Skip to content

৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাতে ঘুম না আসার কারণ

সারাদিন কর্ম ব্যস্ততার পর যে কারোর মন ছটফট করে, একটু বিছানায় যেতে এবং বালিশে মাথা রেখে আরাম করে শুয়েও পড়তে । অনেকেই মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক, মেইল বা নোটিফিকেশন গুলো দেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে টিভিতে সিরিয়াল দেখতে, গেম খেলেন শুরু করেন। আবার কেউবা আগামী দিনের কাজ গুলো মোবাইল ফোন বা ট্যাবে দেখে নেন।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসগুলো শুধু ঘুম নষ্ট করে না বরং শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘুমিয়ে পড়া ও জেগে ওঠার বিষয়টি মস্তিষ্কের নানা সংকেতের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। নির্দিষ্ট কিছু খাবার, ওষুধ ও অভ্যাস এই সংকেতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে । তবে  রাতের ঘুম নষ্ট করে এমন কিছু কাজ, যে গুলো ছাড়তে পারলে সহজেই ঘুমাতে পারবেন। 

 

বিছানা শুধু ঘুমের জন্য
যারা টিভি দেখতে, ম্যাগাজিন পড়তে, খাবার খেতে একটু অবসর কাটান, কখনই এগুলো কাজ বিছানায় করবেন না। বিছানা শুধু ঘুমের জন্য। অন্য জায়গায় থেকে কাজ সেরে তারপর ঘুমানোর জন্য বিছানায় আসুন।

 

রাতে চা-কফি নয়
সকালটা শুরু করা বা ক্লান্তি দূর করতে চা-কফি দারুণ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রাতের খাবারের পর চা-কফি পান করা ঠিক নয়। মস্তিষ্কের অ্যাডিনোসিন নামের প্রাকৃতিক রাসায়নিকের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটনায় ক্যাফেইন। এই রাসায়নিক মস্তিষ্ককে তন্দ্রা জাগায় এবং পরে সক্রিয় করে।

 

অ্যালকোহল নয়
রাতে যাদের ঘুম হয় না, তারা ভুলেও অ্যালকোহল খাবেন না। কারণ এটি গভীর ঘুমকে নষ্ট করে। হালকা ঘুম ও সহজে জেগে ওঠার জন্য অ্যালকোহল পান দায়ী। এতে প্রচুর মাথাব্যথা হয়।

 

রাতে ধূমপান নয়
যারা অতিরিক্ত ধূমপান করেন, তাদের ঘুম হালকা হয়। র্যাপিড আই মুভমেন্ট (রেম) ঘুমের পর্যায় তাদের কম হয়। নিকোটিনের অভাবে তারা তিন-চার ঘণ্টা পরপর জেগে ওঠে। ভালোমতো ঘুমাতে হলে ধূমপান ছাড়তে হবে।

 

ঘুমের সময় ঠিক না থাকা
ঘুম নিয়মিত সময়ে না হলে শরীর তা মানিয়ে নিতে পারে না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিত। এতে মস্তিষ্ক ভালো ঘুমের জন্য প্রস্তুত থাকে।

 

ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন নয়
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহার বাদ দিন। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার মস্তিষ্ককে জাগিয়ে রাখে। শরীরে মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা ঘুমাতে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং এতে মস্তিষ্ক উত্তেজিত থাকে। 

 

পেটের ওপর ভর দিয়ে শোয়া
অনেকেই পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকেন। এতে কাঁধ, পিঠ ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়। এতে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

 

অতিরিক্ত খাওয়া
ঘুমাতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত খাওয়া মানেই বদহজম ও বুকজ্বালা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি। এতে ঘুমাতে সমস্যা হয়। বিছানায় যাওয়ার আগে হালকা খাবার খেতে হবে।

 

ব্যায়াম বাদ দেওয়া
দৈনন্দিন ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। এতে সঠিক সময়ে ঘুমের অভ্যাস গড়ে উঠবে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা অন্যদের তুলনায় ভালো ও দীর্ঘ ঘুম দিতে পারেন।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ