Skip to content

২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পথে ফেসবুক

এগিয়ে যাওয়া প্রযুক্তির পথে বিস্ময়ের মেলা
ফেসবুকে নিত্যকার ফিচারের স্রোতের পালা

একের পর এক চমকের সাক্ষী করে চলেছে সোশ্যাল সাইট ফেসবুক। নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করার মাধ্যমে সোশ্যাল সাইটটি হয়েছে সর্বাধিক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ। তেমনেই এক চমক নিয়ে হাজির হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কংক্রিটের দেয়ালে বন্দী থেকেই ঘুরে দেখা যাবে কল্পনার রাজ্য। যে রাজ্যে থাকবে সমুদ্র-সৈকত থেকে শুরু করে পাহাড়ি ঝর্ণা আরও কতকি। বাধা থাকবে না কিছুই। মানুষের এই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচেষ্টা চলছে। ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে মিশেল ঘটিয়ে মানুষকে তার বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যেতেই কাজ করবে মেটাভার্স। 

 

কয়েক বছর ধরেই এমন রিয়েলিটির দিকে এগোতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ শুরু করা হয়েছিল। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ মনে করেন, নতুন এ প্রযুক্তি ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিপ্লব হয়ে আসবে। তাই তো এমন প্রযুক্তি তৈরির কাজও শুরু করেছেন তিনি।

 

১৯৯২ সালে নিল স্টিফেনসনের ‘স্নো ক্র্যাশ’ উপন্যাসের চরিত্ররা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট ব্যবহার করে ডিজিটাল বিশ্বে বসবাসের গল্প হয়ে ওঠেন। সিলিকন ভ্যালির প্রকৌশলীদের কাছে এ উপন্যাস দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। বলা হচ্ছে ওই উপন্যাসের প্রভাবেই তৈরি হচ্ছে মেটাভার্স। বিভিন্ন কোম্পানি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে এ প্রযুক্তিতে। পিছিয়ে নেই জুকারবার্গও।

 

ফেসবুক কোম্পানি তাদের নিজস্ব ভার্সন তৈরি করবে। তার জন্য কোম্পানির মধ্যে একটি বিশেষ টিম তৈরি করেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রযুক্তিতে ফেসবুক আগামী পাঁচ বছরে কতটা সফল হবে তা এখনই বলা মুশকিল। টেক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জে দেয়া সাক্ষাৎকারে জুকারবার্গ বলেন, ‘এটা প্রযুক্তি দুনিয়ার পরবর্তী বড় অধ্যায় হতে চলেছে'। শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের দুটো দিক ছিল। ফেসবুকে তথ্য প্রচার করা, সেটা রাজনৈতিক বা সামাজিক বা অর্থনৈতিক হোক। পরে এটি রাজনীতিবিদদের জন্য সাপে বর হয়ে ওঠে।

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন করোনাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন। পরে ফেসবুক তাদের করোনায় মানুষকে সচেতন করার ও ভ্যাকসিনের তথ্যগুলো তুলে ধরার ডাটা উপস্থাপন করলে বাইডেন কিছুটা নমনীয়তা দেখান।

 

ফেসবুকের আরেকটি দিক হচ্ছে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিশেষ করে ছোট ছোট বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞাপনদাতা ফেসবুক ছাড়া কল্পনা করতে পারে না। গত ২৮ জুলাই ফেসবুক তার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে এক জরিপের ফলাফলে। এতে দেখা যায়, ফেসবুকের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। এ অর্থবছরে শেয়ার ১০০ বিলিয়ন পার করবে বলেও আশাবাদী তারা। ফেসবুকের মূল আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন কৌশল। শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই আয় আসে ৯৮ শতাংশ। 

 

ডেবরা উইলিয়ামসন নামে একজন ই-মার্কেটার বলেন, বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে ডাটা, কল বাবদ দ্বিগুণ লাভ করে অন্যদের চেয়ে। প্রত্যেক ব্যবহারকারী বাবদ সে পায় ৮ ডলার, যা টুইটারের চেয়েও বেশি। তারা ব্যবহারকারীর প্রতিটি দিক চিহ্নিত করে যা অনলাইনে বিজ্ঞাপনের আওতায় আনা যায়। যদি তারা বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কিনে সেটিও।

 

গেমিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা বেড়েছে অনেক। ডিজিটাল মার্কেটে এবার ফেসবুক আরেকটি দিক স্বীকার করেন, এখন বাজারে যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট গুলো আছে তা তুলনামূলক বড়। 

 

ন পরে হয়ত এর থেকেও বেশ মজাদার কিছু ফিচার উপহার দিবে এই সোশ্যাল জায়েন্ট প্রতিষ্ঠানটি।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ