Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঘুমে নাকডাকা মানেই স্লিপ অ্যাপনিয়া নয়

ঘুমের সময় নাকডাকা মানেই স্লিপ অ্যাপনিয়া নয়। তবে নাক ডাকাটা স্লিপ এপনিয়ার কারণে হচ্ছে কিনা, সেটা পরীক্ষা করে দেখা আবশ্যক। কারণ, এই সতর্কতাই স্লিপ অ্যাপনিয়া দূর করতে পারে। আর যেহেতু স্লিপ অ্যাপনিয়া প্রাণ-সংশয় আনতে পারে, সেহেতু এ-ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি।  

স্লিপ অ্যাপনিয়া কী? 

‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ শুনে মনে হচ্ছে, এটা শুধু একটা ঘুমের রোগমাত্র৷  কিন্তু এ ধারণাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। ঘুমানোর সময় খুব বেশি নাকডাকা এ রোগের একটি প্রধান লক্ষণ বটে। কিন্তু অনেকেরই ঘুমানোর সময় নাকডাকার প্রবণতা আছে। তাই বলে নাকডাকা সবাই এই রোগের রোগী নয়। 

স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগীদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে বার বার৷ প্রচুর ক্লান্তি অনুভূত হয় সকালে। আর সারা দিনই এই ক্লান্তি ভাবটা থেকে যায়। এ কারণে অসময়ে ঘুমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। আর এ-সব কারণে নিজের কাজ করতেও অনেক সময় বিরক্ত লাগে মানুষের। 


কেন হয়? 

মূলত, ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা থেকেই এই রোগ শুরু হয়। আর এটা থেকেই হৃদরোগ ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মাত্রাতিরিক্ত ওজনও এই রোগের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। আর সেখান থেকেই সেটা মৃত্যুমুখী ব্যধির দিকে ধাবিত হয়। 


কিভাবে স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে সতর্ক থাকা যায়?  

স্লিপ অ্যাপনিয়ায় সচেতনতার প্রথম ধাপ হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যে, আসলেই কি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন কিনা উপর্যুপরি নাকডাকা মানুষটি। যদি ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে সেই মানুষটি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন।   

এ-ক্ষেত্রে  ‘সি-প্যাপ’ নামক যন্ত্রের মাধ্যমে এই রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।  দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময় কিংবা রাতে ঘুমানোর সময়  ‘সি-প্যাপ’ ব্যবহার করলে ঘুমের সময় রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। এতে করে এই রোগের লক্ষণগুলো কমে আসে, আর রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপনের গতিবেগ স্থিতিশীল হয়। চিকিৎসা যথাসময়ে না করলে, স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগীর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এমনকি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) ঝুঁকি বাড়াতে পারে। 

স্লিপ অ্যাপনিয়া এড়াতে কী করা উচিত? 

 জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে স্লিপ অ্যাপনিয়া  এড়ানো সম্ভব। 

-সুষম খাদ্যতালিকায় জীবনযাপন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। 

-কোনো লক্ষণ অনুভূত হওয়ার সাথে-সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব।  

-ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রতিদিন অল্প-অল্প করে ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস থাকলে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকে।