Skip to content

২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘আমার পোশাকে হাত দেবেন না’

শিল্প সংস্কৃতির একটা বড় অংশ হচ্ছে  দেশের পোশাক শিল্প। তেমনি আফগানদেরও রয়েছে নিজস্ব পোশাকের বাহার।  হাতে তৈরি নকশা এবং ভারী ডিজাইনের পোশাকের বুকের কাছে ছোট ছোট কাঁচের আয়না বসানো, লম্বা স্কার্ট এসব পোশাক আফগান সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে। গত ২০ বছর ধরে আফগান মেয়েদের পরনে এসব পোশাক চলে আসছে। 

 

কিন্তু তালেবান শাসন প্রতিষ্ঠার শুরুর দিক থেকেই এই পোশাক শিল্পে আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। গত সপ্তাহে  'তালেবানের শাসনের' সমর্থনে এক সমাবেশে নারীরা যোগ দেন, সেখানে তারা দীর্ঘ কালো বোরকায় আবৃত হয়ে, মুখ এবং হাত ঢেকে উপস্থিত হয়। যা আফগানের পোশাকের ঐতিহ্যকে নির্মূলিত করার ইঙ্গিত দেয়। 

 

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আফগানিস্তানের ইতিহাসের সাবেক অধ্যাপক ড. বাহার জালালি এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা করেন। পরবর্তীতে আরো অনেকে এই আন্দোলনের সামিল হন। 

 

মূলত ঐ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীরা, মুখে প্রসাধনী মাখা এবং আধুনিক পোশাক পরা নারীরা মুসলিম আফগান নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে না বলে উল্লেখ করে। এমনকি তালেবানের কঠোর ইসলামী অনুশাসনের পক্ষপাত করে বলেন, "আমরা এমন নারী অধিকার চাই না, যা বিদেশ থেকে আমদানি করা এবং ইসলামী শরিয়ার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।" এমন মন্তব্যের পর থেকেই এই আন্দোলনের জোয়ার উঠে।  

 

প্রতিবাদকারীরা মনে করছেন আফগানিস্তানের পরিচয় এবং সার্বভৌমত্ব এখন হুমকির মুখে। আর তাই এই প্রতিবাদ করা জরুরি বলে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফগান সংস্কৃতির পোশাক পরে সে ছবি শেয়ার করছেন। এবং অন্যদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তালেবানদের সমাবেশে যোগ দেওয়া নারীদের পোশাক কখনোই আফগান সংস্কৃতিকে তুলে ধরে না। এমনকি সেটা তাদের দেশীয় পরিচয়ও বহন করেনা বলে প্রতিবাদকারীদের মত। 

 

আফগানিস্তানের প্রতিটি অঞ্চলের আলাদা আলাদা  নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক আছে। তবে আলাদা আলাদা হলেও আফগান নারীদের এসব পোশাকের  বর্ণাঢ্য, পোশাকে লাগানো  কাঁচের আয়না, নকশার বুননে অনেক মিল আছে। আর এসব পোশাকই তাদের পরিচয়কে তুলে ধরে। তাদের মতে আফগান নারীরা এসব রঙিন শালীন পোশাকই পরেন। বোরকা কখনোই তাদের সংস্কৃতির অংশ ছিলো না। 

 

তাদের মতে আফগান বহু শত বছর ধরেই ইসলামি রাষ্ট্র। তাদের দেশের মানুষ তাই নিজেদের সংস্কৃতিকে বহন করে এমন শালীন পোশাকই পরে আসছেন। যেসব পোশাক তাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। সেখানে আরবদের কালো বোরকা কখনোই তাদের সংস্কৃতির নয়। এমনকি আফগানের সবথেকে রক্ষণশীল অংশে যারা বাস করেন তারাও এই বিষয়কে সমর্থন করছেন না। 

 

কিন্তু তালেবানরা নারীদের পড়ালেখা ও কাজ করার অনুমতি দিলেও পোশাকের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আফগান সংস্কৃতিকে নির্মূল করে দিতে পারে। অথচ আফগানিস্তানের কোনো অঞ্চলেই এমন বোরকার নিয়ম ছিলো না। যা এখন অনেকেই মেনে নিচ্ছেন। তবে এটি একটি সম্পূর্ণ ভিনদেশী পোশাক বলে দাবী প্রতিবাদকারীদের।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ