Skip to content

১৫ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তালাবদ্ধ সংসদ, তাঁবুতে শপথ নিলেন সামোয়ার নারী প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সামোয়া। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দেশটির শাসন ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন তুলেইপা সাইলেলে মালিয়েলেওই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রীদের তালিকায়  দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। এতো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাটি ঠিক মেনে নিতে পারেননি তিনি। 

শুধু কি ক্ষমতাচ্যুতি, সাথে একজন নারীর কাছে নির্বাচনী লড়াইয়ে হেরে যাওয়া। যা কিনা দেশটিতে একদমই নতুন ঘটনা। গত কয়েকমাস ধরে ছোট্ট এই দেশটিতে চলেছে নানান রাজনৈতিক নাটকীয়তা। সব নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে এই এপ্রিলে সামোয়ার নির্বাচনে মালিলেওইকে হারান বিরোধীদল ‘ফাস্ট’ পার্টির নেত্রী নাওমি। সেই সঙ্গে সামোয়া প্রথমবারের মতো পায় কোন নারী প্রধানমন্ত্রীকে। 

আর এদিকে নির্বাচনে হেরে গিয়েও হার মানতে নারাজ ২২ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী মালিলেওই। তাইতো সামোয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নাওমীর শপথ গ্রহণ আটকাতে সংসদ ভবনে তালা লাগিয়েছেন তিনি ও তার দলবল। সোমবার পার্লামেন্টে শপথ নেওয়ার কথা ছিল নাওমির। কিন্তু তিনি যখন প্রধান বিচারপতিকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্টে পৌঁছান তার  আগেই মালিলেওই ও তার দলবল ভবনের গেট তালাবদ্ধ করে দেন।

কিন্তু এই নারীও যে নাছোড়বান্দা।  তার দলের নির্বাচিত নেতাদের নিয়ে জড়ো হন পার্লামেন্ট গার্ডেনের একটি তাঁবুতে। আবারও এক নতুন ইতিহাস তৈরি করে সেই তাঁবুতেই শপথ গ্রহণ করেন তিনি। তার শপথ গ্রহণের পর একে একে নির্বাচিত অন্য সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। 

সংসদ তালাবদ্ধ করেও নাওমীকে শপথ গ্রহণ থেকে আটকাতে না পেরে এবার মালিলেওই গাইলেন অন্য সুর। এবার সেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ‘অবৈধ এবং বেআইনি’ বলে অভিহিত করলেন তিনি। এতোসব রাজনৈতিক নাটকীয়তার কারণে নাওমি এভাবে শপথ নিলেও সামোয়ার শাসনভার কার হাতে থাকবে তা নিয়ে বেশ অনেকটা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বর্তমান এই নারী প্রধানমন্ত্রীর পুরো নাম ফিমে নাওমি মাতা’আফা। একজন যোগ্য নেত্রী হিসেবে সোমায়ায় বেশ নামডাক রয়েছে তার।  তার আরো একটি পরিচয় হল, তিনি সোমায়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে। দীর্ঘদিন  মানুষের জন্য কাজ করেছেন নাওমী। চলতি বছর জানুয়ারিতেই ফাতুয়াতুয়া ই লে আতুয়া সামোয়া উয়া তাসি (ফাস্ট) দলটিতে যোগ দেন তিনি। এই দলটি অবশ্য দীর্ঘদিনের শাসক দল ‘হিউম্যান রাইটস প্রটেকশন পার্টি’ (এইচআরপিপি) এর সদস্যদেরই গড়া। 

গতবছর এইচআরপিপি দলটিতে ভাঙন ধরার পর দলটির কিছু সদস্যরা বেরিয়ে 'ফাস্ট' নামক একটি দল গঠন করে। এরপর ১৯৮০’র দশক   থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় নাওমীর মতো একজন নেত্রী দলটিতে যোগদানের পর খুব দ্রুতই এগিয়ে যায় দলটি। আর জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে অল্প সময়ের মধ্যেই৷ এরপর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করে সোমায়ার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। 

সোমায়া দেশটি আয়তনে এবং জনসংখ্যায় বেশ অনেকটাই ছোট। এতো নাটকীয়তার পরও মাত্র ২ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে টানা ২২ বছর পর সরকার পরিবর্তনকে গণতন্ত্রের জন্য  ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বিশেষজ্ঞরা। আর এই নারী প্রধানমন্ত্রীর এমন দৃঢ়চেতা মনোভাব প্রশংসা কুড়োচ্ছে বিশ্বজুড়ে।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ