর মুখে বললেন, 'তাস, তাস।'  কেক কাটার আগে হেসে বললেন, 'তোমরা সবাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে দাও।' তার জন্য ফুলের তোড়া এনেছেন ঝর্না রহমান ও বৃহস্পতির আড্ডার তিন সদস্য রোকেয়া ইসলাম, তাহমিনা কোরাইশি ও নাহার আহমেদ। তাসমিমা আপা বললেন 'ফুলগুলো নেব, কারণ তোমরা কষ্ট করে এনেছো। আমি তো ফুল কিনতে গেলে ফুলের দোকান খুঁজে পাই না।' বই উপহার দিলেন কয়েকজন। সবশেষ বড়ো ফুলের তোড়া নিয়ে স্নেহশীল মাতৃময়ী সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানাতে এলো অনন্যা পরিবারের সাত নারী সদস্য।

অনন্যার জন্মদিন ছিল ১৬ অক্টোবর। সেদিন অনুষ্ঠান হয়নি কেননা তাসমিমা হোসেন ছিলেন তুরস্কে মেয়ে ও নাতির সাথে দিন কাটাচ্ছিলেন। তার সপ্রতিভ নাতির গল্প করলেন নানীর স্নেহশীলতায়। নাতি নাকি তাকে বলেছে, "You don't look like senior"। নাতির সার্টিফিকেট পেয়ে নানী হাওয়ায় উড়ছে আর বলছে 60 is the new 30। বিবি রাসেল এখনো ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন, কেউ প্রবীণ ভাবলে বিরক্ত হন।

খাবার পরিবেশিত হলো। কম তেলে রান্না  করা মোরগ পোলাও চমৎকার স্বাদের। সাথে ফিরনির ছোটো বাটি আর কেকের বর্ণময় স্লাইস। পানও এলো বিবিধ উপকরণ সহ। আমরা আমন্ত্রিত অতিথিরা যখন খাচ্ছিলাম তখন অনন্যা পরিবারের বাকি সদস্যরা ওপাশে বসে রইল, আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে টেবিলে এসে বসল না। আমি যখন নেমে এলাম তখন ঘড়িতে বাজে চারটা। কখন যে আড়াই ঘণ্টা পার হয়ে গেছে টের পাইনি। একতলা সিঁড়ি বেয়ে নেমে বাকি দশতলা লিফটে নেমে এলাম। সৌজন্যবশত কিংবা এটাই প্রোটোকল আমাকে নিচের সিঁড়িতক পৌঁছে দিতে এলো ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটতে পড়া আমারই এক ছাত্র, যে এখন অনন্যা ইয়াং টিমের সদস্য।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ