Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মুখরোচক খাদ্যেই যখন মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন!

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিলাসিতার ফাস্ট ফুড যেন দিনকে দিন তার জায়গা করে নিচ্ছে অন্যান্য সবজি কিংবা ফলের থেকেও বেশি। কর্মব্যস্ত জীবনে খাওয়ার দিক যেন নজরেই পড়ছে না। হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টের লোভনীয় খাদ্যের চাকচিক্যে আটকে যায় চোখ৷ খেয়াল থাকে না কোন খাবার গুলো নীরবে ক্ষতি করছে আমাদের শরীর পাশাপাশি মস্তিষ্কেরও।

 

শরীরের মতোই আমাদের মস্তিষ্কেরও পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টির প্রয়োজন হয়। যার সাহায্যে অ্যালজাইমার্স, পার্কিনসনস এবং ডিমেনশিয়ার সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। আসুন জেনে নেয়া যাক কোন কোন খাবার গুলো মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর খাবার।

 

সঠিক খাবার গ্রহণ না-করলে এটি ডোপামিন, সেরোটোনিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। একটি সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে যে, অতিরিক্ত শর্করা এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই হিপ্পোক্যাম্পাসের ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

 

কেক, কুকি, ক্র্যাকার, কোল্ড ড্রিঙ্ক জাতীয় খাবার যেমন শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর তেমনই এগুলি মস্তিষ্কেরও সমান ভাবে ক্ষতি করে। পরিশোধিত চিনি বিশেষত প্রক্রিয়াজাত খাবার-দাবারে উপস্থিত পরিশোধিত চিনি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। তাই এই সমস্ত খাবার-দাবারের পরিবর্তে ফলের প্রতি ঝোঁক বাড়ান।

 

চিপস, পিৎজা, ক্যানজাত সুপ, প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। যা প্রোটিন টাউকে অস্থিতিশীল করে ব্যক্তির জ্ঞান কমিয়ে দিতে পারে। টাউয়ের স্তর অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে ডিমেনশিয়ার দিকে এগিয়ে যেতে পারে ব্যক্তি। এ ক্ষেত্রে মরশুমি খাবার-দাবারে স্পাইস ও হার্ভ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া উচিত।

 

প্রক্রিয়াজাত মাংস-সহ সমস্ত প্রদাহজনিত খাবার-দাবার থেকে দূরে থাকা উচিত। এর ফলে অ্যালজাইমার্সের ঝুঁকিকেও কম করা যাবে। কিওরিং, সল্টিং, স্মোকিং, ড্রাইং বা ক্যানিংয়ের মাধ্যমে মাংসের প্রক্রিয়াকরণ ঘটে।

 

এছাড়াও অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে নিউরোট্রান্সমিটার ভারসাম্য হারায় এবং মস্তিষ্কে বিপরীত প্রভাব ফেলে।

 

তাই সুস্থ শরীরের চাই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করা। মানবদেহের পাশাপাশি মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধনকারী খাবার গুলো শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলতে পারাই শ্রেয়। না হলে নানান রোগের জন্ম দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে এসব খাবার।