Skip to content

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাধারণ টোটকায় দূর হবে পিরিয়ড পীড়া!

বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শরীরের বিশেষ  কিছু পরিবর্তনের মধ্যে পিরিয়ড একটি পরিবর্তন। যার ফলে প্রত্যেক মাসের একটা সময়ে মেয়েদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু তৈরি হতে থাকে এবং তা জরায়ুতে চলে যায়। অত:পর ডিম্বাণু গুলো বাইরে বেড়িয়ে আসে। মূলত এই প্রক্রিয়াটিকেই পিরিয়ড বলা হয়। 

 

এই পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে কমবেশি সব মেয়েদের এই তলপেটে ব্যথা হয়ে থাকে। কেউ কেউ সহ্য করে আবার অনেকে এরজন্য ব্যথার ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া মেডিসিন গ্রহণ না করাই শ্রেয়। কারণ এসব ব্যথার ওষুধে অনেক সময়ই পার্শপতিক্রিয়া দেয়া যায় । তাই আসুন জেনে নেয়া যাক পিরিয়ড কালীন ঘরোয়া পরিচর্যায় ব্যথা দূর করার কৌশল। 

পিরিয়ডের ব্যথা কমাবার একটি ধরাবাঁধা উপায় হল গরম পানি। পেট ব্যথার সময় গরম পানির সেঁক দিলে ব্যথা কমে যায়। তাই হট ব্যাগ বা কোন কাঁচের বোতলে গরম পানি নিয়ে পেটে সেঁক দিলে কমে যাবে। ব্যথা কমাবার আরেকটি কার্যকরী উপাদান যেটা আমরা হয়তো জানি না, সেটি হল ল্যাভেন্ডার তেল। এই তেল পেট ব্যথার সময় কয়েক ফোঁটা পেটে দিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।

 

আদা এই ব্যাথা কমাতে ভীষণ ভাবে সাহায্য করে। শুধু ব্যাথা নয়, অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতেও সাহায্য করে আদা। তাই এই সময় ফুটন্ত গরম জলে আদা গ্রেট করে দিয়ে, সেই ফোটানো জলে একটু মধু ও একটু লেবু রস দিয়ে সেটি খেতে পারেন। দিনে দু থেকে তিনবার খান। ব্যাথা থেকে উপকার পাবেন। এইসময় রান্নায় বেশি করে আদা খান।

 

আদা ছাড়াও আরেকটি খুব সহজ উপাদান যেটি ব্যাথা কমাতে দারুণ কার্যকরী সেটি হল তুলসী। তুলসী পাতার রস করে, এক কাপ গরম জলে দু থেক তিন চামচ তুলসির রস মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। বা কাঁচা তুলসী পাতাও খেতে পারেন। এটি দিনে দু থেকে তিন বার খেলে ব্যাথা অনেকটাই কমে যাবে । দিনে তিনবার এক গ্লাস গরম জলে একটু দারচিনি গুড়ো আর একটু মধু মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। 
 
এইসময় দেহে ডিহাইড্রেশন দেখা যায়। তাই এই সময় বেশি বেশি পানি পান করুন। পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি করে। আর প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় খাবার খেতে হবে। এছাড়া এসময়ে গরম পানি পান করার পাশাপাশি হাল্কা কুসুম গরম পানিতে গোসল করা গেলে ব্যাথা থেকে কিছুটা উপশম পাওয়া যায়।

 

পিরিয়ডের এই সময়ে তলপেট ব্যথার জন্য কয়েকটি পন্থা মেনে চললে উপকার পাওয়া যায়। তবে পিরিয়ডের সময় কফি বা কফি জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো । কফিতে থাকা ক্যাফেইন পেটের ভেতর অস্বস্তির অনুভব তৈরি করে ফলে শরীরে অস্বস্তি হয়। তাই বিশেষ সময়ে বিশেষ কিছু নিয়ম মানলে পিরিয়ডের পীড়া থেকে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে ।