Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মেয়েদের ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলো তালেবানরা

আফগানিস্তান দখলের পর তালেবানরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তারা মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করবে। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও তারা নারী অধিকার নিশ্চিত করেনি। তালেবানের তৈরি বৈষম্যমূলক সমাজে স্থান হয়নি নারী শিক্ষার।

 

এরই ফলাফল ঘটেছে দেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলো খোলার নির্দেশনায়। আফগানিস্তানে মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুললেও সেখানে থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়েছে তালেবানরা। শুধু ছেলে এবং পুরুষ শিক্ষকরাই শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। কেবল যে শিক্ষার্থীদেরই স্কুলে  যাওয়া থেকে বাধা দেয়া হয়েছে তাই নয়, নারী শিক্ষকদেরও এবার বাদ দেয়া হয়েছে কর্মক্ষেত্র থেকে। 

 

৯০ দশকের আফগানিস্তানে তালেবান প্রথম দফার শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলো। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা ছিল তালেবানের হাতে। সেসময় নারীদের স্বাধীনতা একেবারেই ছিলোনা। শিক্ষা তো দূরে থাক, বাড়ির বাইরেই পুরুষ-সঙ্গী ছাড়া যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল নারীদের জন্য। বোরকা হিজাব ছিল বাধ্যতামূলক। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার আবার ক্ষমতায় এসে নারীদের পিছনে নিয়ে যাচ্ছে তালেবানরা।

 

দেশটিতে সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। কট্টর ধার্মিক দেশ হওয়ায় অধিকাংশ স্কুলেই সহশিক্ষার ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ ছেলে ও মেয়েরা পড়াশোনা করে পৃথক স্কুলে। এতে তালেবান সরকারের এখন নারী শিক্ষা নিয়ন্ত্রণে আরো সুবিধা হচ্ছে। এতে মেয়ে শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা দেশটিতে নারী শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। শিক্ষা ছাড়া অন্ধকার ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। 

 

স্কুলে যেতে না পেরে আফগান এক কিশোরী বলেন, ‘আমার শিক্ষাজীবন আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ শঙ্কিত আমি।’ এই মেয়ে শিক্ষার্থীর আইনজীবী হবার সংকল্প রয়েছে। তালেবানের অধীন সবকিছু ভীষণ অন্ধকার আচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে প্রতিদিন প্রশ্ন করি, কেনইবা আমি বেঁচে রয়েছি। আমার কি বাড়িতে বসে অপেক্ষা করা উচিত যে কখন কেউ দরজায় টোকা দিয়ে আমাকে বিয়ে করতে বলবে? এটাই কি নারী হওয়ার উদ্দেশ্য? কিশোরীটির বাবা বলেন, ‘আমার মা নিরক্ষর ছিলেন। আমার বাবা এই নিয়ে মাকে হেয় করতেন। তাকে বোকা বলতেন। আমি চাইনি যে আমার মেয়ের জীবনে আমার মায়ের কষ্টের জীবন ফিরে আসুক।’

 

আরেক শিক্ষার্থী বলেছে, ‘আমি চিকিৎসক হতে চেয়েছিলাম। আমার এমন স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আমি মনে করি না তালেবান আমাদের স্কুলে ফিরতে দেবে। এমনকি যদি তারা উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খুলেও দেয়, তারা চাইবেনা মেয়েরা শিক্ষিত হোক।’

 

এভাবে চলতে থাকলে আফগান নারীরা আরো অন্ধকার জীবনে চলে যাবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে তারা আর এই অন্ধকার থেকে বেরোতে পারবেনা।