Skip to content

১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খেজুরের উপকারিতা

আমরা কম বেশি সকলেই জানি খেজুর খাওয়া সুন্নত, আবার এই সুন্নতের পেছনেও আছে অনেক উপকারিতা, যা আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। খেজুর একটি সুস্বাদু মরু ফল। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট , ভিটামিন এ, বি, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সালফার, প্রোটিন, ফাইবার এবং আয়রন। নিয়মিত খেজুর খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। তাছাড়াও বিভিন্ন ধরণের জটিলতা পূর্ণ রোগের সমাধানে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

 

খেজুরের উপকারিতা

হার্টের সমস্যায়: খেজুরে ডায়াটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে ‘এল ডি এল’ বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম হার্টের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়।

 

ক্যান্সার থেকে রক্ষায়: খেজুর বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

 

রক্তশূন্যতায়: খেজুর লৌহসমৃদ্ধ ফল হিসেবে রক্তশূন্যতায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন খেজুর খেলে দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে এবং রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।

 

কর্মশক্তি বাড়ায়: খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকার কারণে খেজুর খুব দ্রুত শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সারাদিন রোজা রাখার পর রোজাদাররা যদি মাত্র ২টি খেজুর খান তবে খুব দ্রুত কেটে যাবে তাদের ক্লান্তি।

 

স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: খেজুর নানা ভিটামিনে পরিপূর্ণ থাকার কারণে এটি মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনার গতি বৃদ্ধি রাখে, সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ছাত্র-ছাত্রী যারা নিয়মিত খেজুর খায় তাদের দক্ষতা অন্যদের তুলনায় ভাল থাকে।

অ্যানিমিয়া রোগে: খেজুর আয়রন সমৃদ্ধ। তাই এটি অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলেই মূলত এই ধরনের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

 
অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়: খেজুরে উপস্থিত সালফার কম্পাউন্ড অ্যালার্জির মতো রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

গর্ভবতী মা’দের জন্য: ৭/৮ মাস সময় থেকে গর্ভবতী মা’দের জন্য খেজুর একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য। এসময় শরীরে অনেক দুর্বলতা কাজ করে। খেজুর এই দুর্বলতা কাটাতে অনেক সাহায্য করে এবং ডেলিভারির পর মা’দের অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে ও খেজুর বেশ কার্যকর। পরবর্তী সময়ে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।

 

গ্লুকোজের অভাব দূর করে: শরীরে গ্লুকোজের অভাব হলে খেজুর তা দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করে। বিশেষত রোজার সময় অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকার ফলে দেহের প্রচুর গ্লুকোজের দরকার হয়। তাই গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণে খেজুর অনেক ভূমিকা পালন করে।

 

হাড় শক্ত করে: খেজুরে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন হাড়কে এতটাই শক্তপোক্ত করে দেয়, যা বয়স্কালে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

 
ত্বককে টানটান করে: অনেক সময় বয়স বাড়ার ফলে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়। খেজুরে ভিটামিন বি থাকায়, ত্বকের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৪-৫টি খেজুর নিয়মিত খেলে মুখের চামড়া কুঁচকানো দাগ মিলিয়ে যাবে।

 

কাশি দূর করে: সাধারণত যাদের খুসখুসে কাশি হয় তারা ২০-২৫ গ্রাম খেজুর, ২ কাপ গরম জলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওই খেজুর চটকে নিয়ে শরবতের মতো করে খেলে খুসখুসে কাশি থেকে ১৫ দিনের মধ্যে উপকার পাবেন।

 

হজম ও রুচি বাড়ায়: রুচি বাড়াতে খেজুরের কোনো তুলনাই হয় না। শিশুদের যারা ঠিকমতো খেতে চায় না, তাদেরকে নিয়মিত খেজুর খেতে দিলে রুচি ফিরে আসে। খেজুরের মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা সহজে খাবার হজমে সহায়তা করে।

 

কোষ্ঠকাঠিন্যে সমস্যায়: নিয়মিত খেজুর খেয়ে খুব সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলে। তুলনামূলক শক্ত খেজুরকে পানিতে ভিজিয়ে (সারা রাত) সেই পানি খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ