Skip to content

২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারীর জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে গণপরিবহণ

নারী হোক বা পুরুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে গণপরিবহণ সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কাজে প্রতিদিনই আমাদের গণপরিবহণে উঠতে হয়। কিন্তু এই গণপরিবহণ নারীদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে বয়সেরই হোক না কেন নারী হলেই গণপরিবহনে তাকে কটু কথা শুনতে হবেই।

 

গণপরিবহণে একজন নারীকে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়। চিমটি কাটা, গা ঘেঁষে দাঁড়ানো, চুল বা শরীরের কোন অংশ স্পর্শ, বিভিন্ন কথা শোনানো গণপরিবহনে নারীদের জন্য যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আবার বিপুল জনসংখ্যার এ দেশে বাসে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের কেউ প্রতিবাদ করলে পুনরায় হেনস্থার শিকার হতে হয় তাকে। প্রতিবাদী নারীকেই বিশেষভাবে টার্গেট করা হয় অনেক সময়। আবার ধর্ষণের ঘটনা তো আছেই। পরিবহন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান যাত্রী কল্যাণ সমিতি, মহিলা পরিষদ ও ব্র্যাকের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গত তিন বছরে গণপরিবহনে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। আবার বাসে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের ক্ষোভেও অনেক নারীকে হতে হচ্ছে ধর্ষণের শিকার।

 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গণপরিবহনে বিভিন্নভাবে ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, গত চার বছরে সারা দেশে বাসে ৫১ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই সময়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন কয়েক শ নারী। আর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক হিসাবে, ২০১৮-১৯ সালের ১৪ মাসে গণপরিবহনে অন্তত ৩২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে সামাজিক সম্মানহানির ভয়সহ হয়রানি এড়াতে অনেকেই অভিযোগ করেন না। তাই প্রকৃত ঘটনা আরো বেশি হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অ্যাকশনএইডের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪৯ শতাংশ নারী গণপরিবহনে এবং ৪৮ শতাংশ গণসেবা গ্রহণে অনিরাপদ বোধ করেন।

 

ঢাকার রাস্তায় বাসের জন্য নারীদের অপেক্ষা আর দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায় হরহামেশা৷ দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বাস পেলেও ভিড়ের কারণে ঠেলাঠেলিই তাঁদের নিত্যসঙ্গী৷ তার সঙ্গে যোগ হয় যৌন হয়রানি৷ এই অবস্থা যেন নারী জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। নারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যাচ্ছে সেসব উদ্যোগ৷ ঢাকা শহরের কর্মজীবী নারীদের জন্য কয়েক বছর আগে ‘মহিলা বাস সার্ভিস' চালু হলেও সেটা নারীদের জন্য তেমন সুফল বয়ে আনছে না৷ ১৫টি রুটে এমন ১৭টি বাস চলছে, যা পর্যাপ্ত নয়।  তাই বাধ্য হয়েই নারীদের সাধারণ গণপরিবহণে উঠতে হয়।

 

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের অপরাধ মোটেই কাম্য নয়। মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে পরে আর এ ধরনের অপরাধ করতে কেউ সাহস না পায়। গণপরিবহনে যৌন হয়রানি রোধে গণপরিবহনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) লাগানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি চালক-হেলপার ও বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশে নারী চলাচল নির্বিঘ্ন না হলে নারীরা কখনোই অগ্রসর হতে পারবেনা।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ