Skip to content

২০শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনার ভ্যারিয়েন্টের ঝুঁকি কমাবে যেসব খাবার

করোনার এই ঝড় সামলাতে সচেতন হওয়ার বিকল্প কোন উপায় এখনো নেই। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার করোনাভাইরাসের ধরনটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি তুলনামূলক বেশি সংক্রমিত হয়। দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে; একইসঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। 

 

তাই এই কঠিন পরিস্থিতিতে সচেতনতাই একমাত্র উপায়। এবং সেই সাথে  শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা জরুরি।  যেসব খাবারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে সেসব খাবার পর্যাপ্ত গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা৷ 

চলুন তবে জেনে নি কিছু খাবার সম্পর্কে যা দক্ষিণ আফ্রিকার মত করোনার এই অতি সক্রিয় ধরণটির বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে: 

 

 

জিংক সমৃদ্ধ খাবার
জিংক সংক্রমণ দমনকারী কোষকে সাহায্য করে এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। 
তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় জিংক সমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে জিংকের কিছু উৎস হল- গরুর মাংস, কাজু বাদাম, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, মসুর ডাল, ছোলা, মিষ্টি কুমড়ার বীজ ও ডিম। 

 

ভিটামিন ‘এ’
খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবারও অন্তর্ভুক্ত করুন। গবেষণা বলছে, ভিটামিন ‘এ’ ও জিংকের সমন্বয়ে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ হতে পারে অথবা মারাত্মক পরিণতির ঝুঁকি কমতে পারে। বিশেষ করে ফ্লু সংক্রমণের ক্ষেত্রে এরকম কার্যকারিতা লক্ষ্য করা গেছে। মিষ্টি আলু, গাজর, গাঢ় সবুজ শাকসবজি, লাল ক্যাপসিকামে পর্যাপ্ত  ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায় । 

 

ভিটামিন ‘সি’
করোনাকালের প্রথম দিক থেকেই বিশেষজ্ঞরা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভালো ইমিউন রেসপন্সের জন্য ভিটামিন ‘সি’ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ভাইরাস সংক্রমণের পর এর গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে যে ভিটামিন ‘সি’ ও প্রোবায়োটিক (উপকারী ব্যাকটেরিয়া) ভাইরাস সংক্রমণের পর সুস্থ হতে সাহায্য করে। তবে ভিটামিন ‘সি’ বলতে কেবল লেবু ও কমলাই নয়, বরং কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকাম, আম, পেয়ারা, লিচু, পেঁপে ও স্ট্রবেরিতেও ভালো পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। তাই খাবার তালিকায় ভিটামিন সি ও রাখুন। 

 

ভিটামিন ‘ডি’
করোনাভাইরাসের নতুন-পুরনো ধরন থেকে সুরক্ষা পেতে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘ডি’ রাখতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে প্রয়োজনীয় মাত্রায় ভিটামিন ‘ডি’ ছিল তাদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের হার কম। এ জন্য সমুদ্রের তৈলাক্ত মাছ, কলিজা, ডিমের কুসুম, পনির ও ভিটামিন ডি ফর্টিফায়েড খাবার খেতে পারেন। এক্ষেত্রে  ভিটামিন ডি এর চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট রোদও পোহাতে পারেন।

 

গ্রিন টি
দিনে ৩-৫ কাপ গ্রিন টি পান করুন। এই পানীয়তে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের পাশাপাশি এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ভাইরাসের সংক্রমণ দুর্বল করতে পারে অথবা ভাইরাসের প্রতিলিপি কমাতে পারে।

 

উপকারী ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিক)
অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিক) প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সাহায্য করে ও সংক্রমণের নিরাময়কে সহজ করে।’ 

ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ অথবা এ রকম অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে আমরা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের কথা ভাবি না বললেই চলে। কিন্তু ইমিউন সিস্টেমের ৭০ শতাংশ অন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে শরীরের সার্বিক সুস্থতার জন্য অন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকেও গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে ঘরে দই বানিয়ে খেতে পারেন। দইয়ে প্রচুর উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ