৯০ দিনের মহাকাশ সফর!

মহাকাশে ভ্রমণের কথা শুনলে শরীরে অদ্ভুত এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি হবে নাহ এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায় । যদি সেখানে রীতিমতো ৩ মাস অতিবাহিত করার কথা বলা হয়? এমন একটি পরিবেশ যেখানে শূন্য অভিকর্ষ। মানুষ রোমাঞ্চকে বরাবরই ভালোবেসে এসেছে। কিন্তু এমন একটি পরিবেশে এতোটা সময় জুড়ে অবস্থান করা নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। তাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে আবার পৃথিবীতে ফেরত আসলো তিন নভোচারী।
চীনের মহাকাশচারীরা সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের অভিযান শেষ করে পৃথিবীতে ফিরেছেন। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তারা মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিতে অবতরণ করেন। চীনের তিন মহাকাশচারী নি হাইসেং, লিউ বোমিং ও ত্যাং হনবো মহাকাশে চীনের স্পেস স্টেশনের তিয়ানহে মডিউলে ৯০ দিন অবস্থান করছেন। গতকাল তারা সেখান থেকে শেনঝউ–১২ মহাকাশযানে করে পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেন।
এর আগে গত ১৭ জুন ওই তিন মহাকাশচারী পৃথিবী ছাড়েন। এরপর থেকে তারা ভূপৃষ্ঠের ৩৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় চীনের মহাকাশ কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তারা নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালান। গত ৯০ দিনে মহাকাশচারীরা মহাকাশে চালানো নানা পরীক্ষার তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া অভিযানের অংশ হিসেবে মহাকাশে ঘণ্টা-ব্যাপী তারা হেঁটেছেন। চীনের অ্যারোস্পেস সায়েন্স ও ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের উল্লেখ করে মহাকাশচারীদের অবস্থান করা তিয়ানহে কোর মডিউলের একটি বর্ণনা দিয়েছে গ্লোবাল টাইম।
শচারীর জন্য আলাদা বসবাসের স্থান রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে রয়েছে জিমের ব্যবস্থা। জিমে রয়েছে বিশেষভাবে নকশা করা ট্রেড-মিল ও বাইসাইকেল। এদিকে চীনের এই অভিযানকে মহাকাশে দেশটির আরেকটি সফলতার উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েক বছর ধরে মহাকাশ গবেষণায় বেশ অগ্রগতি দেখিয়েছে চীন। এর আগে ২০১৯ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চীন চাঁদে মনুষ্যবিহীন রোভার পাঠায়।
চীনের এই অর্জনটিকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। তারা তাদের স্পেস স্টেশনটিকে এতোটাই পরিবেশ বান্ধব করেছে সেখানে এতোটা সময় মহাকাশচারীরা থাকতে পারছে।বিভিন্ন বিতর্ক জন্ম দেওয়া চীনের জন্য বলা যায় এটি একটি মাইলফলক।



