Skip to content

২১শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাতৃমৃত্যুমুক্ত গাজীপুরের কাপাসিয়া

মাতৃমৃত্যু শূন্য কোটায় এনে সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা। গত তিন বছরে মাতৃমৃত্যু শূন্যে নেমে এসেছে কাপাসিয়ায়। মাতৃমৃত্যু কমাতে কাপাসিয়া মডেল বাস্তবায়নে গর্ভবতী মায়েদের ঝুঁকি, বয়সসহ ২৭ ধরনের তথ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে তথ্যভাণ্ডার (ডেটাবেইস সফটওয়্যার), যা ‘গর্ভবতীর আয়না’ নামে পরিচিত। এর পাশাপাশি আছে ‘গর্ভবতীর গয়না’ নামের একটি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা। ‘গর্ভবতীর আয়না’ ও ‘গর্ভবতীর গয়না’র সমন্বয়ে চলছে মাতৃমৃত্যুমুক্ত এই কার্যক্রম।

 

মাতৃমৃত্যু কমাতে কাপাসিয়া মডেলকে আদর্শ ধরে ১০০টি উপজেলায় তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশ্বমঞ্চেও গুরুত্ব পাচ্ছে এই মডেল। জনসংখ্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সর্বোত্তম অনুশীলন (বেস্ট প্র্যাকটিস) হিসেবে এই মডেল জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) মাধ্যমে বিশ্বের ২৭টি দেশে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

 

মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া গড়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালানো হয়। তাদের তথ্যমতে, এই কার্যক্রম শুরুর আগের বছর ২০১৭ সালে কাপাসিয়ায় ৮ জন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়েছিল। ওই বছর গর্ভবতী মা ছিলেন ৬ হাজার ৭০০। কর্মসূচি চালুর বছর ২০১৮ সালে মাতৃমৃত্যু নেমে আসে ৪ জনে। ওই বছর গর্ভবতী ছিলেন ৬ হাজার ৩০০ জন। ২০১৯ সালে একজন গর্ভবতী মা মারা যান। সে বছর গর্ভবতী মা ছিলেন ৬ হাজার ৩৫০ জন। আর ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়নি। গত বছর গর্ভবতী ছিলেন সাড়ে ৬ হাজার।

 

‘গর্ভবতীর আয়না’ –য় কাপাসিয়ার নারীদের তথ্য দেয়া আছে। তাতে দেখা যায়, বর্তমানে কাপাসিয়া উপজেলায় ১ হাজার ১৬৯ জন গর্ভবতী নারী রয়েছেন। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩৬ জন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ২২৭ জন প্রসূতিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নির্ধারণ করে। ২০ বছরের নিচে, ৩৫ বছরের ওপরে, ৪ ফুট ১০ ইঞ্চির কম উচ্চতা, প্রথম গর্ভধারণ এবং চতুর্থ গর্ভধারণ, নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ ইত্যাদি মানদণ্ডের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ প্রসূতিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

 

 

কাপাসিয়া মডেল

 

গর্ভধারণের সময় থেকে শুরু করে সন্তান প্রসবের ৪২ দিন পর্যন্ত অন্য কোন দুর্ঘটনা ছাড়া কোনো নারীর মৃত্যুকে মাতৃমৃত্যু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ২০১৭ সালে প্রকাশিত জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর হার লাখে ১৯৬। অর্থাৎ ১ লাখ জীবিত শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। তবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মতে, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার ১৭৬।

 

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু হার ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। মাতৃমৃত্যুর প্রধান দুটি কারণ প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি। যদিও কমপক্ষে চারবার প্রসব পূর্ব চেকআপ, সন্তান প্রসবের সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ধাই (স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্ট বা মিডওয়াইফারি) দ্বারা সন্তান প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে সঠিক পরিচর্যা মাতৃমৃত্যু রোধ করতে পারে। মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া মডেলে মূলত এই বিষয়গুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) অর্থায়নে মাতৃমৃত্যু কমাতে জনসংখ্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জনসংখ্যা বেশি এমন ২৭টি দেশের মোর্চা পার্টনার্স ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি)। পিপিডির পরামর্শক শাহরিয়ার নাফিস বলেন, কাপাসিয়া মডেলকে বেস্ট প্র্যাকটিস হিসেবে নথিভুক্ত (ডকুমেন্টেড) করা হয়েছে। এটি পিপিডির ওয়েবসাইটে এবং আলাদা বই আকারে প্রকাশ করা হবে। অন্য সদস্য দেশগুলো যেন মডেলটি গ্রহণ করে সে বিষয়ে পিপিডি জোরালো সুপারিশ করবে।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ