Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আফগান নারীদের বর্তমান অবস্থা

আফগানিস্তানে পুনরায় তালেবানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবান সরকার গঠন হবে আফগানিস্তানে। গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে পুরো আফগানিস্তান চলে যায় তালেবানদের অধীনে। আফগানিস্তানে তালেবানি শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বমঞ্চের কাছে যা সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো তা হল নারী নিরাপত্তা।

 

পুরো বিশ্বের গুণীদের কাছে এই চিন্তা কিন্তু মোটেও অনর্থক নয়। কারণ তালেবানি ইতিহাস ছিল বরাবরই নারী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। ৯০ দশকের আফগানিস্তানে তালেবান প্রথম দফার শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলো। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা ছিল তালেবানের হাতে। সেসময় নারীদের স্বাধীনতা একেবারেই ছিলোনা। শিক্ষা তো দূরে থাক, বাড়ির বাইরেই পুরুষসঙ্গী ছাড়া যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল নারীদের জন্য। বোরকা হিজাব ছিল বাধ্যতামূলক।

 

এখন আবার তালেবানি শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ায় নারীদের প্রতি সেই আশংকাই করছিলো সবাই। এর ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। তবে তালেবানরা প্রথম থেকেই নারীদের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দিয়ে আসছিলো। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনাই আফগানিস্তানে নারীদের অবস্থা ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট।

 

সম্প্রতি রাজধানী কাবুলের রাস্তায় পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই বের হয়েছিলেন এক আফগান তরুণী। জরুরি প্রয়োজনেই তিনি পুরুষসঙ্গী ছাড়াই গিয়েছিলেন সেদিন। পথে কয়েকজন তালেবান রক্ষীর বিষয়টি নজরে পড়ে যে কনও পুরুষসঙ্গী ছাড়াই তিনি এসেছেন বাইরে। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজন তালেবানরক্ষী এসে তাকে আটক করে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটস্থ চেকপয়েন্টে। তালেবানরা তাকে জিজ্ঞাসা করে যে কেন তিনি কনও পুরুষ আত্মীয় ছাড়া বের হয়েছেন। এরপর ওই নারীকে তার স্বামীকে ফোন করতে বলে তালেবানরা। কিন্তু সাথে ফোন না থাকায় তিনি ফোন করতে পারেননা তার স্বামীকে। এরপর তালেবানরা তাকে বাড়িতে গিয়ে তার স্বামীকে নিয়ে আসতে বলেন। বাড়ি গিয়ে স্বামীকে পুনরায় চেক পয়েন্টে নিয়ে আসার জন্য ট্যাক্সি ঠিক করে দেন তারা। এরপর ওই তরুণী বাড়ি গিয়ে তার স্বামীকে নিয়ে হাজির করে তালেবানদের চেক পয়েন্টে। এরপর প্রমাণ দেয়ার পর ওই তরুণীকে ছেড়ে দেন তালেবানরা। 

 

এখান থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে, আফগানিস্তানে নারীদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ। কেবল মাত্র সামান্য কাজের জন্যও তারা পুরুষসঙ্গী ছাড়া বাইরে যেতে পারছেননা। পুরোই পরাধীন করে রেখেছেন তালেবানরা। নারীদের পোশাকেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রঙিন স্কার্ফের বদলে কালো রং বেছে নিতে হচ্ছে তাদের। নারীরা বাইরে বের হওয়ার আগে মেপে নিচ্ছেন নিজেদের পোশাকের দৈর্ঘ্য। আফগানিস্তানে বিয়ে করে সংসার স্থাপনের পরিকল্পনা এখন তালেবানদের। তালেবান সদস্যদের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইমামদের কাছে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী অবিবাহিত ও বিধবা নারীদের তালিকা চেয়েছিল তালেবান।

 

তবে গতবারের থেকে বেশ কিছু বিষয়ে শিথিলতা এনেছে তালেবানরা। এরমধ্যে অন্যতম হল নারীশিক্ষা। এর আগে ১০ বছর বা এর বড় মেয়েদের জন্য পড়ালেখা ও স্কুলে যাওয়া ছিল একেবারে নিষিদ্ধ। তবে এবার তারা নারীশিক্ষার ব্যাপারে বেশ উৎসুক। আফগান নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ালেখা করতে পারবেন। তবে মিশ্র শিক্ষা থাকবেনা। অর্থাৎ পুরুষদের সাথে তারা একসাথে ক্লাস করতে পারবেনা। 

 

তবে সামনের সপ্তাহে তালেবান সরকার গঠন করা হলে আফগানিস্তানে নারীদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানান পাওয়া যাবে।