Skip to content

৮ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারীদের তৈরি সেই বিখ্যাত চিকন সেমাই

বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার হল চিকন সেমাই। বগুড়ার সেমাইপল্লির এই বিখ্যাত সেমাইয়ের কারিগর হলেন গ্রামের নারীরা। সেমাই পল্লি খ্যাত নিশ্চিন্তপুর, বেজোড়া, ঘাটপাড়া, শ্যামলা কাথিপাড়া, শ্যামবাড়িয়া, কালসিমাটি, রবিবাড়িয়াসহ প্রায় ১০টির অধিক গ্রামের রয়েছে এই সেমাই কারখানা। শতাধিক কারখানায় নারী কারিগরেরা দিনে-রাতে বিদ্যুৎ ও হস্তচালিত সেমাই কলে সেমাই তৈরি এবং তা রোদে শুকানো ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত থাকে। এই সেমাই তৈরির কাজে নিয়োজিত আছেন চার শতাধিক নারী। অনেক নারী এই কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

 

দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী ধরে এখানে তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের চিকন সেমাই। সকাল থেকেই চলতে থাকে এই সেমাই তৈরির কাজ। কেউ ময়দার খামির বানাতে শুরু করেন, কারও দায়িত্ব পড়ে বিদ্যুৎ বা হস্তচালিত সেমাইকলে খামির ঢালার, কেউবা কলে তৈরি সেমাই রোদে শুকাতে নিয়ে যান, কেউবা ভাজেন কড়াইয়ে। বর্ষাকাল ছাড়া বছরের ৯ মাস এখানকার কারখানায় সেমাই তৈরি হয়।

 

এই সেমাই কারখানাগুলো এলাকার নারীদেরকে অনেকভাবেই স্বনির্ভর করে তুলেছে। এমনি সারা বছর কারখানায় কাজ করে তারা প্রতি মাসে প্রায় ৭/৮ হাজারেরও বেশি টাকা আয় করে। আর ঈদের দুই মাস কাজ করে মৌসুমি কারিগরেরা আয় করেন গড়ে ২০ হাজার টাকা। 

 

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাস চারেক সেমাই উৎপাদনের মৌসুম। এই কয়  মাস কারখানায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়। ঈদের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রত্যেক কারখানায় গড়ে ২৫০-৩৫০ বস্তা ময়দার সেমাই তৈরি হতো। এর প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি ময়দা থাকে। শ্রমিকরা প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ময়দা দিয়ে সেমাই তৈরি করে পারিশ্রমিক পান ১০০ টাকা। ঈদের মৌসুমে কারিগরেরা প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করেন। ঈদকে সামনে রেখে এই কারখানায় রাত দিন তৈরি হয় লাচ্ছা আর চিকন সেমাই । আর এসব কারখানায় তৈরি ঘি আর ডালডায় ভাজা লাচ্ছা, সাথে চিকন সেমাই যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

 

কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মন্দা দেখা দিয়েছে এই সেমাইপল্লিতে। চাহিদা না থাকায় এবার সীমিত আকারে চলেছে সেমাই তৈরির কাজ। আবার অনেক নারীই হারিয়েছে কাজ। উৎপাদন কম হওয়ায় অর্ধেক শ্রমিককেই বেকার বসে থাকতে হয়েছে। আবার যারা কাজ করছেন তাদের আয় হয়ে এসেছে প্রায় অর্ধেক।

 

এই চিকন সেমাই বগুড়ার ঐতিহ্য। মহামারীর কারণে এই শিল্প আজ হুমকির মুখে। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে চিকন সেমাই শিল্প উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ