Skip to content

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হামলার পরও আবার বিক্ষোভে আফগান নারীরা

দেয়ালে পিঠ ঠেকলে লড়াই ছাড়া আর উপায় থাকেনা। আফগান নারীরাও বুঝে গেছেন যে, আন্দোলন, বিক্ষোভ ছাড়া এখন আর তাদের অধিকার আদায় সম্ভব নয়। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ অধিকারের দাবিতে তালেবানদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছেন তারা।

আফগানিস্তানে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ। তালেবানদের আফগানিস্তান দখলের পর নারী নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন দেশটির নারীরা। নারীদের অধিকার আদায়ের দাবিতে কয়েক দফায় আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে নামেন আফগান নারীরা। 

Photo of Afghan woman standing in front of Taliban gun goes viral

গত মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) আফগান নারীদের নেতৃত্বে কাবুলে তালেবানদের বিরুদ্ধে বিশাল এক বিক্ষোভ হয়। প্রথম অবস্থায় আন্দোলনে কেবল নারীরা থাকলেও ক্রমে অনেক পুরুষও এসে যোগ দেয় নারীদের সাথে। আন্দোলনকারীরা প্রথমে পাকিস্তান দূতাবাসের বাইরে একত্রিত হন। কিন্তু আগেরবারের মতো এবারও নারীদের আন্দোলনে হামলা চালায় তালেবানরা। তালেবান কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা রক্ষীদের বাঁধার সম্মুখীন হন এসব নারীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করার লক্ষ্যে ফাঁকা গুলি ও পরবর্তীতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তালেবান। জানা গেছে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় তালেবানদের গুলির আঘাতে আশপাশের জানালা ভেঙে গেছে। 

ইরানি সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদ টুইটারে লিখেছেন, ‘এক সাহসী আফগান নারী আমাকে বলেছিলেন, ‘‘আমি যখন তালেবানদের দখল নিতে শুনেছিলাম, তখন আমি প্রথমে ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু আমি নিজেকে বলেছিলাম— আমার অধিকারের জন্য আমার লড়াইয়ের রাস্তা ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। নিজের স্বার্থেই আমি প্রায় ৪০ বা ৫০ জন নারীকে নিয়ে রাস্তায় নামার এবং প্রকাশ্যে তালেবানদের চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিই। ভয় নেই, এখন আমরা ঐক্যবদ্ধ।’’

Taliban fire in air to scatter Kabul protesters | Dhaka Tribune

এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে তালেবানের নতুন সরকারে নারী নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছিলো নারীরা। এরপর গত শনিবার নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছিলো আফগান নারীরা। সেই বিক্ষোভেও হামলা চালিয়েছিলো তালেবান কর্মীরা। কিন্তু দমে যায়নি সাহসী নারীরা। বরং শনিবারের সেই আন্দোলন আরো বৃহৎ রূপ নিয়েছে মঙ্গলবারের আন্দোলনে। ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত হয়েও চুপ না থেকে এখন যে কথা বলতে হবে সে বিষয়ে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।