Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে অনিন্দিত নারী

বাংলাদেশের সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সম্ভাবনা’ এর অনিন্দিত নারী প্রকল্প সুবিধাবঞ্চিত ও করোনায় কাজ হারানো নারীদের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে । নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংগঠনটি।

 

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে অনেক নারীকেই হতে হয়েছে কর্মহারা। সম্মুখীন হতে হয়েছে আর্থিক সমস্যার। আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে ও ব্যবসায় মূলধন হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছে মানুষ। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। খাদ্য সহায়তা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারলেও এসব পরিবারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারছেনা। সুবিধাবঞ্চিত ও করোনায় কর্মহারানো নারীদের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিশুদের নিশ্চিত ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে সম্ভাবনার ‘অনিন্দিত নারী’ প্রকল্প। এই সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় নারীদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি।

 

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে তিন শতাধিক নারীকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ প্রদান করার পাশাপাশি ‘আমার ঘর, আমার কারখানা’ কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের নিজের ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে সংগঠনটি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সকল নারীদের মাধ্যমে একটি কর্মী কমিউনিটি গড়ে দেশীয় পণ্যের শক্ত ভীত গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সম্ভাবনা। যার মাধ্যমে দুর্যোগকালীন এই সময়ে পরিবারকে নিয়ে নিরাপদে নিজের ঘরে বসেই কাজ করবে কর্মীরা, একই সঙ্গে হবে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সম্ভাবনা দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করেছে ঢাকার মিরপুরে ও পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার ভবানীপুরে। দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ বছরে দুই শতাধিক নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

 

এ প্রসঙ্গে সম্ভাবনার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অনিন্দিত নারী প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের হত দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা। আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমাদের দেশে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব।’

 

আশা করা যায়, দেশের কর্মহারা নারীদের আবার স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। নারীরা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আবার নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করতে পারবে এবং আর্থিক অভাব মেটাতে সক্ষম হবে।