Skip to content

৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজায় চার নারী পুরোহিত 

বাঙালী হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে দুর্গা পূজা। দুমাসেরও কম সময় আছে আর এবারের দুর্গা পূজায়। দুই বাংলায়ই মহা ধুমধামের সাথে উদযাপন হয়ে থাকে এই শারদীয় উৎসব। কিন্তু কলকাতার এক মন্দিরে এবারের পূজায় থাকছে বিশেষ চমক। কলকাতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজায় পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন চার নারী।

 

এবার কলকাতার বিখ্যাত ৬৬ পল্লীর  দুর্গাপুজোয় পুরোহিত হিসেবে থাকবেন নন্দিনী ভৌমিক, রুমা রায়, সেমন্তী ব্যানার্জি ও পৌলোমী চক্রবর্তী। পুরো বাংলার কয়েক শতকের  পুরনো রেওয়াজ ভাঙতে চলেছেন নেই চার নারী। শাস্ত্র মেনেই বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে নারীর হাতে পূজার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৬৬ পল্লী দুর্গোৎসব কমিটি। 

 

নন্দিনী ভৌমিক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক৷ তাদের সংগঠনের নাম ‘শুভমস্তু'৷ তিনি রুমা, পৌলমী, সেমন্তীর সঙ্গে একত্রে ১২ বছর ধরে বিবাহের পৌরহিত্য করছেন৷ করছেন অন্নপ্রাশনের কাজও৷ সামাজিক অনুষ্ঠান, আচার ইত্যাদি বিষয় নিয়েই পড়াশোনো করেছেন৷ সংস্কৃত ভাষায় পিএইচডি করেছেন৷ প্রাচীন সাহিত্যকে নির্ভর করেই তিনি পুরোহিতের কাজ সম্পন্ন করছেন৷ সঙ্গে জুড়েছেন মন্ত্র ও সঙ্গীতকে৷ নন্দিনী মনে করেন পুরোহিত হওয়ার অধিকার পুরুষের যেমন আছে তেমন নারীরও আছে৷ এমনকি শাস্ত্রেও এ সংক্রান্ত কোন বাধা নেই৷ 

 

হিন্দু শাস্ত্রে মেয়েদের মন্ত্রোচ্চারণ বা উপবীত ধারণের অনুমোদন নেই। ঋতুমতীদের নিয়েও অনেক ট্যাবু। সে বিষয়ে নন্দিনী বলেন, ওটা তখনকার সময়ের ইতিহাস। আমরা যখন ঋতুমতী হই, তখন অশুচি দূরের কথা, সেটা উৎসবের দিন হওয়া উচিত। মাতৃত্ব এত সুন্দর তো ঋতুর জন্যই। সুতরাং শুচিতা অন্তরে, দেহে নয়। 

 

নারীরা যে পূজার কাজকর্মের সাথে একেবারেই জড়িত ছিলোনা তা নয়। এর আগে দুর্গাপূজায় নারীরা আংশিক দায়িত্বে ছিলেন৷ এমনকি নারী পরিচালিত পূজা আগেও হয়েছে৷ কিন্তু অকালবোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সবকিছুর দায়িত্বে নারীরা এর আগে কখনই ছিলেন না৷ পুরোহিত হিসেবে পুরো পূজো সম্পাদন করায় নারী নেতৃত্ব এই প্রথম। পুরুষরাই কেবল এতদিন মূল পুরোহিতের কাজে একচ্ছত্র আধিপত্য রেখে আসছিলো। প্রচলিত এই প্রথা ভাঙবে এই চার নারীর হাতে। আগামী ২২ আগস্ট এই চার নারী পুরোহিতই উপস্থিততে কলকাতায় দুর্গোৎসবের খুঁটিপূজায় সম্পন্ন হবে।

 

তারা বলছেন, শুরুর দিকে পথচলাটা সহজ ছিল না। সমস্ত বাঁধা কাটিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন নারী পুরোহিতরা। একুশ শতকে দাঁড়িয়ে সময়ের গল্প বদলাতে আগামী পূজায় পৌরোহিত্যের কাজে আসবেন এই চার নারী।
 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ