Skip to content

১লা জুন, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গলার কাঁটা দূর হবে নিমিষেই! 

বলা হয়ে থাকে গলার কাঁটা দূর করতে বিড়ালের পা ধরতে হয়!‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ একটি সুপ্রাচীন লোককথা। মাছ ছাড়া বাঙালির আহার যেন এক বেলাও সম্পূর্ণ হয় না। আহারে মাছ আমদের প্রতিদিনেই থাকে এবং আমরা মাছকে এতোটাই ভালোবাসি প্রতিবেলাই আমরা মাছ খেতে চাই।

 

তবে মাছ খাওয়ার সময় ছোট-বড় সবারই দুর্ঘটনাবশত গলায় কাঁটা আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে সবাই কমবেশি পড়েছেন। তবে তৎক্ষণাৎ করণীয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।

 

কখনো ওঝা-কবিরাজ দিয়ে ঝাড়-ফুঁকের মতো অপচিকিৎসার দ্বারস্থ হয়ে থাকেন অনেকেই। গলায় মাছের কাঁটা আটকে যাওয়া খুবই কষ্টকর।এমন ঘটনা ঘটলে গলায় বিঁধে থাকা মাছের কাঁটা দূর করতে অনেক বেগ পেতে হয়। তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা গেলে কাটা দূর করা অনেক সহজ।

 

গলায় কাঁটা বিঁধলে শুকনো সাদা ভাত চটকে দলা পাকিয়ে গোল গোল ছোট বলের মতো বানিয়ে তা গিলে খেয়ে ফেললে সমাধান আসতে পারে। একবারে না হলে কয়েকবার এ উপায় অবলম্বন করুন। এভাবে ভাত ও পানি খেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাঁটা নেমে যায়। এ ছাড়াও শুকনো মুড়ি কিংবা গরম দুধে ভেজানো পাউরুটি খেলেও কিছুটা সমাধান পাওয়া যায়।পাকা কলা এক কামড়ে একটু বেশি করে নিয়ে অল্প চিবিয়ে গিলে নিন। এতেও কাঁটা নেমে যায়। পাকা কলার মিউজিলেজের পিচ্ছিলভাব গলায় ফুটে থাকা কাঁটাকে সহজে বিতাড়িত করতে সাহায্য করে।

 

গলায় ফুটে থাকা মাছের কাঁটা নামাতে ভিনেগার দারুণ কাজ করে। জলের সঙ্গে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে খেলে আটকে থাকা কাঁটা খুব সহজেই গলা থেকে নেমে যায়। ভিনেগার অনেকটা পাতি লেবুর মতোই কাজ করে। মাছের কাঁটা গলিয়ে দেওয়ার জন্য লবণ ও লেবুর মিশ্রণও বেশ কার্যকর। এক টুকরো লেবুতে হালকা লবণ মিশিয়ে লেবুটি চুষে খেয়ে নিন। লেবুর অম্লতা ও লবণের লবণাক্ততা মিলিতভাবে কাঁটাটিকে পাতলা করে গলিয়ে দেবে। ফলে সহজে গলা থেকে কাঁটাটি নেমে যাবে।

 

কোন ঠাণ্ডা কোমল পানীয়ের সঙ্গে লেবু মিশিয়ে অল্প অল্প করে খেয়ে নিলে উপশম হবে। কোমল পানীয়ের সোডা আর লেবুর অম্লত্ব একসঙ্গে মিলে মাছের কাঁটা গলিয়ে দিতে সাহায্য করে। এটি কাঁটা নামানোর সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি।গলায় কাঁটা বিঁধলে দেরি না করে এক চা চামচ এডিবল অলিভ অয়েল খেয়ে নিন। অলিভ অয়েল অন্য তেলের তুলনায় বেশি পিচ্ছিল। তাই গলা থেকে পিছলে নেমে যাবে মাছের কাঁটা।

 

জোরে জোরে ক্রমাগত দু-চারটা কাশি দিলে কফ রিফ্লেক্সের মাধ্যমে অনেক সময় গলার পেছনের দেয়ালে আটকে থাকা মাছের কাঁটা কাশির দমকে ছুটে গিয়ে সামনে চলে আসে এবং বের হয়ে যায়।

 

এরপরও গলায় ফুটে থাকা কাঁটা না নেমে গেলে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কিংবা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। স্পেশাল ফরেন বডি রিমুভারের সাহায্যে এরকম বিঁধে থাকা কাঁটা বের করে আনা সম্ভব।

 

সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হলেও এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে এর  বহু নজীর মিলেছে। কাটা নিয়ে বিড়ম্বনা ঘোচানোর জন্য উক্ত পদ্ধতি গুলোর একটা কাজে আসবেই।তাই বলে মাছ খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে নাহ।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ