Skip to content

২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আদার যত গুনাগুণ

দেশীয় খাবারে যেসব মশলার উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে বেশ জনপ্রিয় আদা। আদা ছাড়া আমাদের রান্নাঘর যেন অপূর্ণ। আমরা অনেকেই জানি না আদার বহুমুখী পুষ্টি গুনাগুণ সম্পর্কে। শুধু রান্নার মসলা হিসেবে নয়, বরং চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধানে বেশ কার্যকারী। এমনকি ঘরোয়া প্রতিষেধক হিসেবে বিভিন্ন রোগেও আদার উপর ভরসা রাখতে পারেন।
 

১। আদা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এতে থাকা রাসায়নিক যৌগ শরীরের বিভিন্ন জীবাণু ধ্বংস করে। বিশেষ করে ইকোলজি ও শি-কেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকায় আদায় থাকা গুনাগুণ। এমনকি আরএসভি’র মতো ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে আদা।

 

২। আদার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এতে জিঞ্জারোল নামক যৌগ থাকে। যা মুখে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকায়। মুখের এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পিরিয়ডন্টাল রোগের কারণ হতে পারে। যা একটি গুরুতর মাড়ির সংক্রমণ।

 

৩। হঠাৎ বমি বমি ভাব হলে মুখে এক টুকরো আদা নিলে স্বস্তি মেলে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আদা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এমনকি কেমোথেরাপির কারণে শারীরিক অসুস্থতা বা বমি বমি ভাব ঠেকায় আদা।

 

৪। যে কোনো প্রদাহ থেকে দ্রুত নিস্তার দিতে পারে আদায় থাকা পুষ্টিগুণ। ব্যায়াম করার ফলে যে পেশী ব্যথা হয় তা সারাতে আদা কাজ করে।

 

৫। আদা একটি প্রদাহ-বিরোধী উপাদান। এটি মুহূর্তেই ফোলা কমায়। বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অস্টিওআর্থারাইটিসের লক্ষণগুলো সারাতে এটি দুর্দান্ত কার্যকরী।

 

৬। আদায় থাকা জৈব সক্রিয় অণু কয়েকটি ক্যান্সার যেমন- কোলোরেক্টাল, গ্যাস্ট্রিক, ডিম্বাশয়, লিভার, ত্বক, স্তন ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের বৃদ্ধি ঠেকায়।

 

৭। পিরিয়ডের ব্যথায় প্রায় প্রতি মাসেই নারীরা কাতরায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা তাদের ঋতুচক্রের সময় দৈনিক ১,৫০০ মিলিগ্রাম আদার গুঁড়া গ্রহণ করেন তারা অন্যদের চেয়ে পিরিয়ড ক্র্যাম্পে কম ভোগেন।

 

৮। এলডিএল কোলেস্টেরল যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য অনুসারে, ৩ মাস ধরে দৈনিক ৫ গ্রাম আদা গ্রহণ করলে মানুষের এলডিএল কোলেস্টেরল গড়ে ৩০ পয়েন্ট কমে যায়।

 

৯। আদায় থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরের ডিএনএ’র ক্ষতি প্রতিরোধ করে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ফুসফুসের মতো রোগের বিরুদ্ধেও লড়াই করে আদায় থাকা উপাদানসমূহ।

 

১০। বদহজমের সমস্যায় ছোট-বড় সবাই ভোগেন। দীর্ঘস্থায়ী বদহজমকে ডিসপেপসিয়াও বলা হয়। আদা খেলে এ ধরনের বদহজমে দ্রুত স্বস্তি মেলে।

 

 এছাড়া আপনি বিভিন্ন উপায়ে আদা খেতে পারেন। আদা চা, আদার রস, খাবার বা সালাদে আদা মিশিয়ে এমনকি আদার গুঁড়া পানিতে মিশিয়েও পান করলেও বিভিন্ন প্রকার সমস্যা থেকে সমাধান ও উপকার পাবেন।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ